শিরোনাম

কোচিংবাণিজ্য বন্ধে ফের কঠোর হচ্ছে সরকার

প্রিন্ট সংস্করণ॥রাসেল মাহমুদ  |  ০৯:২৯, আগস্ট ২৫, ২০১৯

গত এক দশকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রায় সব অঞ্চলেই ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে নানা ধরনের কোচিং সেন্টার। আর এসব কোচিংয়ের সাথে সরাসরি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও জড়িত রয়েছেন।

কোচিংবাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন সময় শিক্ষকদের শাস্তির আওতায়ও আনা হয়েছে। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে সরকার ২০১২ সালে একটি নীতিমালাও করে।

কিন্তু কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না কোচিংবাণিজ্য। শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে কিছু অসাধু শিক্ষক অদ্যাবধি চালিয়ে যাচ্ছেন কোচিংবাণিজ্য। এবার এই সিন্ডিকেটকে অকার্যকর করে কোচিং বন্ধ করতে কঠোর হচ্ছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিংবাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীতিমালাটির বিস্তরণ এবং মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদারকরণের জন্য সভা করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি সপ্তাহের সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এতে সভাপতিত্ব করবেন বলে জানা গেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। ভিকারুননেসা নূন স্কুল এন্ড কলেজসহ রাজধানীর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সরাসরি কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ পায় দুদক।

এদের বিরুদ্ধে কিছু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলেও অনেক শিক্ষক এখনো কোচিংয়ের সাথে জড়িত। এ অবস্থায় সরকারকে কঠোর হওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

জানা যায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা প্রণয়নের পর এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি রিট করেন পাঁচ শিক্ষার্থীর অভিভাবক। চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট সরকারের করা নীতিমালাটি বৈধ ঘোষণা করে রায় দেন।

নীতিমালায় সরকারি-বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক তার নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে বা প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না বলা রয়েছে।

২০১২ সালে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা নীতিমালায় বলা হয়, কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং করাতে পারবেন না। তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানের অনুমতি নিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ছাত্রছাত্রীর তালিকা, রোল, নাম ও শ্রেণি উল্লেখ করে জানাতে হবে। নীতিমালায় আরও রয়েছে, অভিভাবকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা করতে পারবেন।

এ ক্ষেত্রে মহনগরী এলাকার প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মাসে ৩০০ টাকা, জেলা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২০০ এবং উপজেলা ও অন্যান্য এলাকার শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ১৫০ টাকা নেয়া যাবে।

তবে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ইচ্ছা করলে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের এই অতিরিক্ত কোচিংয়ের টাকা কমাতে বা মওকুফ করতে পারবেন। এছাড়া নীতিমালা অনুযায়ী অতিরিক্ত ক্লাসের ক্ষেত্রে একটি বিষয়ে মাসে কমপক্ষে ১২টি ক্লাস নিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে প্রতি ক্লাসে সর্বোচ্চ ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবে। নীতিমালায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিকেও কোচিং বাণিজ্য রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হয়েছে।

পাশাপাশি প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে কোচিং বাণিজ্য বন্ধে মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নীতিমালা না মানলে শিক্ষকের এমপিও স্থগিত, বাতিল, বেতন-ভাতা স্থগিত, বেতনের ধাপ অবনমিতকরণ, সাময়িক বা চূড়ান্ত বরখাস্ত অথবা নন-এমপিও শিক্ষকদের ক্ষেত্রে বেতন-ভাতা স্থগিত, বেতনের ধাপ অবনমিতকরণ, সাময়িক বা চূড়ান্ত বরখাস্তেরও বিধান রাখা হয়েছে।

আর নীতিমালা ভঙ্গকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান ব্যবস্থা না নিলে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেয়াসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধিভুক্তি বাতিলের কথা বলা হয়েছে। নীতিমালায় থাকলেও অনেক শিক্ষকই আইন মানছেন না। সরকারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চালিয়ে যাচ্ছেন কোচিং।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোচিং বাণিজ্য বন্ধ করতে না পারলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি শিক্ষার্থীরা আস্থা হারাবে। এতে সামগ্রিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজধানীর একটি স্কুলের একজন সহকারী শিক্ষক বলেন, আগে আমাদের প্রতিষ্ঠানেই বিভিন্ন কৌশলে কোচিং চলতো। বছর খানেক হলো বন্ধ করা হয়েছে। তবে অনেক শিক্ষকই বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর নামে কোচিং বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্বীকার করেন ওই শিক্ষক।

এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব আনোয়ারুল হক জানান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ এর সুষ্ঠু বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নীতিমালাটির বিস্তরণ এবং মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও জোরদারকরণের জন্য এই সভা আহ্বান করা হয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত