শিরোনাম

আটকে আছে গৃহঋণ বিতরণে সাফল্য

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসিফ শওকত কল্লোল, জাহাঙ্গীর আলম  |  ০২:৫৬, সেপ্টেম্বর ০৯, ২০১৯

অন লাইনে বেতন বিল দাখিলের আওতায় না আসায় এখন বেশির ভাগ সরকারি চাকরিজীবী গৃহঋণের জন্য আবেদন করতে পারছেন না।

এ জন্য গত আট মাসে সাড়ে ১২ লাখ সরকারি চাকরিজীবীর মাত্র ১৫০ জন ব্যাংকের মাধ্যমে গৃহঋণ পেয়েছেন।

ব্যাংকের মাধ্যমে অনেক সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী গৃহঋণের জন্য আবেদন করেছেন কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয় তাদের ফিরিয়ে দিচ্ছে। বেতন ব্যবস্থা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঋণের সুদের ভর্তুকি রেকর্ড রাখা সম্ভব হয় না।

এ কারণে অর্থ মন্ত্রণালয়ের গৃহঋণ কোষ চাকরিজীবীদের গৃহঋণের ক্ষেত্রে অন লাইনে বেতন বিল দাখিলের শর্তের কথা উল্লেখ করেন।

বেতনব্যবস্থা ম্যানুয়াল থেকে ইলেক্ট্রনিক ট্রান্সফার (ইএফটি) পদ্বতিতে পরিবর্তনের বিশ্বব্যাংকের প্রকল্পের আওতায় অর্থ মন্ত্রণালয় ও মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ বিভাগ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অনলাইন বেতন বিল দাখিলের আওতায় আনা হয়েছে।

প্রায় ৪৭টি মন্ত্রণালয় এখনো ইএফটির আওতায় আসেনি। আর বিভাগীয় শহরগুলোতে কর্মকর্তাদের ইএফটির আওতায় আনা হলেও কর্মচারীরা এখনো ইএফটি আওতায় আসেনি।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের সব সরকারি চাকরিজীবীদের অনলাইনে বেতন বিল দাখিলের আওতায় আনতে কয়েক বছর সময় লাগবে।

বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে না পারলে কেউ ঋণ নিতে আগ্রহী হবেন না। আর বেতন অটোমেশন ছাড়া এ ঋণ পাওয়াও যাবে না।

গৃহঋণ কোষ আজ এর কার্যক্রমের অগ্রগতি বৈঠকে বসবেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব হাবিবুর রহমান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, তারা সরকারি চাকরিজীবীদের অনলাইনে বেতন বিল দাখিলের আওতায় আনতে চান কিন্তু মন্ত্রণালয়গুলো এগিয়ে আসছে না।

প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে অন্তত ১৫ বার বলার পর তারা অনলাইনে বেতন বিল চালু করেছে। এখন যেহেতু সরকারি চাকরিজীবীদের গৃহঋণ দেওয়া হবে তাই এই সুযোগে সবাইকে এর আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে।

আশা করা যায়, প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় এখন নিজ আগ্রহে এ ব্যবস্থার আওতায় আসবে। সরকার চলতি অর্থ বছরে বাজেটে গৃহঋণের জন্য ৪০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকার ঋণের সুদের ভর্তুকি দিয়েছে।

তবে অর্থ মন্ত্রণালয় ধারণা করছে, চলতি অর্থ বছরে চাকরিজীবীরা এই পরিমাণ অর্থ ঋণ নেবেন না। গৃহঋণের সর্বোচ্চ সুদের হার ১০ শতাংশ। কিন্তু ৫ শতাংশ সুদের হার সরকার ভর্তুকি হিসেবে দিচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীরা মাত্র ৫ শতাংশ সুদে ঋণটা পাচ্ছে।

জানতে চাইলে এ ব্যাপারে আবাসন ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন রিহ্যাবের সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী ভূইয়া আমার সংবাদকে বলেন, সরকার সার্বিক দিক বিবেচনা করে সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য ৫ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করেছে। এটা ভালো দিক। এর ইতিবাচক সাড়াও পাওয়া যাচ্ছে। তবে অন লাইনে বেতন বিল দাখিলের বিষয়ে একটা জটিলতা রয়েছে।

তিনি বলেন, আবাসন খাতে যে মন্দা ছিলো তা দূর করতে কিছুটা সহায়ক হয়েছে। ফলে বলা যায় আবাসন ব্যবসা কিছুটা চাঙ্গা। আশা করি এর পরিধি আরও বাড়বে। কারণ নতুন উদ্যোগের কারণে কিছু সমস্যা থাকতে পারে। আস্তে আস্তে এর চাহিদা আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রসঙ্গত, দেশে বর্তমানে সরকারি ও আধা-সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ২৪ লাখ। তাদের মধ্যে আপাতত ১২ লাখ গৃহঋণ সুবিধা পাবেন। গত ৩০ জুলাই গৃহ নির্মাণ ঋণ নীতিমালা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করে অর্থ বিভাগ।

নীতিমালা অনুযায়ী, চাকরি স্থায়ী হওয়ার পাঁচ বছর পর থেকে এবং সর্বোচ্চ ৫৬ বছর বয়স পর্যন্ত গৃহঋণের জন্য আবেদন করা যাবে।

বেতন স্কেলের গ্রেড ভেদে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ এবং সর্বনিম্ন ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়া যাবে। ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ডসহ ২০ বছরে ওই ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত