শিরোনাম

ক্যাম্পে ক্যাম্পে জঙ্গি ঘাঁটি

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম  |  ০৯:১৯, আগস্ট ২৫, ২০১৯

আশ্রিত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা! বৃহৎ এই সংখ্যা থেকে হাজার তিনেক রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত হয়। দ্বিতীয় দফায় আশ্রিতদের অনাগ্রহে সেটিও থমকে গেলো। অনেকে এটাকে দেশীয় কূটনৈতিক ব্যর্থতা দাবি করলেও এর পেছনে মৌলিকভাবে জড়িত এনজিওগুলোর সম্পৃক্ততা।

প্রতিটি ক্যাম্পে ক্যাম্পে রয়েছে আন্তর্জাতিক এনজিওগুলোর কোটি কোটি টাকার প্রজেক্ট। রয়েছে তাদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য। হঠাৎ করে এই স্বল্পসংখ্যক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হলে সংঘবদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলো উগ্র হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এ জন্য এনজিওগুলো চাচ্ছে না রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কোনো আক্রমণাত্মক পরিস্থিতি তৈরির মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য ও প্রজেক্ট বিফলে যাক। স্থানীয়, এনজিও এবং প্রশাসনের কাছে তথ্য রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে কেন্দ্র করে জঙ্গিদের সাংগঠনিক তৎপরতা সক্রিয়। রাখাইনে যে দুটি সংগঠন স্বাধীনতার দাবিতে উগ্রবাদী সেনাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছিলো তারা এ দেশে এসে এখন সংঘবদ্ধ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে!

কয়েকদিন পরপর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত, রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গ্রুপ, পুলিশের হয়রানি, চুরি-ডাকাতিসহ নানা অজানা আতঙ্কে এখন স্থানীয়দেরও ত্রাহি অবস্থা। রোহিঙ্গা চাপে পাহাড় ধ্বংস, জীবিকা নষ্ট, কমে গেছে শ্রমের মূল্য, চাষবাস, মাছ ধরা, পড়ালেখা এখন নিজেদের নিরাপত্তা নিয়েই তারা শঙ্কিত। রাত ৮টার পর টেকনাফ-উখিয়া সড়ক জনশূন্য। সন্ধ্যা হলেই রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসে বাজি ফোটানোর শব্দ।

রাত গভীর হতে থাকলে সেই শব্দ আরও বিকট হতে থাকে। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, বিকট শব্দগুলো গুলির মতোই মনে হয়। তাদের ধারণা জনশূন্য এলাকায় গভীর রাতে গ্রুপ হয়ে জঙ্গিরা প্রশিক্ষণ নেয়। এজন্য আশপাশের মানুষ সবসময় আতঙ্কে থাকে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, জঙ্গি গ্রুপগুলোও ক্যাম্পজুড়ে সক্রিয় নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছে। মাঝে মাঝে বিক্ষোভও করে। রোহিঙ্গা জঙ্গিদের পেছনে বড় কোনো মহল জড়িত আছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মিয়ানমারের জঙ্গি সংগঠন আরসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে থেকে যুদ্ধে অংশ নেয়া, সুঠাম দেহের অধিকারী এমন ব্যক্তিদের বাছাই করে সদস্য সংগ্রহ করছে। আল কায়েদার পক্ষ থেকেও এর আগে এসেছে বেশ কয়েকটি হুমকি। তালেবান, সোমালিয়ার আল শাবাব গোষ্ঠী এবং ইসলামিক স্টেটপন্থি গ্রুপগুলো রোহিঙ্গা জঙ্গিদের নিয়ে তৎপর। মানবতাকে ইস্যু করে লোভের টোকে জঙ্গিদের নিজেদের ঘরে স্থান দিতে চাচ্ছেন।

এর আগে ইসলামপন্থি সংগঠনের পক্ষে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হুমকিও প্রচার করা হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণ থেকে উখিয়া অঞ্চলে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের জন্য বড় হুমকি সৃষ্টি হয়েছে বলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শুধু রোহিঙ্গাদের নিয়েই রয়েছে বেশ কয়েকটি জঙ্গি সংগঠন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ইসলামিক সলিডারিটি ফ্রন্ট, আরাকান রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশন, আরাকান পিপলস আর্মি, আরাকান মুজাহিদ পার্টি, মিয়ানমার লিবারেশন ফোর্স, রোহিঙ্গা লিবারেশন ফোর্স, রোহিঙ্গা ইনডিপেন্ডেন্স পার্টি, রোহিঙ্গা প্যাট্রিয়টিক ফ্রন্ট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বাংলাদেশে ইসলামিপন্থি প্রায় সবগুলো দলের টিম রয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে। ইসলামপন্থি দেশগুলো থেকে অর্থ সংগ্রহ করে রোহিঙ্গাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন তারা। পিছিয়ে থাকছে না দেশীয় জঙ্গি সংগঠনগুলোও।

দাওয়াতি কাফেলা, বাংলাদেশ এন্টি টেররিস্ট পার্টি, আল মারকাজুল আল ইসলামী, আল ইসলাম মার্টেনস ব্রিগেড, সত্যবাদ, মুসলিম মিল্লাত, শরিয়া কাউন্সিল, জমিয়তে আহলে হাদিস আন্দোলন, আহলে হাদিস আন্দোলন বাংলাদেশ, তাজির বাংলাদেশ, হায়াতুর ইলাহা, ফোরকান মুভমেন্ট, জামিয়াতুল এহজিয়া এরতাজ, আনজুমানে তালামিজ ইসলামিয়া, কলেমার জামাত, সাহাবা পরিষদ, কাতেল বাহিনী, মুজাহিদিন-ই-তাজিম, এশার বাহিনী, আল ফাহাদ, হরকাতুল মুজাহিদিন ও জাদিদ আল কায়দা, হিজবুল মাহদি, হিজবুল্লাহ ইসলামী সমাজ, তামীরউদ্দীন বাংলাদেশ মতো জঙ্গি সংগঠনগুলোও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান নিয়ে ছোট ছোট টিম তৈরি করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে ক্যাম্পে আরাকানভিত্তিক জঙ্গি ও সশস্ত্র সন্ত্রাসী সংগঠন সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে বলে তথ্য প্রকাশ করেছেন মেজর জেনারেল (অব.) মুনীরুজ্জামান ও তার গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ। মুনীরুজ্জামান তার পর্যবেক্ষণে বলছেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের মধ্য দিয়ে বড় ধরনের উগ্র মতবাদ ছড়িয়ে দেয়ার একটা ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে।

যেখানে বিভিন্ন গোষ্ঠী তাদের উগ্র মতবাদ দিয়ে নিরীহ রোহিঙ্গাদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে।’ বড় ধরনের উগ্র মতবাদ ছড়িয়ে দেয়ার ও বিস্তার লাভ করার একটা ক্ষেত্র সৃষ্টি হয়েছে। একইসঙ্গে দেখা যাচ্ছে যে, এখান থেকে বিভিন্ন গোষ্ঠী সদস্য সংগ্রহ করার জন্য চেষ্টা করছে।

আমরা ইতোমধ্যে জানি, আরসা নামে যে সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের মধ্যে সংগঠিত হয়েছে তারা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ভেতর থেকে সদস্য সংগ্রহের জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছে।

পর্যবেক্ষণ বলছে, ইতোমধ্যে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেয়ার হুমকি এসেছে আল কায়েদার পক্ষ থেকে। বিশেষ করে ইয়েমেন ভিত্তিক আল কায়েদা এরই মধ্যে হুমকি দিয়েছে।

এছাড়া তালেবান, সোমালিয়ার আল শাবাব গোষ্ঠী এবং ইসলামিক স্টেটপন্থি গ্রুপগুলো মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের আহ্বান জানাচ্ছে।

মুনিরুজ্জামান আরও জানিয়েছেন, ইদানিং আমরা দেখতে পেয়েছি যে চেচেন বিভিন্ন গোষ্ঠীর কাছ থেকে তাদের প্রতি সমর্থন এসেছে। ইন্দোনেশিয়ার বেশকিছু উগ্র মতবাদের গোষ্ঠীর কাছ থেকে শুধু সমর্থনই আসেনি, তারা সেখানে একটা নতুন করে ব্যাটালিয়ন সংগঠন করার চেষ্টা করছে।

বিভিন্ন ভলান্টিয়ার সংগ্রহ করে ওখানে (ইন্দোনেশিয়া) প্রশিক্ষণ নিয়ে এখানে এসে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে তারা সংগ্রামে লিপ্ত হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে এবং ইতোমধ্যে তারা বেশকিছু ভিডিও ইন্টারনেটে আপলোড করেছে।

উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করছে একটি স্বার্থান্বেষী মহল। এ নিয়ে গত ১৬ মে ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে উভয়ে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৬ মে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ঢাকাস্থ চীনা রাষ্ট্রদূত ঝ্যাং জু। বৈঠকে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা উপস্থিতির কারণে এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বিঘ্নিত হতে পারে।

কিছু স্বার্থান্বেষী মহল রোহিঙ্গাদের জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ করছে। এ কারণে তাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন করা জরুরি। এ সময় রোহিঙ্গাদের জন্য চীনের দেয়া মানবিক সহায়তাকে সাধুবাদ জানিয়ে মিয়ানমার রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যাতে সঠিক পথে হাঁটে, সে বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেইজিংয়ের জোরালো সহযোগিতা চান।

টেকনাফে সর্বত্র বিরাজ করছে আল-ইয়াকিনের নেতা হাকিম আতংক। গত বছর তার আস্তানায় হানা দিয়ে ১৫টি ওয়াল শ্যুটার গান ও দুটি রিভলভার এবং ৪৪২ রাউন্ড গুলিসহ দুই সহযোগীকে আটক করেছে র্যাব-৭। এরপর আরও বেপরোয়া হয়ে সে একের পর এক অপহরণ, গুম হত্যা চালাতে থাকে।

তার ভয়ে পল্লান পাড়া ও উপজেলা কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকার অনেক পরিবার এখনো ঘর ছাড়া। তার হাতে অপহূত পল্লান পাড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাফেজসহ অন্তত অর্ধডজন মানুষের এখনো খোঁজ নেই বলে জানা গেছে। রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরু হলে সে নিজেকে রোহিঙ্গা বিদ্রোহী সংগঠন আল ইয়াকিন-২ এর নেতা দাবি করে ইউটিউবে বেশ কয়েকটি ভিডিও আপলোড করে।

এরপর সে আরও বেশি আলোচিত হয়ে উঠে। স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে তার গোপন যোগাযোগ রয়েছে বলে এলাকায় জনশ্রুতি রয়েছে। সমপ্রতি র্যাব-৭ তার আস্তানায় ধারাবাহিক কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে তার শ্যালকসহ কয়েক সহযোগীকে আটকের পর জনমনে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও হাকিম আটক না হওয়ায় আতঙ্ক পুরোপুরি কাটেনি।

এদিকে উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গা মো. ইউনুছের নেতৃত্বে আল-ইয়াকিন গ্রুপ সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দুই রোহিঙ্গা যুবককে অপহরণপূর্বক ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ— রোহিঙ্গা নেতাসহ বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গাকে অপহরণ করে খুন করেছে আল-ইয়াকিন নামের একটি সংগঠন। কুতুপালং অনিবন্ধিত ক্যাম্পে হানা দিয়ে ই-১ ব্লকের নেতা আয়ুব মাঝি, কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পের শরণার্থী আলী আহমদের ছেলে মো. সেলিমকে তাদের ঘর লুটপাট করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাদের লাশ উখিয়া থানা পুলিশ উদ্ধার করে।

একই ভাবে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা গত ২৩ মে কুতুপালং নিবন্ধিত শরণার্থী ক্যাম্পের মালয়েশিয়া ফেরৎ মৃত ইমাম হোসেনের ছেলে মো. শফি প্র. বলিকে (২৬) রাতের অন্ধকরে শিবির থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। মুক্তিপণ না দেয়ায় অপহরণের তিন দিনের মাথায় ২৫ মে সকালে পার্শ্ববর্তী মধুর ছড়া জঙ্গল থেকে লাশ উদ্ধার করে উখিয়া থানা পুলিশ।

গত ৯ জুলাই রোহিঙ্গা শিবিরে দুর্ধর্ষ জঙ্গি রোহিঙ্গা দোস্ত মোহাম্মদকে (৩০) আটক করে পুলিশ। টেকনাফের নয়াপাড়া শিবির থেকে টেকনাফ পুলিশ তাকে আটক করে। দোস্ত মোহাম্মদ রোহিঙ্গা জঙ্গি সংগটন ‘আল ইয়াকিন’র একজন দুর্ধর্ষ জঙ্গি হিসাবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে নানা অপরাধজনক কাজে জড়িত বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির বলেছেন, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের জঙ্গি কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য প্ররোচনা দেয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বহু এনজিও ওদের (রোহিঙ্গাদের) রেডিক্যালাইজড করছে, জেহাদে উদ্বুদ্ধ করছে। এই তহবিল শুধু মধ্যপ্রাচ্য থেকে নয়, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকেও আসছে।

কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. আয়াছুর রহমানি বলেন, ‘মানবতাকে পুঁজি করে রোহিঙ্গারা সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কাজে জড়িত হয়েছে। নিজেদের মধ্যে মানবপাচার ও মাদক কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। তারা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে পড়েছে। তারা নিজেরাই খুন-খারাবিতে জড়িয়ে পড়ছে।’ ইতোমধ্যে কক্সবাজারের বিভিন্ন লোকালয়ে রোহিঙ্গা ঢুকে পড়েছে এবং স্থানীয়রা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও জানান তিনি।

কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন এ বিষয়ে আমার সংবাদকে বলেন, রোহিঙ্গাদের বড় একটি অংশ নিয়ে আমাদের ঝুঁকি আছে। যে কেউ তাদেরকে উস্কে দিতে পারে। তাদেরকে ব্যবহার করতে পারে। স্থানীয়রা জঙ্গি সংগঠন আল-ইয়াকিনের আতঙ্কে আছে বলে অভিযোগ আছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, আল-ইয়াকিনের কার্যক্রম এখনো আমাদের চোখে পড়েনি, আমরা সব সময় খোঁজখবর রাখছি। তবে রোহিঙ্গা যারাই সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে আমরা তাদের বিরুদ্ধে সাথে সাথে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে মিয়ানমারের জঙ্গি সংগঠনগুলোর আধিপত্য রয়েছে বলে স্থানীয়দের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে; আমার সংবাদের পক্ষ থেকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বেশ কিছু সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলছে। উগ্র রোহিঙ্গারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত হচ্ছে বলে আমরা খবর পাচ্ছি। এ জন্য গোয়েন্দা সংস্থাকে বিশেষভাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নামানো হয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ডিজিএফআই, এনএসআই সদস্য সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের সকল কার্যক্রমে তারা ( গোয়েন্দা) নজর রাখছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর সীমানায় পড়া দুইজন ইউএনওকে সার্বক্ষণিক নজর রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত