শিরোনাম

২০ বছরেও মেলেনি পরিবহন চরম বিড়ম্বনায় শিক্ষার্থীরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥অনিক আহমেদ, গবি প্রতিনিধি  |  ০৯:৫০, আগস্ট ২৫, ২০১৯

প্রতিষ্ঠার বিশ বছর পেরিয়ে গেলেও সাভারের গণবিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) শিক্ষার্থীদের জন্য এখনো পরিবহনের কোনো ব্যবস্থা করা হয়নি। এমতাবস্থায় যাতায়াতের ক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

জানা যায়, ১৯৯৮ সালের ১৪ জুলাই রাজধানীর অদূরে সাভার উপজেলার নলামে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে গণবিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ‘শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো পরিবহনের ব্যবস্থা করবে না বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন’ মর্মে প্রসপেক্টাসে উল্লেখ করা হয়।

এ কারণে প্রতিনিয়ত পরিবহন জনিত বিভিন্ন সমস্যা ও ভোগান্তিতে পড়লেও কখনো জোরালোভাবে পরিবহনের দাবিতে মুখ খোলেনি শিক্ষার্থীরা। তবে সম্প্রতি দেশে সড়ক দুর্ঘটনা, পরিবহন শ্রমিকদের অসদাচরণ এবং বাসে যৌন হয়রানি, ধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনা ব্যাপক হারে বেড়েই চলেছে।

আর দশটা সাধারণ ঘটনার মতো পাবলিক বাসে পরিবহন শ্রমিকদের কাছে যৌন হয়রানির শিকার হওয়া যেন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া নারী শিক্ষার্থীদের জন্য।

দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা যখন বিপদের সম্মুখীন, তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য মতে, যাতায়াতের সময় শিক্ষার্থী ভাড়া অর্ধেক হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নিকটবর্তী বাসস্ট্যান্ডে থামতে চায় না লোকাল বাসগুলো। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দেখা মেলে বাসের।

ভাড়া নিয়ে সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে মালিকের দোহাই দিয়েই পরিত্রাণ পেয়ে যাচ্ছেন বাসের হেলপার আর ড্রাইভাররা। এছাড়া বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি আলোচিত- বাসে যৌন হয়রানি নিয়ে নারী শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের চিন্তা যেন পিছু ছাড়ছেই না।

মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত এক অভিভাবক বলেন, অনেক আশা করে মেয়েকে দূরে লেখাপড়া শিখাতে পাঠিয়েছি। কিন্তু বাসে প্রতিনিয়ত নারীদের যৌন হয়রানির বিষয়ে সবসময় চিন্তায় থাকি। শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত দ্রুত তাদের জন্য পরিবহনের ব্যবস্থা করা।

গণবিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ ঢাকার মিরপুর, আব্দুল্লাহপুর, হেমায়েতপুর, সাভার ও মানিকগঞ্জ এলাকা থেকে যাতায়াত করে থাকে। সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল হওয়ায় সকালে বাসে যাত্রীর প্রবল চাপ থাকে।

তাই দূর থেকে যাতায়াতকারী এসব শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে প্রতিনিয়ত সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাছাড়া, রাস্তায় ট্র্যাফিক জ্যাম ও মানুষের প্রবল চাপ থাকায় মাঝে মাঝেই সকালের ক্লাসে সময়মতো উপস্থিত হতে পারছেন না বলে জানান তারা।

সাভার থেকে যাতায়াতকারী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভেটেরিনারি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক মেয়ে শিক্ষার্থী বলেন, বাসা থেকে বের হয়েই প্রতিদিন সকালে বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়।

অনেক সময় দাঁড়িয়ে থাকার পরও সিটিং সার্ভিস বাসগুলো নিতে চায় না। বাধ্য হয়ে যখন লোকাল বাসে উঠি তখন কেমন বিব্রত অবস্থায় পড়ি, তা বুঝানোর ভাষা আমার জানা নেই! শিক্ষার্থীদের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বাস থাকলে, এই পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।

এদিকে ক্যাম্পাস সংলগ্ন বিভিন্ন হোস্টেল ও মেসের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই এলাকায় দীর্ঘদিন যাবত বিদ্যুৎ সমস্যা রয়েছে। নিয়মিতভাবে সপ্তাহে দু-একদিন সারাদিন বিদ্যুৎ থাকে না।

মাঝে মাঝে ঘোষণা ছাড়াও অনেক সময় লোডশেডিংয়ে পড়তে হয়। তাছাড়া এসব এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কের ঝামেলাও প্রচুর। তাই এ ধরনের সমস্যা এড়াতে দূরে যেতে চাইলেও পরিবহন না থাকাতে বাধ্য হয়েই অবস্থান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

দীর্ঘদিন ধরে চলমান পরিবহন সমস্যার সমাধানের ব্যাপারে কথা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. দেলোয়ার হোসেনের সাথে। তিনি জানান, আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে দূর থেকে যাতায়াতকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা খুব বেশি ছিল না।

তাই প্রশাসন পরিবহনের ব্যবস্থা করেনি। তবে এখন যেহেতু এ ধরনের শিক্ষার্থী সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তাই তাদের সবরকম সুবিধা করে দেয়া কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এজন্য আমি বিষয়টি শিগগিরই ট্রাস্টি বোর্ডের মিটিংয়ে উত্থাপন করবো।

বিশ্ববিদ্যালয় জ্ঞান আহরণের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ। সেই জ্ঞান আহরণ যেন কোনোভাবে বিঘ্নিত না হয় এবং কর্তৃপক্ষ যেন সবার জন্য জ্ঞান আহরণের পথ সুগম করে, এমনটাই কাম্য গণবিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত প্রায় পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত