শিরোনাম

মাদ্রাসায় কারিগরি শিক্ষার উদ্যোগ

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ   |  ০৩:৪৬, জুলাই ১০, ২০১৯

দেশের বেকারত্ব কমিয়ে দক্ষ জনবল তৈরির জন্য গত কয়েক বছর ধরেই সরকার কারিগরি শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।

কারিগরি শিক্ষার জন্য স্কুলপর্যায়ে ভোকেশনাল তৈরি হয়েছে। সাধারণ স্কুলগুলোতেও কারিগরির অন্তত দুটি ট্রেড চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এর পাশাপাশি ২০২০ সাল থেকে দেশের মাদ্রাসাগুলোতে কারিগরি শিক্ষা চালু করতে যাচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ৩০ হাজার ভোকেশনাল মাদ্রাসা করারও পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

জানা গেছে, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিশেষ গুরুত্বের অংশ হিসেবে সরকার মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদেরও শামিল করতে চায়।

সরকারের লক্ষ্য, চাকরির বাজারে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাও যেন সমানভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারে।

এছাড়া দেশের বাইরে যেতে চাইলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরাও যেন দক্ষতার সাক্ষর রাখতে পারে তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাদ্রাসায় কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এখন সময়ের দাবি। এতে শিক্ষার্থীরা হাতে-কলমে দক্ষতা অর্জন করতে পারবে।

আর লেখাপড়া শেষে বেকারও থাকতে হবে না। জানা গেছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার আলিয়া মাদ্রাসা আছে।

এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৪ লাখের উপরে। কিন্তু পর্যাপ্ত দক্ষতার অভাবে এসব প্রতিষ্ঠান থেকে পাস করা একটি বড় অংশের শিক্ষার্থীকে বেকার থাকতে হচ্ছে।

এ পরিস্থিতির উন্নয়নে মাদ্রাসার পাঠ্যক্রমে পরিবর্তন এনে এতে প্রাথমিকভাবে অন্তত দুটি অথবা চারটি কারিগরি বিষয়ক কোর্স চালু করতে যাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

ট্রেডগুলোর মধ্যে আলোচনায় রয়েছে, ফুড টেকনোলজি, কম্পিউটার অপারেটিং, ওয়েল্ডিং ও মেকানিক্যাল ট্রেড এবং সেলাই ও পোশাক তৈরির কোর্স।

এগুলোর বাইরে আধুনিক আরবি ভাষা শিক্ষাও দেয়ার চিন্তা রয়েছে সরকারের। শিক্ষার্থীরা আধুনিক আরবি ভাষা শিক্ষা গ্রহণ করলে দাখিল পাস করে মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মাশুক মিয়া আমার সংবাদকে বলেন, সরকার মাদ্রাসাগুলোতে কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

প্রাথমিকভাবে ৩০ হাজার ভোকেশনাল মাদ্রাসা করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া দাখিল পর্যায়ের কিছু মাদ্রাসায় ২০২০ সাল থেকে কারিগরির দুটি ট্রেড চালু করার চিন্তা রয়েছে।

এর আগে শিক্ষাউপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এ বিষয়ে বলেছিলেন, আমরা স্কুল-কলেজের পাশাপাশি মাদ্রাসগুলোকেও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

প্রকল্পের মাধ্যেমে সবগুলো মাদ্রাসায় আমরা কারিগরি কোর্স চালু করব। যাতে করে কাউকে বেকার না থাকতে হয়। এতে মাদ্রাসায় শিক্ষার মানও বাড়বে।

মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, মাদ্রাসায় কারিগরি শিক্ষা চালু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

এ সংক্রান্ত মিটিংও হয়েছে। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসার দাখিল পর্যায়ের পাঠ্যক্রমের কিছু পরিবর্তন এনে কারিগরির দুই থেকে চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হতে পারে।

মাদ্রাসা শিক্ষার সাথে সংশ্লিষ্টরা সরকারের এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তারা বলছে, মাদ্রসাগুলোতেও কারিগরি শিক্ষা চালু এখন সময়ের দাবি।

এতে করে মাদ্রসাপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়বে। আত্মকর্মসংস্থান তৈরিতেও বড় ভূমিকা রাখবে। একই সাথে আলাদা কারিগরি মাদ্রাসা তৈরির দিকেও গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা অধ্যক্ষ আলমগীর রহমান বলেন, সরকারের এই উদ্যোগ খুবই ভালো। ধীরে ধীরে মাদ্রাসাগুলোতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপশি বিজ্ঞান, কারিগরি এগুলো চালু হচ্ছে। এতে মাদ্রাসার মান অনেক বাড়ছে।

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার তালজাঙ্গা ইউনিয়ন আলিম মাদ্রাসার প্রভাষক নাজমুল হক বলেন, বর্তমান মাদ্রসার সাধারণ শিক্ষার সাথে কারিগরি শিক্ষা চালু করা খুবই জরুরি। মাদ্রাসায় প্রচলিত শিক্ষা নিয়ে অনেক শিক্ষার্থী বেকার থাকছে।

কারিগরি শিক্ষা নিলে বেকারত্বের সমস্যা কিছুটা কমবে বলে আমি মনে করি। সরকার মাদ্রাসাগুলোতে কারিগরি শিক্ষার চালুর যে উদ্যোগ নিয়েছে তা খুবই সময়োপযোগী।

শামসুল আলম নামের একজন মাদ্রাসা শিক্ষক বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের চাকরির প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে দক্ষতা অর্জনের কোনো বিকল্প নেই।

এজন্য ধীরে ধীরে আলাদা কারিগরি মাদ্রাসা তৈরি করতে হবে। আর আমরা যারা শিক্ষক রয়েছি, তাদেরও দক্ষতা বাড়াতে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী মো. এনায়েত উল্লাহ বলেন, কারিগরি শিক্ষা বর্তমান সময়ের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। দেশকে এগিয়ে নিতে হলে মাদ্রাসায় কারিগরি শিক্ষা চালুর কোনো বিকল্প নেই।

আমরা যদি চীনের অর্থনীতির দিকে তাকাই, তাহেল দেখতে পাবো— তাদের অর্থনীতি চাঙ্গা করার পেছনে ?মূল ভূমিকা রেখেছে কারিগরি শিক্ষা। সুতরাং মাদ্রাসায় কারিগরি শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত খুবই ইতিবাচক। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত