শিরোনাম

আসছে ৬১ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

প্রিন্ট সংস্করণ॥বেলাল হোসেন  |  ০২:৫৪, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঝরে পড়া রোধ এবং মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত কাজ চলছে। এছাড়াও ৬১ হাজার ১৬৬ জন শিক্ষকের জন্য নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

তবে মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, এই সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষকদের নিয়োগ পরীক্ষার ফল দেয়া হতে পারে।

পর্যায়ক্রমে এ শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির প্রথম যৌথ বার্ষিক সভায় নতুন এ পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত পরিকল্পনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, বর্তমানে দেশে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ২২ হাজার ৭৬৬ জন।

এর মধ্যে বর্তমান সরকারের সময় ১ লাখ ৩০ হাজার ১০০ জন নিয়োগ পেয়েছেন। বর্তমানে আরও নিয়োগ কার্যক্রম চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলমান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা শেষ হলে উত্তীর্ণদের আগামী ২০২০ সালের শুরুতেই চূড়ান্ত নিয়োগ দেয়া হবে।

পরে পর্যায়ক্রমে ৬১ হাজার নতুন পদের জন্য শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, চলমান শিক্ষক নিয়োগের ফল আমরা চলতি মাসেই দিয়ে দিবো। এই রেজাল্ট দেয়া শেষ হয়ে গেলে নতুন করে ৬১ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে।

তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে এ নিয়োগ কার্যক্রম শেষ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা প্রাক প্রাথমিক শুরু করতে যাচ্ছি। বর্তমানে আবাসন সমস্যার কারণে একটু সময় লাগছে। খুব শিগগিরই চালু করা হবে। প্রাক প্রাথমিকের জন্য নতুন শিক্ষক নেয়ার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

জাকির হোসেন বলেন, নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মানোন্নয়নে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, এখন শিক্ষক হতে গেলে ছেলে-মেয়ে উভয়কে ডিগ্রি পাস হতে হবে।

আমাদের আগের অনেক এসএসসি, এইচএসসি পাশের শিক্ষক আছে সাবইকে উন্নত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা একছাতার নিচে আনার কাজ করে যাচ্ছি।

এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষার মান আগের চেয়ে আরও ভালো হবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।

এদিকে লিখিত পরীক্ষার ১ম ধাপ গত ২৪ মে, ২য় ধাপ ৩১ মে, ৩য় ধাপ ২১ জুন এবং ৪র্থ ধাপের পরীক্ষা ২৮ জুন অনুষ্ঠিত হয়। মোট ৬১ জেলার শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয়।

তবে রেজাল্ট আরও আগে দেয়ার কথা থাকলেও অতিরিক্ত পরীক্ষার্থীর চাপ থাকায় তা হয়নি বলে জানা যায়।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মকর্তা জানান, লিখিত পরীক্ষার ফল তৈরির কাজ প্রায় শেষ।

বুয়েটে ওএমআর সিট মূল্যায়ন কাজও শেষ হয়েছে। লিখিত পরীক্ষায় প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় দ্রুত ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত থাকলেও ফল তৈরির কাজ শেষ করতে দুই মাসের বেশি পার হয়ে যাচ্ছে, অথচ এখনো তা প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

প্রায় ১২ হাজার শিক্ষক নিয়োগে প্রার্থীর সংখ্যা ২৪ লাখের বেশি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৩০ জুলাই ‘সহকারী শিক্ষক’ নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ১ থেকে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন কার্যক্রম শেষ হয়।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত