শিরোনাম
বাংলাদেশিদের জন্য মৃত্যুপুরী দক্ষিণ আফ্রিকা

খুনের সহযোগী বাঙালিই

প্রিন্ট সংস্করণ॥ নুর মোহাম্মদ মিঠু  |  ০১:৩৪, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

  • বাংলাদেশি অপরাধীদের অভয়ারণ্য দক্ষিণ আফ্রিকা
  • বাংলাদেশের বিভিন্ন গুরুতর মামলার আসামিরা আত্মগোপন করছে দক্ষিণ আফ্রিকায়
  • ব্যবসায়িক স্বার্থ সিদ্ধির জন্যই পার্টনারের লেলিয়ে দেয়া কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীর গুলিতে খুন হচ্ছে অধিকাংশ বাংলাদেশি
  • নেপথ্যে ইন্ধন দিচ্ছে কট্টর অভিবাসী বিদ্বেষী ইএফএফ পার্টির নেতা জুলিয়াস মালে মা

‘কি দরকার আছে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো এমন একটি দেশে গিয়ে ব্যবসা করার? কথায় কথায় খুন করে যারা, তাদের কাছে কেউই নিরাপদ নয়। ওরা মনে করে বাঙালিরা এসে তাদের অর্থনীতি দখল করেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য দখল করছে’- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

 

জীবন যেখানে অনিশ্চিত সেখানে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও যেন মলিন। পৃথিবীর বুকে এমনই দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিদিন ৫৮ জন খুনের ধারাবাহিকতায় উত্তীর্ণ দেশটিতে ক্ষণে ক্ষণেই জীবন হারানোর শঙ্কায় রয়েছে অভিবাসীরা। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কের জীবন অতিবাহিত করছে সাধারণ বাংলাদেশি প্রবাসীরা।

শুধু আতঙ্কই নয়, গড় হিসাবে প্রায় প্রতিদিনই দেশটির কোনো না কোনো অংশে প্রবাসী বাংলাদেশি খুন হচ্ছেই। এসব খুনের কারণ অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। স্বার্থের দ্বন্দ্ব, ব্যবসা দখলসহ একাধিক কারণে এসব খুনের ঘটনা ঘটাচ্ছে খুনের শিকার ব্যক্তিদের ব্যবসায়িক পার্টনাররা। দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের একাধিক সূত্র এমন তথ্য জানায়।

সূত্র জানায়, কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের হাতে অধিকাংশ বাংলাদেশি নাগরিক খুনের কারণই বাংলাদেশিরা। নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্যই কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের দিয়ে এসব খুনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। দীর্ঘদিন অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ব্যবসা করার পর লাভজনক অবস্থায় গেলেই খুন হচ্ছে বাংলাদেশিরা। মাত্র বিশ হাজার টাকার বিনিময়েও কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে আঁতাত করেই ঘটানো হচ্ছে এসব খুনের ঘটনা। যদিও এসব খুনের ঘটনায় বাংলাদেশে কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকায় মামলা হওয়ার নজির নেই। 

চলতি বছরের গত আট মাসে দেশটিতে ৪৩ জন বাংলাদেশি খুনের ঘটনার বিষয়ে আমার সংবাদে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপরই চাঞ্চল্যকর এসব তথ্য দেয় দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিক ও খুনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা। দেশটিতে ‘ল এন্ড অর্ডার’ ব্যবস্থার চরম বাস্তবায়ন সংকটের সুযোগে খুনে মাতোয়ারা কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা ইতোমধ্যে মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছে। স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর পাশাপাশি গুম, খুনসহ অসংখ্য অপরাধের সঙ্গে জড়াচ্ছে বাংলাদেশিরাও। পৃথকভাবে সৃষ্ট অপরাধ ছাড়াও স্থানীয় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সঙ্গে আঁতাত করে অসংখ্য অপরাধের জন্ম দিচ্ছে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে সেদেশে অবস্থান নেয়া অপরাধীরা। এদের মধ্যে রয়েছে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেডহামলা মামলার আসামিসহ ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অফিসে বোমাহামলার আসামিও। এছাড়ও বিভিন্ন মামলাসহ একাধিক হত্যামামলার আসামিরাও রয়েছে আত্মগোপনে। 

যাদের কেউ কেউ ভাইকে পর্যন্ত খুন করছে- ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলে নেয়ার জন্য। তার মধ্যে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অফিসে বোমাহামলার আসামি সোলাইমান অন্যতম। জেলার কোনো একটি কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল এ অপরাধীর বর্তমান বসবাস দক্ষিণ আফ্রিকার বুলুপন্টিং এলাকায়। হামলা মামলার আসামি হওয়ার পর পালিয়ে আত্মগোপনে দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার কিছুদিন পরই তার দুই ভাইকেও নিয়ে যায়। কিন্তু ব্যবসায়িক স্বার্থের দ্বন্দ্বে দুই ভাইকেই খুন করে সোলাইমান। মাসুদ নামের নিজের ছোট ভাইকেই ২০-২৫টি দোকান (যেখান থেকে মাসিক আয় ছিল প্রায় ২০-২৫ লাখ টাকা) দখলে নেয়ার জন্য প্রকাশ্যে গুলি করে খুন করে, একইভাবে অপর ভাইকেও খুন করে সোলাইমান।

সূত্র জানায়, মাসুদ খুনের ইতোমধ্যে তিন বছর পার হয়েছে। তিন ভাইয়ের মালিকানা সহ্য করতে না পেরে এবং মাসিক ২০-২৫ লাখ টাকা এককভাবে ভোগের লোভেই দুই ভাইকে খুন করে সোলাইমান। এই সোলাইমানই আবার পরোক্ষভাবে অসংখ্য বাঙালি খুনের সঙ্গে জড়িত বলেও জানায় দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের একাধিক সূত্র। আদৌ কেউই তার কাছে নিরাপদ নয় বলে জানায় সূত্র।

এছাড়া ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে সংগঠিত গ্রেনেডহামলার পর থেকেই দেশটিতে আত্মগোপনে রয়েছে ওই মামলার অন্যতম আসামি মাওলানা তাজউদ্দিন। মাওলানা তাজউদ্দিন শুধু দক্ষিণ আফ্রিকাতেই নয়, দেশটির আশপাশের বিভিন্ন দেশও চষে বেড়াচ্ছে এবং খুনসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। বাদ নেই রাষ্ট্রবিরোধী, সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্রও। এছাড়া বাঙালিই বাঙালিকে গুম করছে বলে জানায় সূত্র। গুমের তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়েও খুন করছে বলে জানা যায়। কিন্তু দেশটিতে অবস্থানরত বাংলাদেশ মিশনের পক্ষ থেকেও নেয়া হচ্ছে না কার্যকর কোনো পদক্ষেপ। তবে ঘটনার পর লিখিতভাবে নিন্দা জানিয়েই চুপষে যাচ্ছে বাংলাদেশ হাইকমিশন।  

সম্প্রতি শরীয়তপুরের উজ্জল মাঝি ও তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক আলম মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করে কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় উজ্জল মাঝির ভাগিনা নিলয় আমার সংবাদকে জানান, তার মামা খুনের নেপথ্যে রয়েছে তার ব্যবসায়িক পার্টনার। উজ্জল মাঝির পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর কেরাণীগঞ্জ এলাকার আরেক যুবক দীর্ঘদিন ধরে উজ্জল মাঝির সঙ্গে সেখানে ব্যবসা করেন। কিন্তু আগামী বছরই একেবারে ব্যবসা গুটিয়ে দেশে চলে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেনে পুরো ব্যবসা নিজের আয়ত্তে রাখার পাঁয়তারায় লিপ্ত হয় ওই পার্টনার। ঘটনার দিন ওই পার্টনার দোকানে না থেকে রহস্যজনক কারণে বাইরে চলে যাওয়ায় উজ্জল মাঝির পরিবারের ধারণা পার্টনারই তাকে কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীদের দিয়ে খুন করিয়েছে। এমন অসংখ্য ঘটনা রয়েছে যেসব ঘটনার কোনো তদন্ত না হওয়ায় লুকায়িতই থেকে যাচ্ছে খুনের নেপথ্যের আসল রহস্য।

খুনের শিকার একাধিক ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিভিন্ন জটিলতার কারণে তারা মামলায় আগ্রহী নন। তাছাড়া এসব ঘটনার মধ্যে কোনো একটি ঘটনার কার্যকর তদন্ত আদৌ হয়নি জেনে তারা মামলায় আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে বাংলাদেশের শ্রমচুক্তি না থাকায় এবং দেশটির ‘ল এন্ড অর্ডার’ ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা করাও জঠিল হয়ে উঠছে। এছাড়া পুলিশি তদন্তও হচ্ছে না। হাইকমিশন থেকেও নেয়া হচ্ছে না কার্যকর কোনো পদক্ষেপ। তবে এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, এসব ঘটনার বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার একজন মন্ত্রীকে তিনি অবহিত করেছেন এবং মিশনকেও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

সূত্র বলছে, দেশটিতে পার্টনার নিয়ে যারা ব্যবসা করছেন তাদের কেউই খুনের আগে ঘূর্ণাক্ষরেও জানতে পারেন না- লোভের বশবর্তী হয়েই কৃষ্ণাঙ্গদের দিয়ে এসব খুন করাচ্ছে পার্টনাররা। এসব ব্যবসায়ী খুনের পরই কৃষ্ণাদের ওপর দায় তুলে দেয়া হলেও মূলত পার্টনারের লেলিয়ে দেয়া কৃষ্ণাঙ্গরা এসব খুন করছে।

এছাড়াও সরাসরি বাঙালিরাও খুনের ঘটনায় জড়িত রয়েছে বলে জানায় সূত্র। তার মধ্যে গত তিন বছর আগে বেলাল নামে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর বজরা এলাকার এক যুবককে তার পার্টনার খুন করে বলে জানা যায়। অথচ এ খুনের পর দেশটির সেন্ট্রাল পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার প্রায় দেড় মাস পর ছাড়াও পেয়েও যায় খুনি। এরপর থেকেই প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার বুকে। পরিচিত সব বাঙালিই তাকে ভয় করে। এর একমাত্র কারণ হিসেবে প্রবাসী সূত্র বলছে, বেলালের ওই খুনি দেশেও হত্যামামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি থাকা অবস্থায় বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় এসে রাজনৈতিক আশ্রয় নেয়। বেলালের খুনির বিরুদ্ধে সেদেশে কোনো ধরনের মামলা হয়েছে কীনা জানতে চাইলে সূত্রটি জানায়, সেদেশের গ্রেপ্তারের পর দেড় মাসের মধ্যে ছাড়া পেয়ে গেলেও বাংলাদেশের সোনাইমুড়ী থানায় একটি হত্যামামলা হয়। কিন্তু এ মামলার আগেই আরেকটি হত্যামামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি হিসেবে পালিয়ে আসায় এখনো পর্যন্ত আর বাংলাদেশে ফিরে যায়নি ওই খুনি। আর বাংলাদেশে মামলা করেও বা কি লাভ, যেখানে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অফিসে বোমাহামলার প্রধান আসামী ও ২১ আগস্ট গ্রেনেডহামলার অন্যতম আসামি মাওলানা তাজউদ্দিন দেশটিতে আত্মগোপন করে আছে, তাদের দেশে ফেরত নিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা যাচ্ছে না, সেখানে বেলাল খুনের ঘটনা তো সামান্য মাত্র। আর এসব কারণেই অধিকাংশ খুনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশেও কোনো ধরনের মামলা হচ্ছে না। 

প্রবাসী সূত্রে আরও জানা যায়, দেশটিতে ৫-১০ হাজার বাঙালি নারীও রয়েছে। বাংলাদেশের মতো দক্ষিণ আফ্রিকায়ও ওইসব নারীরা ঘটাচ্ছে বিবাহ বিচ্ছেদ। উদাহরণ হিসেবে এক নারীর কথা বললেও তার নাম প্রকাশ করতে রাজি নয় সূত্রটি। এর কারণ হিসেবে সূত্রটি বলছে, ওই নারী সেখানে প্রভাবশালী। গণমাধ্যমে তার নামসহ এসব লেখালেখি হলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে। 

২১ আগস্ট গ্রেনেডহামলা মামলার আসামি মাওলানা তাজউদ্দিন ও ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের অফিসে বোমাহামলার আসামি সোলাইমান দক্ষিণ আফ্রিকায় আত্মগোপনে রয়েছে এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছে। তাদের আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, তাদের বিষয়ে সব তথ্যই আমাদের জানা আছে। তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে আনার সকল চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে আমাদের।

খুনের শিকার প্রবাসী বাঙালিদের বিষয়ে তিনি বলেন, কি দরকার আছে দক্ষিণ আফ্রিকার মতো এমন একটি দেশে গিয়ে ব্যবসা করার। কথায় কথায় খুন করে যারা, তাদের কাছে কেউই নিরাপদ নয়। আর তারা মনে করে বাঙালিরা এসে তাদের অর্থনীতি দখল করেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য দখল করছে। বাঙালি খুনের সঙ্গে বাঙালিরাই জড়িত থাকার বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, এগুলো আমার মনে হয় না। তবে তারাই তো কথায় কথায় বাঙালিদের খুন করছে। একমাত্র ক্যাপটাউন ছাড়া সেদেশে আর কোথাও ল অ্যান্ড অর্ডার নেই। যে কারণে খুনের মাত্রা বেড়েই চলেছে।

উল্লেখ্য, দেশটিতে প্রতিদিন ৫৮টি খুনের ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে প্রায় ১৪৪টি। নাতি কর্তৃক দাদি ধর্ষণেরও নজির রয়েছে। নজির রয়েছে বাবা কর্তৃক নিজ মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনারও। অথচ দেশটির ল এন্ড অর্ডার মজবুত না থাকায় এসবের বিচারও হচ্ছে না। যেখানে তাদের নাগরিকদেরই অপরাধের বিচার হচ্ছে না সেখানে বাঙালি অপরাধ করলে তার বিচারের আশা ক্ষীণ হওয়াটাই স্বাভাবিক বলে বলছে প্রবাসী বাঙালিরা। শুধু তাই নয়, তারা এ-ও বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় বেঁচে থাকা অস্বাভাবিক, কিন্তু খুন হওয়াটা স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। যেকোনো খুনের শিকার ব্যক্তিকে সরকারি হাসপাতালে নেয়া হলে সেখান থেকে শুধু ডেথ সনদ দিয়েই আইনের যাবতীয় প্রক্রিয়াকে সীমাবন্ধ রাখা হয়। হয় না কোনো রকমের তদন্ত এবং এটা তাদের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যেমন বাঙালিদের ক্ষেত্রেও তেমন। বাসাবাড়িতেও নেই নিরাপত্তা। সাম্প্রতিককালে পেরি খান শহরে ১৪-১৫ জন বাঙালির একটি বাসায়ও কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসীরা সশস্ত্র হামলা করে। মোবাইলসহ বিভিন্ন দামি জিনিসপত্রসহ নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয় তারা। বাসায়ও ডাকাতির ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করে সূত্রটি জানায়, দেশটির কোথাও নিরাপত্তা নেই। বাসা কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ প্রায় সব জায়গাই অনিরাপদ।

কৃষ্ণাঙ্গদের বিষয়ে সূত্রটি জানায়, দেশটির ব্লুপন্টিং এলাকায় ২০০৭-০৮ সালে এক কৃষ্ণাঙ্গকে গুলি করে খুন করে প্রবাসী বাঙালিরা। সে থেকেই কৃষ্ণাঙ্গদের সঙ্গে বাঙালিদের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। এমনিতে দেশটিতে পাঁচ জাতির বসবাস। তার মধ্যে রয়েছে- নিগ্রো, কৃষ্ণাঙ্গ, ব্রাউন, কালার্ড ও শেতাঙ্গ। এদের মধ্যে বাঙালিদের জন্য সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কৃষ্ণাঙ্গ জাত। সেই কৃষ্ণাঙ্গদের মধ্যেই আবার পাঁচ সংস্কৃতির বাসিন্দা রয়েছে। এদের মধ্যে খছা, সুয়োটো, জুলু, পেডি ও সোয়ানা। এরা ভাষাগতভাবেও একের অপরের সঙ্গে মিল নেই। তবে সংখ্যালঘু। পাঁচ সংস্কৃতির এ জাতের মধ্যে দেশটিতে সবচেয়ে বেশি সংখ্যাগরিষ্ট খছা সংস্কৃতির বাসিন্দারা। এদের পরেই সুয়োটো জাতের অবস্থান। তবে সবচেয়ে উগ্রমতাদর্শী এবং বাঙালিদের জন্য ভয়ঙ্কর কৃষ্ণাঙ্গদের জুলু জাত। এ জাতের বাসিন্দাদের হাতে অধিকাংশ বাঙালি খুন হচ্ছে।

দেশটির পুলিশমন্ত্রী ভেকি সেলেও দ্য টাইম ও বিবিসিকে বলেন, বর্তমান আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি সন্তোষজনক নয়। তবে এসবের কারণ খতিয়ে দেখবেন তারা। তবে দেশটিতে খুনের নেপথ্যে রয়েছে দেশটির ইএফএফ পার্টির (বর্তমান বিরোধী দল) নেতা জুলিয়াস মালে মা’র ইন্ধন। তার নেতৃত্বেই মূলত এসব ভায়োলেন্সের সৃষ্টি। কট্টর অভিবাসী বিদ্বেষী এ নেতার ইন্ধনেই সম্প্রতি একযোগে বাঙালিদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা করে কৃষ্ণাঙ্গ জুলু জাতের বাসিন্দারা। ডাকা হয় আন্দোলন। সর্বশেষ এ আন্দোলনে সৃষ্ট হামলায় অসংখ্য বাংলাদেশিকে বন্দি করে নির্যাতন করা হয়। ক্ষতিগ্রস্ত করা হয় ব্যবসায়িকভাবে। যদিও দেশটির সেন্ট্রাল পুলিশের ভূমিকায় এ সমস্যা থেকে কিছুটা উত্তরণ সম্ভব হয়েছিল, তবে এতটাই বেপরোয়া ছিল তারা, যেখানে গতকাল পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী পুলিশের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় অভিবাসী বিরোধী আন্দোলনরত স্থানীয় ১৪ কৃষ্ণাঙ্গ নিহত হয়, আহত হয় ৩০ জন। এছাড়া গ্রেপ্তার করা হয় অন্তত দুই শতাধিক। তবে দেশটির বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এসব সংগঠনগুলোও এ আন্দোলনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছে, ঘোষণা করেছে ঘেরাও কর্মসূচির।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত