শাস্তি পাচ্ছেন পদধারীরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসাদুজ্জামান আজম  |  ০১:০৮, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিরুদ্ধে অংশ নেয়া প্রার্থী ও মদতদাতাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত কার্যকর শুরু করেছে আওয়ামী লীগ।

প্রথমে যারা দলীয় পদে থাকাবস্থায় নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, গত রোববার থেকে তাদের শোকজ চিঠি পাঠানো হচ্ছে। চিঠি প্রাপ্তির তিন সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে বহিষ্কারের মতো সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

এরপর পর্যায়ক্রমে ওইসব প্রার্থীদের মদতদাতা স্থানীয়, জেলা এবং কেন্দ্রীয় পদধারীদেরও কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হবে। মদতদাতাদের তালিকায় সাংসদসহ মন্ত্রিপরিষদ সদস্যও রয়েছেন।

এর মধ্য দিয়ে মূলত পার পেয়ে যাচ্ছেন মদদদাতারা আর শাস্তি পাচ্ছেন শুধু পদধারীরা। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য মতে, গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকাবিরোধী দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, সাংসদ ও দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ।

দলীয় সিদ্ধান্ত কার্যকরের আগ মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা দেখা দেয়। প্রথমে বন্যার কারণে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থেকে সরে আসে আওয়ামী লীগ।

এরপর এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি, বন্যা-পরবর্তী কার্যক্রম, পদ্মা সেতুকে ঘিরে গুজব ও সামাজিক অস্থিরতার কারণে সাংগঠনিক ব্যবস্থার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেয় আওয়ামী লীগ।

এছাড়া আগস্ট মাসজুড়ে দলীয় কর্মসূচির জন্যও ওই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।

সর্বশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর দলের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কার্যকরের উদ্যোগ নেয়া হয়।

ওইদিনের বৈঠক শেষে দলটির সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি বলেন, ‘উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে যারা বিদ্রোহী ছিলো, তাদের শোকজ করার সিদ্ধান্ত আগে থেকেই ছিল।

আজকে সেটা বাস্তবায়নের প্রসেস কীভাবে দ্রুত করা যায়, সেটা আলোচনা করেছি। রোববার থেকে ১৫০টির মতো শোকজ নোটিস ইস্যু হবে।’

এর আগে গত ২৯ মার্চ দলীয় শৃঙ্খলা না মানা নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত মোতাবেক উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের মনোনীত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে যেসব মন্ত্রী ও সাংসদ অবস্থান নিয়েছিলেন তাদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেয়া হয়।

দলের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকরা এই তালিকা করে দলের কার্যনির্বাহী কমিটিতে জমা দিতে বলা হয়। পরবর্তীতে সাংগঠনিক সম্পাদকদের দেয়া তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে গত ১২ জুলাই বৈঠকে ব্যবস্থা নেয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ধানমন্ডিস্থ কার্যালয় সূত্র মতে, গত রোববার থেকে পদধারীরা যারা নৌকার বিরুদ্ধে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন তাদের চিঠি দেয়া শুরু হয়েছে। শোকজ নোটিসের জবাব পাওয়ার পর সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় পর্যালোচনা করে চূড়ান্তভাবে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হবে।

এরপর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠকে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত বহিষ্কার হওয়া বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদতদাতাদের তালিকা প্রকাশ করা হতে পারে।

যাদের পদ নেই, কিন্তু বিদ্রোহী হয়ে নির্বাচন করেছেন তাদের বিষয়ে এবং মদতদাতাদের বিরুদ্ধে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিদ্রোহীদের মদতদাতা তালিকায় ১৫ জন কেন্দ্রীয় নেতা, ছয়জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সাংসদসহ ৬২ রয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতের শাস্তি যা হোক। শোকজ চিঠি মধ্য দিয়েই রাজনীতির মাঠে এক ধরণের শাস্তি পাচ্ছেন পদধারীরা। তারা রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে যাচ্ছে।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ বলেন, দলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক পদধারী বিদ্রোহীদের চিঠি পাঠানো হচ্ছে। তিন সপ্তাহের মধ্যে চিঠির জবাব দিতে বলা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে মদতদাতাদের কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো হবে।

সূত্র মতে, শোকজ চিঠি যাচ্ছে এমন বিদ্রোহী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী অলিদ ইসলাম, গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট সামসুল আলম প্রধান, কালিয়াকৈর উপজেলার

সভাপতি কামাল উদ্দিন সিকদার, ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার সভাপতি নাসির উদ্দিন জিলু, ধামরাই উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোয়াদ্দেছ হোসেন, কালিহাতী উপজেলার সাধারণ সম্পাদক আনছার আলী, চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় দর্শনা পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি আলী আজগর টগরের আপন ভাই আলী মনসুর বাবু, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাংসদ সোলায়মান জোয়ার্দ্দার সেলুনের ভাই রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক নঈম হাসান জোয়ার্দ্দার, জীবননগর উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান, আলমডাঙ্গা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আয়ুব আলী, মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সভাপতি জগলুল হালদার ভুতু, রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফরিদ হাসান ওদুদ, টাঙ্গাইল জেলার উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাহমুদুল হাসান মারুফ, মুন্সীগঞ্জ জেলা যুবলীগের অর্থ সম্পাদক মশিউর রহমান মামুন, নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সাদেক, ফরিদপুরের গোট্টি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ মাতুব্বর, মাদারীপুর সদর উপজেলার কার্যকরী সদস্য অ্যাডভোকেট ওবাইদুর রহমান কালু খান, নিকলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আহসান মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুছ জনি, শরীয়তপুর জেলার সহ-সভাপতি ফজলুল হক ঢালী, ভাঙ্গা উপজেলার সদস্য এসএম হাবিবুর রহমান, আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সদস্য একেএম জাহিদুল হাসান, ময়মনসিংহের ফুলপুর পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউল করিম রাসেল, গৌরীপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন খান, ময়মনসিংহের ধোবাউড়া উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ডেভিড রানা চিসিম, নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাসান মাহমুদ জুয়েল, ভালুকা উপজেলা কৃষক লীগের সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, মুক্তাগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল হাই আকন্দ, শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার কার্যকরী সদস্য মোকছেদুর রহমান লেবু, নকলা উপজেলার সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন, জেলা শাখার সদস্য এডিএম শহীদুল ইসলাম, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি সম্পাদক সোলাইমান হোসেন, নেত্রকোনা জেলার সদস্য মাঈনুল হক কাসেম, দুর্গাপুর উপজেলা মহিলা সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস আরা ঝুমা তালুকদার, বাগাতিপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য নাটোর-১ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি শহীদুল ইসলাম বকুলের ছোটভাই ওহিদুল ইসলাম গকুল, বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক, নওগাঁর সাপাহার উপজেলা সাধারণ সম্পাদক শাহাজান হোসেন, বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাসিবুল হাসান সুরুজ, পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আবদুল হামিদ মাস্টার, জেলার উপদেষ্টা গোলাম হোসেন গোলাপ, নওগাঁর পোরশা উপজেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহ মঞ্জুর মুর্শেদ চৌধুরী, বদলগাছী উপজেলা শাখার সাধারণ সদস্য শামসুল আলম খান, রানীনগর উপজেলার সাধারণ সদস্য আনোয়ার হোসেন হেলাল, নাটোর জেলার তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার সহ-সভাপতি আবদুস সালাম আকন্দ, গাইবান্ধা জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি, ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার ভাগ্নে জাহাঙ্গীর কবীর, দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খায়রুল আলম রাজু, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী সরকার, ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলী আসলাম জুয়েল, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক শাহ মোহাম্মদ আবুল কালাম বারী পাইলট, বরিশালের হিজলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বেলায়েত হোসেন ঢালী, পিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠী) উপজেলার সদস্য আবদুল হক, মঠবাড়িয়া উপজেলার সদস্য রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, বরগুনা জেলা জাতীয় শ্রমিক লীগের সদস্য মনিরুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম সরোয়ার ফোরকান, পাথরঘাটা উপজেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা গোলাম কবির, পটুয়াখালী জেলার কার্যনির্বাহী সদস্য আবু বকর সিদ্দিক, মাগুরা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন, নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শিকদার আবদুল হান্নান রুনু, মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুনুর রশিদ মুহিত, সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম লাল্টু, কালীগঞ্জ উপজেলা সাধারণ সম্পাদক সাঈদ মেহেদী, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলা সভাপতি শিকদার মোশারফ হোসেন সোনা, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, জেলা কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য নাজমুল ইসলাম কাজল (বাঘারপাড়া), জেলা মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক কাজী রফিকুল ইসলাম, ঝিনাইদহ জেলার উপ-দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর হোসাইন, সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আবুল কাশেম পল্লব, সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি, সুনামগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামী লীগের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতনের ভাই মোজাম্মেল হোসেন রোকন, মৌলভীবাজারের জুড়ীতে নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ মুইদ ফারুক, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ফজলুল হক চৌধুরী সেলিম এবং পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাচ্ছিরুল ইসলাম, কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সোহেল সরওয়ার কাজল, টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি নুরুল আলম, লক্ষ্মীপুর জেলা যুবলীগের সভাপতি একেএম সালাহউদ্দিন টিপু, কমলনগর উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মেজবাহ উদ্দিন বাপ্পি, কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শরীফ বাদশা, চকরিয়া উপজেলার সহ-সভাপতি ফজলুল করিম সাঈদী, লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার নেতা শরাফ উদ্দিন আজাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদস্য ফিরোজুর রহমান প্রমুখ।

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, বিদ্রোহী হিসেবে জয়ী উপজেলা চেয়ারম্যান খায়রুল আলম রাজু বলেন, নির্বাচনের আগে দলের সাধারণ সম্পাদকসহ সিনিয়র নেতারা বারবার বলেছেন, প্রতিযোগিতাময় করতে উন্মুক্ত, যে কেউ দাঁড়াতে পারে। আমরা সে কারণেই দাঁড়িয়েছি। শোকজ চিঠি হাতে পেয়েছি, জবাব দেব।

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান কাজী অলিদ ইসলাম বলেন, নির্বাচনের আগে দলের সুনির্দিষ্ট কোনো আপত্তি ছিল না।

বিএনপি না আসায় বরং দাঁড়ানোর পক্ষে ছিলো কেন্দ্র। এখন ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে, শোকজ চিঠি দেবে। আমি এখনো পাইনি, পাওয়ার পর অবশ্যই জবাব দেব।

এসময় তিনি আরও বলেন, আমি জেলা ছাত্র ও যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাবস্থায় উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলাম।

অন্যদিকে, মদতদাতাদের তালিকায় মন্ত্রিপরিষদ সদস্য আ ক ম মোজাম্মেল হক, গাজী গোলাম দস্তগীর (বীরপ্রতীক), মো. শাহাবউদ্দিন, জুনাইদ আহমেদ পলক, জাহিদ আহসান রাসেল, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া।

সংসদ সদস্যদের মধ্যে পাবনার অধ্যাপক আবদুল কুদ্দুস, নাটোরের শহীদুল ইসলাম বকুল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের এবাদুল করিম বুলবুল, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, ময়মনসিংহ-৯ আসনের আনোয়ারুল আবেদীন খান তুহিন, মুন্সীগঞ্জ সদরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর, চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সোলায়মান হক জোয়ার্দার, ঠাকুরগাঁওয়ের দবিরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জের মোয়াজ্জেম হোসেন, সাবেক নৌ-পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানসহ আরও অনেকের নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, আওয়ামী লীগের শৃঙ্খলা রক্ষায় নেত্রী কড়াকড়ি নির্দেশনা দিয়েছেন। দলে বিশৃঙ্খলাকারী কেউ ছাড় পাবে না। পর্যায়ক্রমে সবার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

পঞ্চমধাপের ৪৭৩টি উপজেলা নির্বাচনে ৩২০টি জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীরা। আর ১৩৬টি আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা।