শিরোনাম

ভোট প্রার্থনায় ছাত্রদলের ঈদ

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম   |  ১২:০৮, আগস্ট ১৫, ২০১৯

এবার ভোট প্রার্থনায় ঈদ সময় পার হচ্ছে বিএনপির সহযোগী সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের। ঈদের আগেই বার্তা দেয়া হয়েছিলো ঈদের পর ছাত্রদলের কাউন্সিল হবে। দীর্ঘ ২৮ বছর পর কাউন্সিলের বার্তা থাকায় আগে থেকেই উজ্জীবিত ছিলো বৃহৎ ছাত্রসংঠনটি।

অবশেষে ঈদের পর দিনই চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হয়। তাই ঈদের শুভেচ্ছায় সাড়ে পাঁচশর উপরে ভোটারের মন জয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক এমন সব প্রার্থীকেই দেখা গেছে ঈদ শুভেচ্ছার সঙ্গে প্রার্থিতার ঘোষণা ও দোয়া চাইতে। কারাবন্দি খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতেও অনেককে বেশ সোচ্চার দেখা গেছে।

এ নির্বাচনেও অতীতের মতো বিভাগ ও জেলা দুর্বলতায় অনেককে বড় পদে আনতে দলের শীর্ষ নেতাদের সুপারিশ করেছেন বিশেষ মহল। কিন্তু এবার ভোটের সব হিসাব ভোটারদের হাতে থাকায় অতীত স্টাইল পরিবর্তন হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন মেধাবী ছাত্রনেতারা। তারেক জিয়ার ওপর আস্থাতে এবারের কাউন্সিলে প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে ভোট উৎসবের আমেজ অতীতের চাইতে বেশি পরিলক্ষিত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দুই মাস পিছিয়ে আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ওইদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটগ্রহণ হবে বলে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি জানিয়েছে।

গত ১৩ আগস্ট ছাত্রদলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়। কাউন্সিলের নতুন সূচি অনুযায়ী ভোটের জন্য মনোনয়নপত্র বিতরণ হবে ১৭ ও ১৮ আগস্ট।

জমা দেয়া যাবে ১৯ ও ২০ আগস্ট। বাছাই ২২ থেকে ২৬ আগস্ট এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ৩১ আগস্ট। এরপর ২ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে।

১২ সেপ্টেম্বর মধ্যরাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটের জন্য প্রচার চালাতে পারবেন। এর আগে, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ১৫ জুলাই ভোটের তারিখ ঠিক করেছিল। কিন্তু বয়সসীমা নিয়ে ছাত্রদলের একটি অংশের নেতাকর্মীদের আন্দোলনে তা বাতিল হয়ে যায়।

ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি হয়েছিল ২০১৪ সালের ১৪ অক্টোবর। ওই কমিটিতে সভাপতি হন রাজীব আহসান ও সাধারণ সম্পাদক হন আকরামুল হাসান।

বয়সের সীমারেখা বেঁধে দেয়ায় এবার দুই শীর্ষ পদের জন্য আলোচিত ও আগ্রহী অনেকে লড়ার সুযোগ পাচ্ছেন না। ছাত্রদলের নেতৃত্ব বাছাইয়ে সংগঠনটির অভিভাবক বিএনপির নেতারা ২০০০ সালকে এসএসসির ভিত্তি বছর নির্ধারণ করেছেন।

যারা ওই বছর কিংবা এর পরে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন তারাই কেবল লড়তে পারবেন ছাত্রদলের নেতৃত্বের জন্য। তাই শর্ত তুলে নেয়ার দাবিতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে গত জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে সহিংস রূপ দেখিয়ে আসছিল ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ বড় একটি অংশ।

এর মধ্যে কার্যালয়ে ভাঙচুর, ডিম ছোড়া, তালা মারা, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া, হকিস্টিকের মহড়া, রিজভীপন্থিদের লাঞ্ছিত, ককটেল নিক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রায় তিন সপ্তাহের সহিংস আন্দোলনের পর বিক্ষুব্ধরা পরে দলীয় হাইকমান্ডের আওতায় আসে।

নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের সঙ্গে সার্চ কমিটির বৈঠক হয়েছে বেশ কয়েকবার। নির্ধারণ করা হয়েছে ভোটারও। ছাত্রদলের প্রতিটি সাংগঠনিক জেলা থেকে পাঁচজন করে কাউন্সিলর নেয়া হয়েছে।

সাংগঠনিক জেলা ও বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজগুলোর কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদকরা ভোটার হতে পেরেছেন। তাদের মোট সংখ্যা ৫৮৫। এরাই মূলত ভোট দিতে পারবেন।

তবে অন্য একটি সূত্র জানিয়েছে, ভোটার থাকবে ৫৭৮ জন। এরই মধ্যে নানা কারণে কয়েকজন ভোটার বাদ পড়েছে। এদিকে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে লড়তে চান এমন নেতারা নিজেদের মতো করে কাউন্সিলরদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন।

এবার সভাপতি পদে আগ্রহীদের মধ্যে বৃত্তি ও ছাত্র কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক কাজী রওনকুল ইসলাম শ্রাবণের নাম হেভিওয়েট ব্যক্তিদের মুখে ভালো আলোচনায় আছে। রাজপথে স্বশরীরে উপস্থিতি ও ত্যাগীদের তালিকায় কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মামুন খানের নামও শোনা যাচ্ছে।

সংস্কৃতি ও প্রাপ্য সম্মানের দিক থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি নরসিংদী জেলার আল মেহেদী তালুকদারের নামও অনেক জায়গায় বেশি শোনা যাচ্ছে। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সম্পাদক হাফিজুর রহমান, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক আশরাফুল আলম ফকির লিঙ্কন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল আলম টিটু, স্কুলবিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-সভাপতি সুরুজও বিশেষ যোগ্যতায় এগিয়ে আছে।

সাধারণ সম্পাদক পদে ঢাবির যুগ্ম সম্পাদক শাহনেওয়াজ, তানজিল হাসান, সাইফ মাহমুদ জুয়েল ও সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মুতাসিম বিল্লাহ, যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, ঢাকা কলেজের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সজিব।

সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে সাবেক ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মামুন খান বলেন, ১৯৯২ সালে সর্বশেষ কাউন্সিল হয়। দীর্ঘ ২৮ বছর পর এসে ২০১৯ সালে আবার কাউন্সিল হচ্ছে। এটা নতুন প্রজন্মের জন্য বড় পাওয়া। যুগান্তকারী এ সিদ্ধান্তের জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাই। তার এই সিদ্ধান্তে জেলা শহরগুলো খুবই উজ্জীবিত।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম সম্পাদক তানজিল হাসান বলেন, এবারের কাউন্সিল নিয়ে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে যে পরিমাণে ছাত্রদলের নেতারা সরব হয়েছেন। তা অতীতের চাইতে বেশ লক্ষণীয়।

তিনি বলেন, এবার তারেক জিয়ার সঠিক সিদ্ধান্তের জন্যই এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দলের সবাই আস্থা রাখছেন আমাদের অভিভাবক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ওপর। তিনি অবশ্যই সুন্দর একটা কমিটি উপহার দেবেন।

ঢাকা কলেজের ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান সজিব বলেন, সমপ্রতি একটি ছাত্রসংগঠনের কমিটিতে দেখা গেছে নেতৃত্বের জন্য ঐতিহ্যবাহী কলেজের প্রভাব থাকতে। কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঢাকা কলেজ থেকে শীর্ষ পদে সম্মানিত হতে।

তিনি আশা করেন এবার ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটিতে ঢাকা কলেজ থেকে বড় প্রভাব থাকবে। আরেক প্রার্থী ঢাবির সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মুতাসিম বলেন, এবার ভোটারের হাতে সব ক্ষমতা। তাই এবারের কাউন্সিল থেকে স্বচ্ছ নেতৃত্ব উঠে আসবে বলে তিনি মনে করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত