শিরোনাম

মিশনে পুলিশ নিয়োগের প্রস্তাবে পররাষ্ট্র্র মন্ত্রণালয়ের অসম্মতি

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসিফ শওকত কল্লোল  |  ০০:৪১, সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯

বিদেশি মিশনে পুলিশের প্রেষণে ১৪১টি পোস্ট সৃজনের বিষয়ে অসম্মতি জ্ঞাপন করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বঙ্গবন্ধুর পলাতক খুনিদের গ্রেপ্তার এবং দেশে ফেরানোর কাজে সহায়তা, বিদেশের মাটিতে বসে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের লঙ্ঘনসহ নানা অপরাধে যুক্ত বাংলাদেশিদের আটক এবং দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা, প্রবাসীদের পাসপোর্টের আবেদনসংক্রান্ত ভেরিফিকেশনে সময়ক্ষেপণ রোধ এবং পুলিশের পদায়ন ও পদোন্নতিসংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে ওই পোস্টিংয়ের প্রস্তাব করেছিল বাংলাদেশ পুলিশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অসম্মতি জানানোর প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে— বর্তমানে মিশনগুলোর পদায়িত কর্মকর্তাদের দিয়ে ওইসব কার্যক্রম সম্পাদিত হয়। তবে সেসব কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনগুলোর পুলিশ লিয়াজোঁ কর্মকর্তা প্রেষণে পদায়নের পক্ষে বাংলাদেশ পুলিশ যুক্তি উপস্থাপন করেছে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি ও সংগঠন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব নাসির উদদীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ অসম্মতির বিষয়টি বলা হয়েছে। চিঠিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত জুলাই মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতামত চেয়ে বিদেশি মিশনে পুলিশের নিয়োগের ক্ষেত্রে চিঠি পাঠিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেগুনবাগিচায় পাঠানো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পত্রে বলা হয়েছে— বাংলাদেশ পুলিশ বিশ্বের ৪০টি দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৪০টি মিশনে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগের নিমিত্তে ১৪১টি পদ সৃজন এবং ৩টি জিপ-কার পুলিশ সদর দপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মিশনগুলোতে পুলিশ সুপাররা ‘পুলিশ লিয়াজোঁ কর্মকর্তা’ হিসাবে প্রেষণে নিযুক্ত হবেন। ৪০ জন পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসারের প্রত্যেকের সঙ্গে ২ জন করে ৮০ জন সহায়কও নিযুক্ত হবেন। মিশনে নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি দেখভাল তথা তত্ত্বাবধানে ঢাকাস্থ পুলিশ হেডকোয়ার্টারে অতিরিক্ত আইজির একটি এবং দুটি ডিআইজি পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। ওই ৩ তত্ত্বাবধায়কের দপ্তরের জন্য পুলিশ হেড কোয়ার্টারে ১৮টি সহায়ক পদ তৈরিরও সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

সরকারি সূত্র মতে, পুলিশ যে ৪০টি মিশনে নিয়োগ চায়— যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, চীন, কানাডা, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, তুরস্ক, কুয়েত, থাইল্যান্ড, জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, কাতার, ওমান, মিশর, বাহরাইন, ব্রুনাই, মিয়ানমার, নেপাল, জর্ডান, ইরাক, আফগানিস্তান, সাউথ আফ্রিকা, গ্রিস, স্পেন, মরিশাস, লিবিয়া ও মরক্কো।

প্রস্তাবে বলা হয়েছে— উল্লিখিত দেশগুলোর বাংলাদেশ দূতাবাস বা হাইকমিশনে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার নিযুক্ত হলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাসপোর্ট, ইমিগ্রেশন, প্রত্যাবাসন, সংশ্লিষ্ট দেশে পুলিশি হয়রানি রোধসহ যাবতীয় কল্যাণসংক্রান্ত বিষয়াদি তারা সরাসরি তদারক করতে পারবেন। এতে আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ, অপরাধী প্রত্যাবর্তন, ক্রিমিনাল ইন্টেলিজেন্ট আদান-প্রদান ইত্যাদি বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পুলিশ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ জোরদার হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটা নিশ্চিত হয়েছে যে, ঢাকাস্থ বিদেশি দূতাবাসগুলোতে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার বা এ ধরনের কোনো পদ নেই। কিছু দূতবাসের নিরাপত্তার জন্য অভ্যন্তরীণভাবে নিরাপত্তা টিম বা কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা একান্তভাবে দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়োজিত।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা মনে করেন- সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মবণ্টন বা অ্যালোকেশন অব বিজনেস অনুযায়ী বিদেশ থেকে যেকোনো অপরাধী বা অন্য কারণে কোনো বাংলাদেশিকে ফেরত আনাসংক্রান্ত কার্যাবলি সম্পাদনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়িত্বপ্রাপ্ত। এটি অন্য কোনো বিভাগ, সংস্থা বা মন্ত্রণালয়কে দিতে হলে অ্যালোকেশন অব বিজনেসে পরিবর্তন আনতে হবে।

তাছাড়া বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের ফেরাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত টাস্কফোর্স কাজ করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের উপযুক্ত প্রতিনিধিরা এতে রয়েছেন। সরকারি সিদ্ধান্ত মতে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি সমন্বয় করছে। মন্ত্রণালয়ের কাজের ‘অগ্রাধিকার’ হিসাবে বিষয়টি রয়েছে।

পাসপোর্টের পুলিশ ভেরিফিকেশনের বিষয়ে এসবির সক্রিয়তা এবং দূতাবাসগুলোর পাসপোর্ট উইং এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয় জরুরি বলে মনে করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মিশনগুলোর পাসপোর্ট উইংয়ের কাজে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার নিয়োগ করলেই ভেরিফিকেশনের কাজ দ্রুততর হবে— এমনটা মনে করে তারা।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত