বুধবার ২১ অক্টোবর ২০২০

৫ কার্তিক ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রিন্ট সংস্করণ

সেপ্টেম্বর ২২,২০২০, ১২:৫৭

সেপ্টেম্বর ২২,২০২০, ১২:৫৭

চ্যালেঞ্জের বিপরীতে সফল বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ

প্রাকৃতিকভাবে বিচ্ছিন্ন দেশের দুই অংশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভারসাম্য এবং নিবিড় যোগাযোগের লক্ষ্যে যমুনা নদীর ওপর যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষের সৃষ্টি। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ যমুনা বহুমুখী সেতু প্রকল্প সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সরকার সেতু কর্তৃপক্ষের কর্মপরিধিসহ প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতাও বৃদ্ধি করে। ২০০৯ সালে যমুনা বহুমুখী সেতু কর্তৃপক্ষের নামকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ’।

এরপর থেকেই বঙ্গবন্ধু সেতু পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বসহ দেড় কিলোমিটার ও তদূর্ধ্ব দৈর্ঘ্যের সকল প্রকার সেতু, টোল, অ্যাপ্রোচ রোড-সড়ক নির্মাণ ও পরিচালনাসহ রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিরবচ্ছিন্নভাবে পালন করে যাচ্ছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

২০১৬ সালে নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, কজওয়ে, টানেল, নদীশাসন কার্যক্রম, ফ্লাইওভার, রিং রোড ইত্যাদি নির্মাণকাজের দায়িত্বও পূর্ববর্তী দায়িত্বের সাথে পালন করছে এ সংস্থাটি।

দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কৌশলগত উদ্দেশ্য নিয়ে এগিয়ে চলা ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ’ বিশেষ ভূমিকা রাখছে সরকারের রাজস্ব খাতেও। চলতি অর্থবছরেও সরকারি কোষাগারে ৪৩৮.৬২ কোটি টাকা জমা দেয়ার আশা করছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
    
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বেশ কিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে ঢাকা ইস্ট-ওয়েস্ট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ, ভুলতা-আড়াইহাজার-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর সড়কে মেঘনা নদীর ওপর সেতু নির্মাণ, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে চারটি সেতু নির্মাণ এবং বঙ্গবন্ধু সেতুর উভয় প্রান্তের সংযোগ সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ অন্যতম।

এছাড়া যমুনা নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা, বৃহত্তর বরিশাল জেলায় কিছু নতুন সেতু নির্মাণ, মুক্তারপুর সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য বিআরটিসি-বুয়েট কর্তৃক সম্ভাব্যতা সমীক্ষার কাজও চলমান রয়েছে। যদিও সেতু কর্তৃপক্ষের সার্বিক কার্যক্রমে রয়েছে বেশ কিছু সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ।

এসব সমস্যা ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে— পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্প এলাকায় নদীভাঙন, খননকৃত মাটি অপসারণ, নদীর গভীরে অতিঘন চিকন বালুতে পাইল ড্রাইভিং। বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় গাইড বাঁধ ও হার্ড পয়েন্ট এলাকায় নদীভাঙনও অন্যতম চ্যালেঞ্জ। ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ ও স্থাপনা অপসারণ, ঢাকা-আশুলিয়া এবং বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজ চলাকালে যানবাহন ব্যবস্থাপনাও সমস্যা বা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
 
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সেতু কর্তৃপক্ষের সার্বিক কার্যক্রম চলছিল স্বাভাবিক গতিতে। এর মধ্যেই চলতি বছরের মার্চে দেশে মহামারি রূপে আবির্ভূত হয় করোনা ভাইরাস।

যার প্রভাব পড়েছে প্রতিটি সেক্টরেই। সেতু কর্তৃপক্ষের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও প্রভাব কিছুটা ফেলে। তবুও করোনাসহ সকল চ্যালেঞ্জের বিপরীতেই সফলতার সঙ্গে এগিয়ে চলছে ‘বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ’।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস আমার সংবাদকে বলেন, ‘করোনার প্রভাব কিছুটা পড়েছে, যে কারণে কাজের গতিও কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা করছি করোনার মধ্যেও কাজ অব্যাহত রাখতে।

করোনাকালে পদ্মা সেতু, কর্নফুলী টানেল, ঢাকা এলিভেটেড মানে— নির্মাণকাজ যেগুলো ঢাকার বাইরে সেগুলো কিছুটা চললেও ঢাকার মধ্যে একটু সমস্যা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা যায়নি। এখনো সতর্কতার সাথে চলতে হচ্ছে সবাইকে। আমরা একটু বাড়তি সময় কাজ করছি। কনসালটেন্টদের আসার জন্য বলছি, যেহেতু তারা বিদেশি।

এ সময়টা কাটিয়ে ওঠা কঠিন। কারণ নিজের যেটা ব্যক্তিগত কাজ সেটাতে যেভাবে জোর গতিতে কাজ করা সম্ভব; অন্যদের সাথে সংশ্লিষ্ট কাজে সেটা সম্ভব নয়। তারা সময়ের সাথে যেতে চায়।’

রাজস্বের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমাদের রাজস্ব আসে মূলত টোল থেকে। বঙ্গবন্ধু সেতুর টোল দুই-তিন মাস একটু কম ছিলো। সেগুলো আবার যানবাহন চলাচল শুরু হওয়ায় আগের মতোই চলছে।’

বিগত তিন বছরে সেতু কর্তৃপক্ষের অর্জন
পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের উল্লেযোগ্য পাঁচটি প্যাকেজের মধ্যে তিনটি— মাওয়া সংযোগ সড়ক, জাজিরা সংযোগ সড়ক ও সার্ভিস এরিয়া- ২ এর কাজ শতভাগ সম্পন্ন করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ।

মূল সেতুর ভৌত অগ্রগতি ৮৬ শতাংশ, নদী শাসন কাজের ক্রমপুঞ্জিত ভৌত অগ্রগতি ৬৮ শতাংশ। পদ্মা সেতুর নির্মাণ প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৭৭ শতাংশ। কর্নফুলী নদীর তলদেশে ৩.৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ টানেলের বাস্তবায়ন কাজ চলমান।

প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ৫০ শতাংশ। ঢাকা শহরের যানজট নিরসনে ৮,৯৪০.১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে র্যাম্পসহ ৪৬.৭৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এ পর্যন্ত এক হাজার ৩৩৩টি ওয়ার্কি ফাইল ড্রাইভিং, ৩১৩টি পাইল ক্যাপ, ১০৯টি ক্রস ভিম, ২১৫টি কলাম (সম্পূর্ণ) ও ৮৩টি কলাম (আংশিক) এবং ১৮৬টি আই গার্ডার কাস্টিং সম্পন্ন। মোট ১৪৭টি আই গার্ডার স্থাপন করা হয়েছে। প্রকল্পের সার্বিক ভৌত অগ্রগতি ১৮ শতাংশ।

২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে ১৬,৯০১.৩২ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পের অনুমোদন এবং চীন সরকারের মনোনীত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর।

প্রকল্পের খরচ  কি.মি অনুমোন এবং ১২-১৪ কিলোমিটার ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে ডিসি অফিসে প্রেরণ, জঅচ প্রণয়নের কাজও চলমান রয়েছে। এছাড়াও ডিজাইন রিভিউ ও সুপারভিশন কন্ট্রাক্ট নিয়োগের জন্য পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ঞণচঝঅ সাথে গত বছরের জুলাইয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করে।

গাজীপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার বাস র্যাপিড ট্রানজিটের মধ্যে ৪.৫ কিলোমিটার এলিভেটেড অংশ নির্মাণের কাজও চলছে। প্রকল্পের মোট অগ্রগতি (বিবিএ অংশ) ২৫.২৫ শতাংশ।

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর থেকে কেরানীগঞ্জ-ফতুল্লা-বন্দর হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্দ পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন। ঢাকা শহরে সাবওয়ে নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনার জন্য ২২৪.৩১ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে প্রকল্পের সমীক্ষা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সমীক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি ৪৭ শতাংশ।

বাজেট পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধু সেতুতে (যমুনা) কার ও হালকা যান, ছোট বাস, বড় বাস, ছোট ট্রাক, মাঝারি ট্রাক, বড় ট্রাক, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন প্রকার যানবাহন থেকে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ টোল আদায় করে থাকে। সেতুর ওপর নির্মিত রেলপথে চলাচলের ফলে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ বাৎসরিক নির্ধারিত হারে রেল ট্যারিফ পেয়ে থাকে।

সেতুর ওপর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন থেকে গ্যাস লাইন ও বিদ্যুৎ লাইন ট্যারিফ এবং বঙ্গবন্ধু সেতু সংলগ্ন রিসোর্ট ও অন্যান্য স্থাপনা লিজ/ভাড়া প্রদান করে রাজস্ব পেয়ে থাকে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত বাজেট ও ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রাক্কলিত বাজেটে যথাক্রমে ৬১,৪৮,২৭৬টি ও ৬৪,৫৫৬৮৯টি যানবাহন পারাপার হবে বলে হিসাব করা হয়েছে।

এ সকল যানবাহন থেকে টোল আদায়, রেল ট্যারিফ, গ্যাস, ও বিদ্যুৎ ট্যারিফ এবং সেতু সংলগ্ন রিসোর্ট ও অন্যান্য স্থাপনা লিজ/ভাড়া থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত ও ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রাক্কলিত বাজেটে যথাক্রমে ৫৯৬.০৯ কোটি ও ৬২৪.৬৭ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হবে বলেও আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

অপরদিকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত ও ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রাক্কলিত বাজেটে বঙ্গবন্ধু সেতুর ম্যানেজমেন্ট ফি এবং টোল মওকুফসহ মোট পরিচালন ব্যয় যথাক্রমে ২৭.৬৫ কোটি ও ৩৬.৭০ কোটি টাকা হবে বলেও হিসাব করছে কর্তৃপক্ষ।

ফলে ২০১৯-২০ সংশোধিত বাজেটে ও ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রাক্কলিত বাজেটে যথাক্রমে ৫৬৮.৪৪ কোটি ও ৫৮৭.৯৭ কোটি টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জনের আশা করা হচ্ছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পরিচালন মুনাফার পরিমাণ ছিলো ৫৫৬.১৬ কোটি টাকা।

পদ্মা সেতু : দেশের দক্ষিণ অঞ্চলের অবহেলিত যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকার পদ্মা নদীর উত্তর প্রান্তে মুন্সীগঞ্জের মাওয়া এলাকার সাথে পদ্মা নদীর দক্ষিণ প্রান্তে মাদারীপুরের মাঝিঘাট ও শরিয়তপুরের জাজিরা এলাকার মধ্য দিয়ে পদ্মা নদীর উপরে দেশের বৃহত্তম পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

যার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতিও হয়েছে এবং আগামী বছরের মধ্যে সমাপ্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণকাজ সমাপ্ত হওয়ার পর সেতুর আয়-ব্যয় বাজেট প্রদর্শন করা হবে।

মোক্তারপুর সেতু : নারায়ণগঞ্জের সাথে মুন্সিগঞ্জের সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ধলেশ্বরী নদীর ওপর দিয়ে বিগত ২০০৪-০৫ অর্থবছরে প্রায় ১৫০০ মিটার দৈর্ঘ্য মোক্তারপুর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ২০০৮ সালে জানুয়ারিতে নির্মাণকাজ সমাপ্ত হওয়ার পরের মাসইে যানবাহন চলাচলের জন্য তা উন্মুক্ত করা হয়।

বিগত বছরেগুলোতে লিজ দেয়ার মাধ্যমেই এই সেতুর কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছিল। ২০১৮-১৯ অর্থবছর থেকে লিজের পরিবর্তে সেতু কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় টোল আদায়ের কাজ সম্পন্ন করেছে।

২০১৯-২০ অর্থবছরে সংশোধিত ও ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রাক্কলিত বাজেটে টোল আদায় বাবদ যথাক্রমে ১৯.৪৭ ও ১৯.৫৭ কোটি টাকা করে রাজস্ব আদায় হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের টোল আদায় বাবদ আয় হয়েছিল ১৭.৯৬ কোটি টাকা।

সকল সেতু : ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ও ২০২০-২১ অর্থবছরেরর প্রাক্কলিত বাজেটে সকল সেতু একত্রে যথাক্রমে ৬১৫.৫৬ ও ৬৪৪.২৩ কোটি টাকা করে পরিচালন রাজস্ব আয় করবে বলে আশা করা হচ্ছে। অপরদিকে উল্লিখিত সময়ে মোট পরিচালন ব্যয়ের পরিমাণ যথাক্রমে ৭৮.৭৮ ও ১০৩.৭০ কোটি টাকা হবে বলে হিসাব ধরা হয়েছে।

ফলে উল্লিখিত সময়ে পরিচালন মুনাফার পরিমাণ যথাক্রমে ৫৩৬.৭৮ ও ৫৪০.৫৩ কোটি টাকা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পরিচালন মুনাফার পরিমাণ ছিলো ৫৪৬.৫২ কোটি টাকা।

মূলধন কাঠামোতে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট সম্পদের পরিমাণ ছিলো ৪৪১৭.১৬ কোটি টাকা, যার ২৭ শতাংশ ঋণ ও ৭৩ শতাংশ মূলধন দ্বারা যোগান হয়।

২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত ও ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রাক্কলিত বাজেটে সংস্থার মোট সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যথাক্রমে ৪৫৭০.৬৯ ও ৪৭০৭.৩৭ কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলে হিসাব করা হয়েছে এবং ঋণ ও মূলধন অনুপাত যথাক্রমে ২১:৭৯ ও ১৫:৮৫।  

সরকারি কোষাগারে দেয় : বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ আমদানি শুল্ক, আমদানির ওপর বিক্রয় কর, ভ্যাট, সরকারি ঋণ, আয়কর, সরকারি কোষাগারে প্রদেয় অবদান/লভ্যাংশ, লাইসেন্স ফি, উন্নয়ন ফি ও অন্যান্য খাতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট ও ২০২০-২১ অর্থবছরের প্রাক্কলিত বাজেটে যথাক্রমে ৪৩২.২৩ ও ৪৩৮.৬২ কোটি টাকা করে সরকারি কোষাগারে জমা দেবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

উল্লিখিত সময়ে সরকারি কোষাগারে প্রদেয় অবদান/লভ্যাংশ হিসাবে কর্তৃপক্ষ উভয় বাজেটে ১৫.০০ কোটি টাকা করে পরিশোধ করবে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে সরকারি কোষাগারে প্রদেয় অবদান/লভ্যাংশসহ সরকারি কোষাগারে কর্তৃপক্ষের মোট জমার পরিমাণ ছিলো ৪১৯.৫৭ কোটি টাকা।

আমারসংবাদ/এআই