শিরোনাম

চামড়াজাত পণ্যের উন্নয়নে নীতিমালা হচ্ছে

জিডিপিতে চামড়া খাতের অবদান ২ শতাংশ বাড়বে
প্রিন্ট সংস্করণ॥আসিফ শওকত কল্লোল  |  ১০:০৭, আগস্ট ২৪, ২০১৯

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের উন্নয়নে এ খাতের যে নীতিমালা করা হবে, তা বাস্তবায়নে পরিষদ কাজ করবে। যা আগামী পাঁচ বছরের জন্য কার্ষকর হবে। পরবর্তীতে প্রতি পাঁচ বছরের জন্য এটি হালনাগাদ করা হবে।

আগামী সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যাবিনেট মিটিংয়ে শিল্প মন্ত্রণালয় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৯ প্রস্তাবটি উঠবে। বর্তমান সময় দেশে ঈদের পর চামড়ার দাম শূন্যে চলে যাওয়ার জন্য সরকার এ খাতের উন্নয়নের উদ্যোগ হিসেবে অতি দ্রুত নীতিমালা করতে চাচ্ছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, নতুন নীতিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত ‘চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা-২০১৯’ এর কার্যকারিতা অব্যাহত থাকবে। এ নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত ‘সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা’ প্রয়োজনে পরিবর্তন এবং পরিমার্জন করা হবে।

চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য শিল্পকে একটি টেকসই, পরিবেশবান্ধব ও প্রতিযোগিতমূলক খাত হিসেবে গড়ে তোলা হবে যা বৈশ্বিক অর্থনীতির সাথে সম্পূর্ণভাবে একীভূত করে ২০২১ সালের মধ্যে রপ্তানি বাড়িয়ে জিডিপিতে এ খাতের বর্তমান অবদান শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ হতে ২ দশমিক ৫ শতাংশ করা হবে।

এ খাতে ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার জন্য নতুন নতুন উদ্ভাবন ব্যবসায়িক উদ্যোগ ও সেবা অনুশীলন গ্রহণ করার বিষয়ে উৎসাহ প্রদান ও সেগুলো প্রতিপালন করা। শক্তিশালী পশ্চাৎসংযোগ ও অগ্রসংযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাজারে অবস্থান বৃদ্ধি এবং বাজারের প্রতি সংবেদনশীল হয়ে পণ্য উৎপাদনে সহায়তা প্রদানে চামড়া শিল্পের সম্পূর্ণ সাপ্লাই-চেইনে কার্যকর সমন্বয় সাধন।

এই নীতিমালায় দূষণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণসহ টেকসই উপায়ে সম্পদ আহরণ ও ব্যবহার, জ্বালানি সাশ্রয় এবং পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকৃত জ্বালানি উৎপাদন ও ব্যবহার করতে উদ্ভাবিত ও হস্তান্তরিত নতুন এবং উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ করা।

শিল্পকারখানায় পরিচ্ছন্ন উৎপাদনের একটি সফল মডেল তৈরি করা যা পরিচ্ছন্ন উৎপাদন কৌশলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবে এবং পরিবেশ ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির জন্য আইএসও ১৪০০০ (২০১৫) স্বীকৃতি লাভ করা সম্ভব হবে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে— চামড়া নীতিমালা সমন্বয় পরিষদ নীতিমালার সুপারিশ করবে। চামড়া নীতিমালা সমন্বয় পরিষদের সুপারিশের আলোকে নীতিমালা বাস্তবায়নের জন্য চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য উন্নয়ন নীতিমালা বাস্তবায়ন পরিষদ গঠন করা হয়।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, শিল্পসচিবকে সভাপতি করে ১৯ সদস্যের নীতিমালা বাস্তবায়ন পরিষদ গঠন করে। খসড়া নীতিমালা অনুসারে প্রতি তিন মাস অন্তর অন্তর পরিষদ সভায় মিলিত হবে। জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো সময় সভা আহ্বান করা যাবে।

সমন্বয় পরিষদের সুপারিশের আলোকে বাস্তবায়ন পরিষদ এই শিল্প খাতের বর্তমান শ্রম বাজার, কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, অবকাঠামো বিনিয়োগ, অর্থায়ন, প্রণোদনা, তহবিল যোগান সর্বোপরি প্রণীত নীতিমালা বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের নিমিত্ত শিল্প মন্ত্রণালয় ও বিবিএসের যৌথ উদ্যোগে সময়ে সময়ে এ সংক্রান্ত শুমারি বা জরিপ কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

সমন্বয় পরিষদের সুপারিশের আলোকে বাস্তবায়ন পরিষদ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং সময়ে সময়ে বাস্তবায়ন অগ্রগতি সমন্বয় পরিষদকে অবহিত করবে।

এছাড়া চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য খাতের উন্নয়নে বাস্তবায়ন পরিষদ প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা প্রণয়ন করে সমন্বয় পরিষদের বিবেচনার জন্য পেশ করবে।

খসড়া নীতিমালায় বলা হয়েছে, জাতীয় আমদানি ও রপ্তানি নীতি, শিল্পনীতি এবং জাতীয় বাজেট প্রণয়নকালে পরিষদ প্রয়োজনীয় সুপারিশ পেশ করবে। বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনার বিষয়ে বাস্তবায়ন পরিষদ সমন্বয় পরিষদের কাছে সুপারিশ পেশ করবে।

এ পরিষদ পরিচালনা করতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের নীতি শাখা এ পরিষদের সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবে। পরিষদ প্রয়োজনে নতুন সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

এ ছাড়া কৌশলগত বাস্তবায়ন কার্যনির্বাহী দল (এসআইটিএফ) থাকবে। এ নীতিমালায় সময়াবদ্ধ পরিকল্পনায় বিভিন্ন ধরনের কৌশল ও পদক্ষেপের বিষয় উল্লেখ আছে এবং এগুলোর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করতে পাঁচ-বছরের বেশি সময় লাগবে।

কৌশল ও পদক্ষেপগুলো একে অপরের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থাকার কারণে একটি শক্তিশালী সমন্বয় ও পর্যবেক্ষণ পদ্ধতি থাকা জরুরি, যেন ফলাফলগুলো পরিকল্পনা অনুযায়ী যথাসময়ে অর্জন করার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

পরিষদের বর্ণিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা সংস্থা থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নীতিমালা বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি কৌশলগত এসআইটিএফ গঠন করতে হবে।

এসআইটিএফ গঠন করার জন্য বাস্তবায়ন পরিষদ প্রয়োজনীয় সম্পদ জোগাড় করবে। বাস্তবায়ন পরিষদের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে এসআইটিএফ পূর্ণকালীন কাজ করবে।

নীতিমালার কার্যক্রম শুরু করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগ, সরকারি সংস্থা, পৌর কর্তৃপক্ষ ও বেসরকারি খাতগুলোর প্রতিনিধিদের সাথে সমন্বয়সাধন, উপ-কমিটি গঠন, তহবিল ব্যবহার করার পরিকল্পনা ও নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এবং নীতিমালার কার্যক্রমের সকল দিক বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ করার বিষয়গুলোর মধ্যে সমন্বয়সাধন করার জন্য এসআইটিএফ দায়িত্বপ্রাপ্ত হবে।

চামড়া খাতের নীতিমালা বাস্তবায়নের অগ্রগতি ও ফলাফল সম্পর্কে এবং জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা সমস্যা সম্পর্কে এসআইটিএফ বাস্তবায়ন পরিষদের কাছে নির্দিষ্ট সময় পরপর প্রতিবেদন জমা দেবে।

এসআইটিএফ প্রতিটি কৌশলের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপ-কমিটিগুলো তৈরি করবে। এসআইটিএফ প্রতিটি কৌশল বা কাজের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ নির্ধারণ করবে এবং সংশ্লিষ্ট উপ-কমিটিগুলোতে সেগুলো বণ্টন করবে।

পক্ষান্তরে, উপ-কমিটিগুলোর ভূমিকা হলো সংশ্লিষ্ট প্রতিটি কৌশলের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা, যেন বেসরকারি খাতের সাথে সমন্বয়সাধন করা সম্ভব হয়। উপ-কমিটিগুলো এসআইটিএফয়ের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত