শিরোনাম

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংককে এনজিও বানানোর পাঁয়তারা

প্রিন্ট সংস্করণ॥নুর মোহাম্মদ মিঠু   |  ০৬:৫৬, জুলাই ০৯, ২০১৯

নিজস্ব পুঁজি ব্যবস্থাপনায় প্রান্তিক পর্যায়ে স্থানীয় প্রাকৃতিক ও মানবসম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকায়ন নিশ্চিত করে দারিদ্র্য নিরসন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের বাস্তবায়ন আমার বাড়ি আমার খামার (একটি বাড়ি একটি খামার) প্রকল্পের ‘ক্ষুদ্র সঞ্চয় মডেল’ দেশব্যাপী প্রশংসিত।

এ প্রকল্পের যাবতীয় কার্যক্রম (আর্থিকসহ) বাড়তে থাকায় পরিচালনার জন্য বিগত তিন বছর (২০১৬ সাল) আগে প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি ব্যাংকও গঠনের নির্দেশ দেন।

যা পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক নামেই পরিচিত। তৎকালীন সময়ে ওই প্রকল্পের জনবলসহ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি এ ব্যাংকের অধীনে পরিচালিত হওয়ার সিদ্ধান্তও হয়েছিল।

এছাড়া ব্যাংক ও তার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেয়ার বিধানও রয়েছে।

অথচ ব্যাংকের চেয়ারম্যান মিহির কান্তি মজুমদার ও প্রকল্পের পরিচালক আকবর হোসেনের অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতায় তিন বছরেও প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ হয়নি।

বরং এ প্রক্রিয়ার যথাযথ বাস্তবায়নে কর্তাব্যক্তিদের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কারণেই নিজেদের অনিশ্চিত ভাগ্য নিশ্চিতের জন্যই রাজপথে নেমেছেন সংকটমুখী অসহায় প্রায় আট হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী।

যাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিভ্রান্তিমূলক তথ্য ও অপপ্রচার করছে দাবি করে গণবিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে।

অথচ প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কর্তৃপক্ষের মধ্যে এমন টানাপড়েনে পুরো প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েই উল্টো দেশজুড়ে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষকে সৃষ্ট এই জঠিলতার সমাধানেও উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না এখনো।

সব মিলিয়ে আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ কামনা করেন, যাতে পুরো প্রকল্পটির ভাবমূর্তি নষ্ট হওয়ার আগেই সৃষ্ট জটিলতার সমাধান করা হয়।

অথচ পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান মিহির কান্তি চৌধুরী বলছেন, কী সমাধান করব, তাদের সব দাবিই পূরণ করা হয়েছে। তাদের দাবি অযৌক্তিক।

আন্দোলরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ, চেয়ারম্যান মিহির কান্তি মজুমদারের নির্দেশেই প্রকল্প পরিচালক আকবর হোসেনসহ কতিপয় কর্তাব্যক্তির অনিয়ম-স্বেচ্ছাচারিতা আর দুর্নীতিপরায়ণ মানসিকতার কারণে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব প্রকল্প বেহাল হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিধি-বিধান ও নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রকল্পের পরিচালক মনগড়া নিয়মে নিয়োগ বাণিজ্যসহ যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তাদের এহেন ভূমিকায় দীর্ঘদিন ধরেই প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতাহীন মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

তারা জানান, শুধু তাই নয়; চেয়ারম্যানের নির্দেশেই প্রকল্প পরিচালক ও ব্যাংকের এমডি আকবর হোসেন টার্গেট পূরণের মাধ্যমেই আমাদেরকে দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।

টার্গেট পূরণ করতে না পারলে বেতন কেটে রাখছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা। তারা বলছেন, মিহির কান্তি মজুমদার উদ্দীপন নামক একটি এনজিওর-ও চেয়ারম্যান।

তিনি সেখান থেকে লোকবল এনে উপ-আঞ্চলিক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছেন পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে। অথচ যেখানে প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ দেয়ার কথা রয়েছে।

কিন্তু তা না করেই উদ্দীপন, গ্রামীণ ব্যাংক, প্রশিকাসহ বেশ’কটি এনজিও থেকে প্রায় ৩২ জনকে নিয়োগ দিয়েছেন ইতোমধ্যে। মোট কথা, চেয়ারম্যান মিহির কান্তি মজুমদার ব্যাংকসহ পুরো প্রকল্পটিকে এনজিও বানানোর পাঁয়তারা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

এর প্রেক্ষিতে জানতে চাইলে মিহির কান্তি মজুমদার আমার সংবাদকে বলেন, এনজিও থেকে নিয়োগ দেয়া ৩২ জন স্থায়ী নয়। তাদেরকে জরুরি প্রয়োজনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, টার্গেট দিয়ে কাজ করানোর কোনো সুযোগ আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, টার্গেট পূরণ না হলে বেতন কেটে রেখে দিচ্ছি আলাদা, যখন টার্গেট পূরণ হবে, তখন দিয়ে দেয়া হবে।

রাজধানীর ইস্কাটনে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে গতকাল মঙ্গলবার সারাদেশ থেকে আগত উপজেলা সমন্বয়কারী, ফিল্ড সুপারভাইজার, কম্পিউটার অপারেটর, মাঠ সহকারীসহ প্রায় তিন হাজারেরও বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানবন্ধন করেন।

এসময় তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন, চেয়ারম্যান কিংবা প্রকল্প পরিচালক কেউই অফিস থেকে নেমে এসে আমাদের সাথে কথা বলেননি।

তবে তাদের কারণে সৃষ্ট এ জটিলতার সমাধান হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়ব না এবং আমাদের আট দফা দাবি আদায় না করে ঘরেও ফিরব না বলে জানান বিক্ষোভে অংশ নেয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ দাবি আদায় আন্দোলন কমিটির সভাপতি সেলিম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন ও কমিটির মুখপাত্র সোলাইমান।

এদিকে প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য প্রতিষ্ঠিত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. মিহির কান্তি মজুমদার এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রকল্প পরিচালক আকবর হোসেনের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি লঙ্ঘন করে প্রতিষ্ঠানটিতে বিদ্যমান জনবলকে উপেক্ষা করেই নতুন নিয়োগ দেয়াসহ নানা অনিয়ম ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচার হয়েছে।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর নানাভাবে হয়রানি ও হুমকি ধামকি দিয়ে আসছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কয়েকজন চেয়ারম্যান মিহির কান্তির নিকটাত্মীয় হওয়ায় গত ৭ জুলাই রোববার ইস্কাটনে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে আন্দোলনরতদের ওপর লাঠিচার্জও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।

এতে প্রায় শতাধিক কর্মচারী আহত হয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানান বিক্ষোভকারীরা।

পরবর্তীতে পরিপত্রের মাধ্যমে প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের উপস্থিতি-অনুপস্থিতি তল্লাশিসহ চাকরিচ্যুত করার হুমকিও দেয় কর্তৃপক্ষ।

গত ৮ জুলাই বুধবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন চলাকালেও ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়।

সেখানে প্রকল্পের উপজেলা পর্যায়ের পাঁচ হাজার ৩৬৮ জন কর্মচারীর মধ্যে চার হাজার ৭৫৬ জন কর্মচারীকে ইতোমধ্যে ব্যাংকের বিভিন্ন সমমানের পদে গত ১ আগস্ট ২০১৮ থেকে স্থায়ী করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

যা সম্পূর্ণ অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও চরম প্রতারণা বলে দাবি করেন আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী, প্রকল্পের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীর ১ জুলাই ২০১৬ থেকে ব্যাংকে স্থায়ীকরণ হয়েছে বলে গণ্য হবে।

কিন্তু সে আইন অনুযায়ী কোনো ব্যবস্থা না নিয়েই রাতের অন্ধকারে বাইরে থেকে লোক নিয়োগ দেয়া হচ্ছে।

আমাদের ন্যায্য দাবিগুলো এ পর্যন্ত মেনে না নিয়ে উল্টো আমাদেরই কঠোর শাস্তির হুমকি দিয়ে চিঠি দেয়া হচ্ছে, দাবি-দাওয়া না মেনে উল্টো আমাদের নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যাওয়ার জন্যও বলা হয় বলে জানান মুখপাত্র সোলাইমান।

প্রকল্প ও ব্যাংকের আইন ও নিয়োগ বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম বিদ্যমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা উল্লেখ থাকলেও এসব বিধানের তোয়াক্কা না করেই কর্তৃপক্ষ বাইরে থেকে এনজিও কর্মী ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে কর্মী নিয়োগ দিচ্ছে।

এ প্রক্রিয়া বন্ধে উচ্চ আদালতের আদেশ থাকা সত্ত্বেও সম্প্রতি ব্যাংকটিতে প্রায় ১৪৯ জনকে রাতের আঁধারে অবৈধভাবে সিনিয়র অফিসার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

এমনকি তারা তড়িগড়ি করে তাদের চলতি সপ্তাহেই বিভিন্ন উপজেলায় পদায়নের চেষ্ঠা করছে।

ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বেচ্ছাচারিতায় ও হেয়ালিপনায় বর্তমান প্রকল্পে দীর্ঘ আট বছর ধরে এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে তিন বছর ধরে দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

পুরোনো কর্মীদের বাদ দিয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে ব্যাংকটিতে সম্প্রতি ৪৮৫ জন ক্যাশ সহকারীও নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ ব্যাংকেরই সিনিয়র অফিসার তোফায়েল আহম্মেদ নিয়োগের নামে ঘুষ-বাণিজ্যের ৪৪ লাখ টাকাসহ পুলিশের কাছে গ্রেপ্তার হয়েছেন।

ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলছেন, কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে চুক্তিভিত্তিক ৩২ জন উপ-আঞ্চলিক অফিসার নিয়োগ দিয়েছেন, যার ৭৫ ভাগই এনজিও কর্মী এবং যা সরকারের ৪ অক্টোবর ২০১৮ জারি করা পরিপত্র বর্হিভূত।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৪০৫০০ সমিতির ২২ লাখ সদস্য পরিবারের ১.২০ কোটি দরিদ্র মানুষের সঞ্চয় ও সরকারের অনুদান দুই হাজার ১৪০ কোটি টাকাসহ প্রকল্পে বর্তমানে প্রায় তিন হাজার ৩৯৫ কোটি টাকার তহবিল রয়েছে। এ তহবিল থেকে এক হাজার কোটি টাকা নিয়ে গঠিত হয়েছে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক।

যেখানে সুবিধাভোগীরা ৪৯ শতাংশ এবং সরকার ৫১ শতাংশের শেয়ার হোল্ডার। কিন্তু চেয়ারম্যান মিহির কান্তি মজুমদার ও প্রকল্প পরিচালক আকবর হোসেনের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এ তহবিল শেষ পর্যন্ত তছরুপের শঙ্কাও করছেন তারা।

এ ছাড়াও এ অর্থ বিভিন্ন ব্যাংকে গচ্ছিত রেখে ইউএনওদের সহায়তায় এতোদিন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা তহবিল পরিচালনা ও ঋণ বিতরণ করলেও বর্তমানে এই তহবিল কেন্দ্রে পূঞ্জীভূত করে বিভিন্ন ব্যাংকে সুদভিত্তিক এফডিআর করে রেখে কমিশন খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

যার দরুণ এই তহবিলের অর্থ অপব্যবহারের শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

গরিব ও অসহায় জনগণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া উপহার পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকটিকে চেয়ারম্যান মিহির কান্তি মজুমদার এনজিও করার যে পাঁয়তারায় লিপ্ত রয়েছেন, তার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হতে দেবো না বলে জানান দাবি আদায় আন্দোলন কমিটির সভাপতি সেলিম হোসেন।

এছাড়া আট হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরি স্থায়ীকরণ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে বলেও দাবি জানান সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন।

সৃষ্ট উত্তাল অবস্থা সমাধানের কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন কি-না, জানতে চাইলে মিহির কান্তি মজুমদার আমার সংবাদকে বলেন, উদ্যোগ গ্রহণ কী, যেগুলোর আন্দোলন করতেছে এর একটাও সত্য না। যেমন তারা বলতেছে, স্থায়ীকরণ— স্থায়ীকরণ হয়ে গেছে।

এটার ইনক্রিমেন্ট দেয়ার অর্ডারও জারি হইছে। পদোন্নতির নীতিমালা মন্ত্রীর কাছে আছে, মন্ত্রী বিদেশে আছেন, মেইলে সেখানে পাঠানো হয়েছে। ওরা যে দাবিগুলো করতেছে, সবগুলোই তো পূরণ করা হয়েছে, তাহলে আমরা কোনটা করব।

গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংকে কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রকল্পে নিয়োজিতদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে, কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে জানালে তিনি বলেন, প্রবিধানমালায় ৫০ শতাংশ সিনিয়র অফিসার পদ ওদের জন্য রিজার্ভ করা আছে।

প্রবিধানে কি ৫০ শতাংশের কথা উল্লেখ আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৫০ শতাংশ পদ তারা মেনে নিতে পারছে না।

৩২ জন এনজিও কর্মী নিয়োগ দিয়েছেন যারা গ্রামীণ ব্যাংক, প্রশিকা ও আপনার উদ্দীপনে কর্মরত বলে অভিযোগ করেছে আন্দোলনরতরা এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ৩২ জন, যাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে তারা রেগুলার স্টাফ না।

এইটা যেহেতু নতুন ব্যাংক, সেহেতু ব্যাংকের যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে সাময়িক সময়ের জন্য চুক্তিভিত্তিক যেকোনো জায়গায় কর্মচারী নিয়োগ দেয়া যাবে।

তিনি বলেন, নতুন ব্যাংক হিসাবে এর ঋণখেলাপি বেড়ে যাচ্ছিল। এ জন্য সাময়িকভাবে তাদের ছয় মাসের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়েছে। ছয় মাস পর এরা চলে যাবে।

এদের রেগুলার কোনো পোস্ট নেই। এনজিও থেকে আসা ৩২ জনকে উপ-আঞ্চলিক কর্মকর্তা হিসেবেও নিয়োগ দিয়েছেন জানালে তিনি বলেন, এ নামে কোনো পদই নেই। অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী, এ ধরনের কোনো পদই নেই।

প্রকল্পে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টার্গেট পূরণের মাধ্যমে কাজ করাচ্ছেন এবং টার্গেট ফিলাপ করতে না পারলে বেতনও কাটা হচ্ছে এ রকম সুযোগ আছে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, টার্গেট পূরণ না হলে বেতন কেটে রেখে দিচ্ছি আলাদা, যখন টার্গেট পূরণ হবে, তখন দিয়ে দেয়া হবে।

এরা কাজ করে না, আর প্রধানমন্ত্রীর ব্যাংকে ঋণখেলাপি বেড়ে যাবে এটা তো হতে পারে না। এরা কাজ করবে না, ঋণ আদায় করবে না, ডিসকাস করবে না।

তাহলে আপনি কি মনে করছেন প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজ ঠিকঠাকভাবে করছে না এবং এ কারণেই ঋণখেলাপি বাড়ছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি কী বলব; ঋণখেলাপি বাড়তেছে।

কী কারণে ঋণখেলাপি বাড়তেছে, অবশ্যই তাদের ব্যর্থতা আছে। ৩২ জনের নিয়োগের পরেই সন্তোষজনকভাবে ঋণখেলাপি কমে যাচ্ছে এবং কদিন পরে ওরা থাকবে না।

কারণ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত ৩২ জনের স্থায়ী কোনো পদই নাই বলে জানান তিনি। দাবি পূরণ করার মতো কিছুই নাই।

তাদের সব পূরণ করা আছে। যে আটটি দাবি ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা করছে, সেগুলোর সবই পূরণ করা হয়ে গেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

তাদের আন্দোলন, বিক্ষোভ, মানবন্ধন এ সবই সম্পূর্ণ অযৌক্তি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ নিয়োগ দেবে এ প্রক্রিয়া তারা মেনে নিতে পারছে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত