শিরোনাম

এগিয়ে মূল সেতু পিছিয়ে নদীশাসন

প্রিন্ট সংস্করণ॥ফারুক আলম  |  ০১:১৫, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

শত জল্পনা-কল্পনা শেষে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ এগিয়ে চলছে। এ পর্যন্ত সেতুর কাজের সার্বিক অগ্রগতি ৭৩ শতাংশ শেষ।

আর মূল সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৮৩ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৭২ শতাংশ শেষ হয়েছে।

এছাড়া নদীশাসনের কাজের গতি পিছিয়ে থাকলেও সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ শতভাগ শেষ হয়েছে।

পদ্মা সেতুর সার্বিক অগ্রগতি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেতুর সবকটি পাইল ড্রাইভিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সেতুর ৪২টি পিয়ারের মধ্যে ৩১টি পিয়ারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

বাকি ১১টির কাজ চলমান আছে এবং তা আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে শেষ হবে। মাওয়া সাইটে এ পর্যন্ত ট্রাস এসেছে ২৭টি, যার মধ্যে ১৪টি স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও অবশিষ্ট স্প্যানগুলোর কাজ চীনে প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। মাওয়া ও জাজিরা ভায়াডাক্টের পাইলিং এবং পিয়ারের কাজ শেষ হয়েছে।

বর্তমানে পিয়ার ক্যাপের কাজ শেষ পর্যায়ে এবং গার্ডার স্থাপনের কাজ চলছে। পদ্মা সেতুর রেলওয়ে স্ল্যাবের জন্য মোট দুই হাজার ৯৫৯টি প্রি-কাস্ট স্ল্যাবের প্রয়োজন হবে।

এর মধ্যে দুই হাজার ৭৫৪টি স্ল্যাব তৈরির কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকি স্ল্যাব তৈরির কাজ চলতি মাসের মধ্যে শেষ হবে।

আর রোডওয়ে স্ল্যাবের জন্য মোট দুই হাজার ৯১৭টি প্রি-কাস্ট রোডওয়ে ডেকস্ল্যাবের প্রয়োজন হবে। যার মধ্যে এক হাজার ২৬৯টি স্ল্যাব তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি স্ল্যাব তৈরির কাজ চলমান আছে।

এক্ষেত্রে শুধু মূল সেতু কাজের চুক্তিমূল্য ১২ হাজার ১৩৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার মধ্যে এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৭৩২ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নদীশাসনের কাজের গতি একটু পিছিয়ে রয়েছে। এ পর্যন্ত নদীশাসনের কাজ ৬২ শতাংশ এবং আর্থিক অগ্রগতি ৪৮ শতাংশ শেষ হয়েছে।

যা মোট ১৪ কিলোমিটার নদীশাসন কাজের মধ্যে মাত্র ৬.৬০ কিলোমিটার সম্পন্ন হয়েছে। আর এই নদীশাসন কাজের চুক্তিমূল্য আট হাজার ৭০৭ কোটি ৮১ লাখ টাকার মধ্যে চার হাজার ১৮৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।

এছাড়াও সেতু প্রকল্প এলাকায় সবুজায়ন ও সৌন্দর্য বাড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাপক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এজন্য সেতুর উভয়পাশে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত এক লাখ ৬৯ হাজার ৯৫৭টি গাছ লাগানো হয়েছে।

সম্প্রতি পদ্মা সেতু প্রকল্পের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, এটি আমাদের স্বপ্নের প্রকল্প। সব মেগা প্রকল্পই বাস্তবায়নের সঠিক পথে রয়েছে।

আমাদের লক্ষ্য রয়েছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই পদ্মা সেতুর উপর দিয়ে গাড়ি চালানোর। যদি সেটি কোনো কারণে সম্ভব না হয় তাহলে ২০২০ সালের মার্চের মধ্যে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী সেটি উদ্বোধন করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, বহুল আলোচিত পদ্মা সেতু প্রকল্পটির যাত্রা শুরু হয় ২০০৭ সালে। সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই বছরের ২৮ আগস্ট ১০ হাজার ১৬১ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছিল।

পরে আওয়ামী লীগ সরকার এসে রেলপথ সংযুক্ত করে ২০১১ সালের ১১ জানুয়ারি প্রথম দফায় সেতুর ব্যয় সংশোধন করে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের মোট ব্যয় ৩০ হাজার ১৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকার মধ্যে শুরু থেকে গত জুন মাস পর্যন্ত খরচ হয়েছে ১৯ হাজার ৪২৪ কোটি টাকা।

মূল সেতু নির্মাণে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন কোম্পানি।

আর নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেক প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো কর্পোরেশন। দুই প্রান্তে টোল প্লাজা, সংযোগ সড়ক, অবকাঠামো নির্মাণ করছে দেশীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত