বৃহত্তর আন্দোলনে যাচ্ছে আলেমরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥এনায়েত উল্লাহ  |  ১০:৩৯, আগস্ট ২৩, ২০১৯

কাশ্মীর-ভারত যুদ্ধের দামামা বাজছে। প্রতিনিয়তই ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে গোলাগুলি চলছে। এতে নিহতের ঘটনাও ঘটছে। যুদ্ধ বাঁধলে বাংলাদেশের আলেমরা কাশ্মীরের পক্ষ নেবে বলে ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন।

সব ইসলামি দল এক ব্যানারে আন্দোলন করার জন্য ইতোমধ্যেই তারা সর্বদলীয় কাশ্মীর সংহতি ফোরাম নামে একটি সংগঠনও করেছেন। এই সংগঠনে ইসলামি সমমনা ১৮টি দল রয়েছে বলে জানা গেছে।

তারা কাশ্মীরের পক্ষে বিভিন্ন মিছিল-মিটিং করে যাচ্ছে নিয়মিত। এরই অংশ হিসেবে আগামী সপ্তাহেই বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি আসতে পারে বলে জানা গেছে।

তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কাশ্মীরের মানুষের ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারীদের ওপর ব্যাপকহারে নির্যাতন করা হচ্ছে। তাদের ওপর যৌন নির্যাতন করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তারা।

অন্যদিকে গত মঙ্গলবার পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের প্রেসিডেন্ট সরদার মাসুদ খান বলেছেন, ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে গণহত্যা শুরু হয়েছে। কাশ্মীর ইস্যুটি কূটনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলারও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ খান বলেন, মোদি সরকার বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে। অধিকৃত কাশ্মীরে অস্থায়ী ডিটেনশন সেন্টার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে সেখানে গণহত্যা শুরু হয়েছে। আলেমরা বলেন, গণহত্যা এবং নির্যাতনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে, সেখানে মানবতার বিপর্যয় হচ্ছে।

সুতরাং তারা মানবতা এবং মুসলমানদের পক্ষে ব্যাপক আওয়াজ তোলার লক্ষ্যেই বৃহত্তর আন্দোলনের দিকে এগোচ্ছে। তারা মনে করেন, ১৯৭১ সালে যে কারণে ভারত বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে এ দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সহযোগিতা করেছিল।

আমরাও সে কারণে কাশ্মীরের পক্ষ নিয়ে তাদের সহযোগিতা করতে চাই। আগরতলা বিমান বন্দর সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশ থেকে কোনো জায়গা প্রদান করা হলে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের হুমকিও দেন তারা।

এ বিষয়ে খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব ও হেফাজত নেতা মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী আমার সংবাদকে বলেন, যেহেতু এটা দেশের বাইরের ইস্যু সুতরাং সরাসরি কিছু করার সুযোগ আমাদের নেই।

তবে ভারত যেভাবে কাশ্মীরের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে সে দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা মানবতা এবং মুসলমানদের পক্ষে কথা বলার চেষ্টা করছি। এর মাধ্যমে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বিষয়টি তুলে ধরতে চাই। আগামী ৩০ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবে একটি গোলটেবিল বৈঠক রয়েছে এ বিষয়ে। এভাবেই পর্যায়ক্রমে আন্দোলন চলবে।

চলতি মাসের ৫ আগস্ট প্রায় সাত দশক ধরে চলমান বিরোধপূর্ণ মুসলিম-অধ্যুষিত রাজ্যটির স্বায়ত্তশাসন বাতিলের বিষয়ে আলেমদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসিত সরকার ব্যবস্থার বিলোপ ঘটানোর মধ্য দিয়ে ভারতের কু-মতলব রয়েছে।

আলেমরা মনে করেন ভারত সংবিধানের ৩৭০নং ধারাটি বাতিল করে বিশেষ কোনো ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। যার অংশ হিসেবেই তারা সেখানে নির্যাতন চালাচ্ছে।

সুতরাং মানুষ হিসেবে মানুষের পক্ষে আলেমরা কথা বলবে এটাই স্বাভাবিক। বিশ্বের যে সমস্ত মানবাধিকার সংগঠন এখন চুপ রয়েছে তাদেরও সমালোচনা করেন তারা।

এ বিষয়ে জামিয়া রাহমানিয়া দারুল ইসলামের প্রিন্সিপাল মুফতি ওযায়ের আমিন বলেন, আমরা কাশ্মীরের মজলুম মানুষের পক্ষে আছি।

আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছি। যাতে তারা মজলুমদের পক্ষে কথা বলে এবং সহযোগিতা করে। অন্যদিকে পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রও যেন তাদের পক্ষে কথা বলে সে কারণে বিশ্ব দরবারে বিষয়টি তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

হেফাজতে ইসলামের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, কিছুদিনের মধ্যেই বড় আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে হেফাজতে ইসলাম।

এ বিষয়ে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী আমার সংবাদকে বলেন, ইমান ও ইসলামের বন্ধনে কাঁটা তার কোনো বাধা হতে পারে না। সারা পৃথিবীর মুসলমান এক দেহের ন্যায়। শরীরের একটি অংশ আঘাতপ্রাপ্ত হলে যেমন আমরা সহ্য করতে পারি না।

তেমনি পৃথিবীর যে কোনো জায়গায় মুসলমান নির্যাতিত হলে আমরা তাদের পক্ষে কথা বলবই। প্রয়োজন হলে বুকের তাজা রক্ত দিতেও প্রস্তুত আছি।

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা আহমদ শফী সাহেবের সাথে আলোচনা করে অতি দ্রুত আন্দোলনের বড় কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও তিনি জানান।

বাংলাদেশের সরকারপ্রধানকে একজন মুসলমান হিসেবে কাশ্মীরের নির্যাতিত মুসলমানদেরকে নির্যাতন থেকে বাঁচাতে কূটনৈতিকভাবে ভারতের ওপর চাপ প্রয়োগ করারও আহ্বান জানান তিনি।

এবং কাশ্মীর ভারত যদি যুদ্ধ হয় তাহলে মুসলিম হিসেবে কাশ্মীরীদের পক্ষে থাকার জন্য সরকারের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, কাশ্মীরের জনগণ যদি স্বাধীনতা চেয়ে যুদ্ধে লিপ্ত হয় তাহলে তাদেরকে জঙ্গি বা সন্ত্রাসী বলা যাবে না।

কেননা ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। যদি মুক্তিযুদ্ধ করার কারণে কেউ জঙ্গি বা সন্ত্রাসী হয় তাহলে আমাদের বীর পুরুষরাও এর মধ্যে পড়ে যাবে।

সুতরাং মুক্তিকামী কাশ্মীরীদের জঙ্গি বা সন্ত্রাসী বলা যাবে না। যারা দেশের জন্য লড়ে তারা বীর। তারা দেশের সূর্য সন্তান।

এসময় তিনি সবাইকে কাশ্মীরের মজলুম মানুষের পক্ষে কথা বলার এবং তাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট নরেন্দ্র মোদির সরকার কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে। একই সঙ্গে জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙে কেন্দ্রশাসিত দুটি অঞ্চল গঠন করা হয়। ভারতের এ পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আলেমরা।