শিরোনাম

ভারত থেকে এলএনজি আমদানি : পাইপলাইন স্থাপনে ভারতীয় দুই কোম্পানির প্রস্তাব

প্রিন্ট সংস্করণ॥ আসিফ শওকত কল্লোল ও জাহাঙ্গীর আলম  |  ১১:৪৩, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৯

 

ভারত থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করতে পাইপলাইন স্থাপনে দুটি কোম্পানি প্রস্তাব দিয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি মন্ত্রণালয় ওই প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে। কোম্পানি দুটি হচ্ছে হাই-এনার্জি ও ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (আইওসিএল)। ভারত থেকে ক্রস বর্ডার পাইপলাইনের মাধ্যমে ২০২১ সালের মধ্যে আরও ২০০-৫০০ এমএম সিএফটি গ্যাস আমদানি করার পরিকল্পনা করছে মন্ত্রণালয়।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলেন।

এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চাইলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. নসরুল হামিদ আমার সংবাদকে বলেন, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। একটু সময় লাগবে বলে জানান তিনি।

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী মাসের (অক্টোবর) প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারত সফর করার সময় এসংক্রান্ত বিষয়ে চুক্তিও হতে পারে। দুটি ভারতীয় কোম্পানি এলএনজি আমদানির জন্য ভারত ও বাংলাদেশ সীমান্তে পাইপলাইন বসানোর ব্যাপারটা চূড়ান্ত করা হবে।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি উপদেষ্টার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ভারত সফর করেছিল।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের সচিব এবং পেট্রোবাংলা ওই দুই কোম্পানির প্রস্তাব পর্যালোচনা করে শিগগির একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করবে।

জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, প্রাথমিকভাবে ২০২১ সালে ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি আমদানি করবে সরকার।

সাতমাস আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছিলেন, ক্রস বর্ডার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে এলএনজি আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। সাতক্ষীরা দিয়ে এই গ্যাস পাইপলাইন বাংলাদেশে প্রবেশ করবে। তিনি জানান, এজন্য পাইপলাইন নির্মাণে দুই দেশই খরচ বহন করবে। ফলে ভারতের সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতার নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হবে।

জ্বালানি বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, আট মাস আগে ইন্ডিয়ান অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (আইওসিএল) এলএনজি রপ্তানির জন্য প্রথম প্রস্তাব দেয়। এ প্রস্তাব পাওয়ার পর এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)-এর সঙ্গে এরই মধ্যে পাইপলাইন নির্মাণে অর্থায়নের জন্য আলোচনা শুরু হয়।

জালানি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, ২০১৬ সালের ১১ জানুয়ারি আইওসিএল এলএনজি রপ্তানির জন্য ক্রস বর্ডার পাইপলাইন নির্মাণের প্রস্তাব দেয়। ওই বছরের ১৩ জুন উভয় দেশের প্রতিনিধি দল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে। এরপর ২০১৭ সালের এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরে এ বিষয়ে উভয় দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে জ্বালানি বিভাগকে আইওসিএল এলএনজি রপ্তানির টার্মশিট পাঠায়। এই টার্মশিট পাওয়ার পর পর্যালোচনার জন্য জ্বালানি বিভাগ একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করে। পরে পেট্রোবাংলার মাধ্যমে ক্রয়চুক্তির খসড়া আইওসিএলকে পাঠানো হলেও এখনো ভারতের পক্ষ থেকে কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো খসড়া গ্যাস ক্রয়চুক্তির বিষয়ে কোনো কিছু জানানো না হলেও ২০১৮ সালের ৩ আগস্ট ক্রয়চুক্তির পৃথক একটি খসড়া পাঠায় আইওসিএল। মূলত বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল সফরের সময় এ বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত