আমার সংবাদকে নানক

সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় প্রস্তুত আ.লীগ

প্রিন্ট সংস্করণ॥রফিকুল ইসলাম  |  ১৪:১৬, জুলাই ০৯, ২০১৯

আওয়ামী লীগের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপির নেতৃত্বধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ফ্রন্ট নেতারা ক্ষমতাসীন দলটির প্রধান প্রতিপক্ষ হলেও রাজনীতির মাঠে অনেকটাই নীরব ভূমিকা পালন করছেন।

তবে তারা নীরব ভূমিকা পালন করলেও যেকোনো সময় দেশ এবং দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নীরব ভূমিকা মানে এই নয় যে, তাদের স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি শেষ হয়ে গেছে।

তারা যেকোনো সময় দেশের মানুষের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাদের সেই অপশক্তিকে মোকাবিলা করার জন্য আ.লীগের সব নেতাকর্মী প্রস্তুত আছে।

গত রোববার আমার সংবাদের সাথে একান্ত আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের নেতারা নীরব থাকলেও আমরা তাদের গতিবিধির দিকে নজর রাখছি। তারা কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র করলে ছাড় দেয়া হবে না।

তৃণমূলের কমিটিতে স্বাধীনতাবিরোধীদের ঠেকানো কতটুকু চ্যালেঞ্জ হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযোদ্ধাবিরোধী শক্তিগুলোকে আ.লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সব নেতাকর্মীই ঘৃণা করে।

আ.লীগ একটি আদর্শিক এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। সেই দলে কোনো ভিন্নপন্থি নেতার স্থান হবে না।

তিনি বলেন, আ.লীগকে দেশের মানুষ ভালোবাসে বলেই টানা তৃতীয় মেয়াদে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চারবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। ভিন্নপন্থি শক্তিগুলোকে নির্মূল করাই এবার আ.লীগের প্রধান লক্ষ্য।

তার জন্য তৃণমূলের সব নেতাকর্মীই প্রস্তুত আছেন। এটা আমাদের দায়িত্ব কিন্তু কোনো চ্যালেঞ্জ নয়।

আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, আগামী অক্টোবরেই আমাদের দলের জাতীয় সম্মেলন হবে।

সে সম্মেলনকে সামনে রেখে আমরা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নতুন করে করার পাশাপাশি নতুন সদস্য সংগ্রহ নবায়ন কাজ চলছে।

এবার এই দুটি কাজের মাধ্যমে স্বাধীনতাবিরোধী চেতনাকে চিহ্নিত করা হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাচনে আ.লীগের নৌকা প্রতীকের বিরোধিতাকারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে দাবি করে আ.লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতীয় সম্মেলনকে সামনে রেখে তৃণমূলে আমরা সাংগঠনিক সফর শুরু করেছি।

সেখানো আমরা দেখেছি একটি নৌকাবিরোধী চক্র কাজ করছে এবং ত্যাগী ও পরিশ্রমী কর্মীকে দল থেকে বের করে দেয়ার জন্য কাজ করছে।

ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে আমরা সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় আলোচনা করেছি। এসব নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি বলেন, যে নৌকা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নৌকা, যে নৌকা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তির নৌকা, সে নৌকার বিরোধিতা করে কোনো নেতা পার পাবে না। নৌকার বিরোধিতা করার জন্য তাদের সবার সাজা ভোগ করতে হবে।

শুধু এসব নৌকাবিরোধী নেতারাই নন, নৌকা বিরোধিতার জন্য যদি কোনো মন্ত্রী-এমপির মদদ থাকে তাহলে সেই মন্ত্রী-এমপিদেরও চিহ্নিত করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য আ.লীগ কাজ করে যাচ্ছে।

কেন্দ্রীয় এবং তৃণমূলে নারী নেতৃত্বকে আ.লীগ কীভাবে দেখছে জানতে চাইলে নানক বলেন, বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী।

সেসব দিক বিবেচনায় রেখেই আ.লীগের রাজনীতিতে নারীদের সম্পৃক্ত করে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা হবে। এই বিষয়গুলো আ.লীগ বিশেষ বিবেচনায় রেখেছে।