শিরোনাম

ঘুষ-দুর্নীতি ও হয়রানির প্রতিবাদ, পানগাঁওয়ে পণ্য খালাস বন্ধ

প্রিন্ট সংস্করণ॥নিজস্ব প্রতিবেদক  |  ২০:৩৬, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৯

হয়রানি অভিযোগে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা। যে কারণে গত রোববার থেকে পানগাঁও অভ্যন্তরীণ কনটেইনার টার্মিনালে (আইসিটি) কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার এই পোর্টে পণ্য খালাসের বিল অব এন্ট্রি দাখিল হয়েছে মাত্র একটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, রাজস্ব বিভাগের কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতা আর উৎকোচ গ্রহণের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। যে কারণে পণ্য অ্যাসেসমেন্ট বা এক্সামিনেশনের আগেই স্পিডমানি চাওয়া, একই পণ্য ভিন্ন ভিন্ন শুল্কায়ন, এক গ্রুপ খালাসের দায়িত্বে থাকলে অন্যগ্রুপের সদস্যরা শুল্কগোয়েন্দা ও সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্ট সেলকে বিরূপ তথ্য প্রদানসহ নানারকম জটিলতায় ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস বন্ধ রেখেছেন।

একাধিক ভুক্তভোগী জানান, আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ীরা শতভাগ পরিচ্ছন্ন কাজ করলেও পেপার প্রতি ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা গুণতে হয়। আর ঘুষের টাকা না দিলে কোনো কর্মকর্তা কাজ করে দেয় না। কাগজপত্র এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে যায় না। দুর্নীতিপরায়ন কর্মকর্তারা এখন বহালতবিয়তে উৎকোচ গ্রহণ করে ধরাকে সরা জ্ঞান করে। এসব কর্মকর্তার যাঁতাকলে পড়ে উৎকোচ দিতে বাধ্য হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। কখনো কখনো পেপার শতভাগ পরিচ্ছন্ন থাকলেও এই শাখার কর্মকর্তা অকারণে ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে। ফলে ব্যবসায়ীরা হয়রানি এড়াতে ও দ্রুত পণ্য ক্লিয়ারেন্স নিতে উৎকোচ দিতে বাধ্য হন। চাহিদা পূরণ না করায় দ্বিগুণ শুল্কায়নের শিকার হন ব্যবসায়ীরা।

গত ১৫ মে এই বন্দর দিয়ে জন্মদিনের বেলুন আমদানি করে এশিয়ান গ্লোবাল লিঙ্ক নামের একটি আমদানিরকারক প্রতিষ্ঠান। এর শুল্কায়ন করা হয় প্রতিকেজিতে দেড় ডলার করে। একই পণ্য গত ২৬ আগস্ট আমদানি করে এমএস সাদ এন্টারপ্রাইজ। সেই পণ্যেও প্রতিকেজিতে দেড় ডলার করে শুল্কায়ন করা হয়। কিন্তু এর আগের দিন ২৫ আগস্ট এক কনটেইনার একই পণ্য শুল্কায়ন করতে গেলে প্রতিকেজিতে সাড়ে ৩ ডলার দাবি করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে আমার সংবাদ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়।

আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা অভিযোগ করে বলেন, এই পোর্টের কাস্টমস কমিশনারের প্রশাসনিক দুর্বলতায় সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন অতিরিক্ত কমিশনার ও একজন সহকারী কমিশনার। কোন পণ্যে কোন এইচএস কোডে শুল্কায়ন করা হবে তা নির্ধারণ করে দেন তারা। যেসব সিঅ্যান্ডএফ ও আমদানিকারক তাদের খুশি করতে পারবে তাদের পণ্য এইচএচ কোডের মারপ্যাঁচে নামমাত্র শুল্কায়ন করা হবে। আর যারা এই দুই কর্মকর্তার সাথে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হবে তাদের অতিরিক্ত শুল্কায়ন ছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে মামলাও দেওয়া হচ্ছে।

এসব বিষয়ে কথা বলতে পানগাঁও কাস্টমস হাউজের কমিশনার ইসমাঈল হোসেন সিরাজীর সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এমআর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত