শিরোনাম

বুয়েটের হলে হলে টর্চার সেল!

প্রিন্ট সংস্করণ॥নুর মোহাম্মদ মিঠু, এনায়েতুল্লাহ ও ঢাবি প্রতিনিধি   |  ১২:২৯, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

মেধাবীদের বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। গত আট বছর ধরেই যেখানে মেধামননের নয় বরং চর্চা হতো নির্যাতনের। প্রতিষ্ঠানটির তড়িৎ প্রকৌশল বিভাগের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদের মৃত্যুই তার প্রমাণ। সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী দেশ ভাতরের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় চুক্তির বিরুদ্ধে ফেসবুকে ভিন্নমত পোষণ করে সমালোচনার পরই ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের নির্মম নির্যাতনে অকালে প্রাণ হারায় পরমাণু বিজ্ঞানী হওয়ার রঙ্গিন স্বপ্ন দেখা কুষ্টিয়ার আবরার ফাহাদ। ফাহাদের এমন মৃত্যুর পর বেরিয়ে আসছে প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমান ছাত্রলীগের নানা অপকর্ম।

তার মধ্যে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য— টর্চার সেল! যেখানে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো অবাধ্য, প্রতিবাদী ও সরকারবিরোধী ছাত্রদের। এদের হাত থেকে রেহাই পায়ননি হলের প্রভোস্টরাও। যারাই প্রতিবাদ করেছে তাদেরই করা হয়েছে নির্মম নির্যাতন। কিন্তু ক্ষমতার দাপট এতোটাই বেপরোয়া, সেখানকার এমন নিষ্ঠুর নির্যাতনের বিষয়ে মুখ পর্যন্ত খুলতে সাহস করেনি কেউই। সূত্র জানায়, গত আট বছর ধরে ছাত্রলীগই বুয়েট পরিচালনা করছে। যেখানে শিক্ষকদেরও ছাত্রলীগের হাতে মার খেতে হয়েছে অসংখ্যবার। কিন্তু প্রাণনাশের ভয়ে তাদের মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করে।

শিক্ষার্থী সূত্র আরও জানায়, মেধাবীদের এ প্রতিষ্ঠানে হল নামক ছাত্রলীগের টর্চার সেলগুলোতে রাত শুরুর পর থেকেই বসতো মদের আড্ডা। মদে আসক্ত হয়েই চলতো বেপরোয়া নির্যাতন। নির্যাতনের চিত্র কতটা ভয়াবহ তা আবরারের মৃত্যুর মধ্য দিয়েই প্রকাশ পেয়েছে। এমন দৃশ্যের অবতারণা যারা আগেই করতে পেরেছে তারাই মুখ বন্ধ করে বাকপ্রতিবন্ধি বনে গেছে।

বুয়েটের সাবেক এক অধ্যাপক ড. অহিদুল আলমও আবরারের মৃত্যুর পর এমন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন, তাও দেশের বাইরে থেকে। দেশে থাকা অবস্থায় এবং আবরারের মৃত্যুর পূর্বে এমন স্ট্যাটাস দেওয়ার দুঃসাহস দেখাননি তিনিও। তিনি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেছেন, ‘বুয়েটের ছাত্রকে পিটিয়ে মারার ঘটনায় আজকে এতটা বিধ্বস্ত যে, অফিসে কোনো কাজই করতে পারিনি। কান্না ধরে রাখতে পারছিলাম না। বুয়েটের প্রাক্তন সহকর্মীদের ফোন করে এর প্রতিবাদে তাদের অবস্থান জানতে চাইলাম। বুঝতে পারলাম তারাও ওভাবেই মৃত্যুর প্রহর গুনছেন।

তারা বললেন, প্রতিটি হলেই ছাত্রলীগের নির্যাতন কক্ষ আছে ৮ বছর আগে থেকেই। ছাত্রলীগের নেতারা নিয়মিত ‘অবাধ্য/প্রতিবাদী/সরকারবিরোধী’ ছাত্রদের নির্যাতন কক্ষে নিয়ে শাস্তি দিয়ে আসছে। যেসব প্রভোস্টদের বিবেক ছিল তারা ইস্তফা দিতে বাধ্য হন। কিছু সহকারী প্রভোস্ট, যারা শেষ চেষ্টা চালিয়েছিলেন, তাদের ছাত্রলীগের ছেলেরা মেরে বের করে দিয়েছে।

গত ৮ বছরে ছাত্রলীগই বুয়েট চালাচ্ছে। শিক্ষকদের যেখানে মার খেতে হচ্ছে, তারা আর কীভাবে ঠেকাবেন? এবার হয়তো পূজার আনন্দে মারটা বেশি হয়ে গিয়েছিল অথবা ছেলেটি সহজে মাথা নত করেনি এই ঘৃণ্য হিন্দুস্তানি দালালদের কাছে। বাসায় এসে চোখের পানি মুছতে মুছতে এই পোস্ট লিখছি আর আল্লাহর কাছে দু’আ করছি, হে আল্লাহ্! আবরারকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন! আর এই ফেরআউনের/মোদির দল থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করুন!

এছাড়া বুয়েটে ছাত্রলীগের টর্চার সেলে আরেক নির্যাতিত ছাত্রের ফেসবুক স্ট্যাটাসেও উঠে আসে টর্চার সেলের ভয়াবহ চিত্র। স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো—
‘এগুলো আমারই ছবি, ছয় বছর আগের, আবরার মারা গেছে, আমি ওই দফায় বেঁচে ফিরেছি। বুয়েটের ও এ বি এর দোতলায় মেকানিক্যাল ড্রয়িং কুইজ দেয়া শেষ হওয়া মাত্রই পরীক্ষার রুম থেকে তন্ময়, আরাফাত, শুভ্র জ্যোতি টিকাদারদের নেতৃত্বে ৮-১০ জন ছাত্রলীগের ছেলে শিক্ষকের সামনে থেকে তুলে নিয়ে আহসানউল্লাহ হলের তখনকার টর্চার সেল ৩১৯ নাম্বার রুমে নির্যাতন করে।

আমি কারো সাথে যেখানে রাগারাগি পর্যন্ত করতাম না, কারো সাথে কখনোই সম্পর্ক খারাপ পর্যন্ত যেখানে ছিল না, শুধু ফেসবুকে সরকারের ভারতমুখী নীতির সমালোচনা করে পোস্টের কারণে বুয়েটের মত একটা প্রতিষ্ঠানের ছাত্রলীগ আমার সাথে এমন আচরণ করে। এর ৬ দিন আগে সাবেক বুয়েট ছাত্রলীগ সভাপতি শুভ্র জ্যোতি টিকাদার (‘০৯) ও কাজল (‘০৯) ল্যাব থেকে আমাকে ধরতে এসে ব্যর্থ হয়ে পরীক্ষার রুম থেকে আমাকে একা ধরতে ওরা ৮-১০ জন প্রস্তুতি নিয়ে আসে। বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টা ৩০!! বদ্ধ রুমে আমার পিঠের ওপর লোহা দিয়ে ‘১০ ব্যাচের এক ভাই প্রধানত তার শক্তি পরীক্ষা করে। এর কতদিন আগে কোনো একটা নামাজ মিস দিয়েছি ভুলেই গিয়েছিলাম। কিন্তু সেদিন তারা আসর আর মাগরিব নামাজ পর্যন্ত পড়ার সুযোগ দেয়নি।

সারাজীবন একটি মাত্র স্বপ্ন দেখেছিলাম- বুয়েটে পড়বো। বুয়েটের ছাত্রদের ভাবতাম আদর্শ। অথচ সেখানেও এমন হবে- জানা ছিল না। ভর্তি পরীক্ষার সময় গুরুজনেরা বলতেন- দোয়া কর, যেখানে তোমার জন্য কল্যাণ, আল্লাহ যেন সেখানেই তোমাকে চান্স পাইয়ে দেন। আর বুয়েটের অন্ধপ্রেমিক এই আমি দোয়া করতাম- আল্লাহ, বুয়েটেই আমার কল্যাণ দাও। আসলে বুয়েটে পড়ার প্রথম ইচ্ছে হয়েছিল ক্লাস ফাইভে, বাবা বলেছিলেন- ছেলেকে বুয়েটে পড়াতে চাই, সেই থেকে। ভার্সিটি এডমিশনের সময় বাবা অন্য ভার্সিটিগুলোর ফর্ম নিতে দিচ্ছিলেন না, বলছিলেন- ওসবে কালো রাজনীতি ছেয়ে গেছে, বুয়েটেই চান্স পেতে হবে, ওখানেই পড়তে হবে, ওখানে কালো রাজনীতি নেই। জানি, তুমি পারবা।

পরবর্তীতে আমার বাবা আমার ওপর নির্যাতন দেখে ডুকরে কেঁদেছেন। আমি হাসিমুখে বলেছি- সব ঠিক হবে, আল্লাহ ভরসা, কোনো অন্যায় করিনি, আমার আল্লাহ সাক্ষী, আল্লাহই এর প্রতিদান দেবেন। মায়ের কান্নাজড়িত চোখের দিকে তাকিয়ে কিছু বলার ছিল না, মনে মনে ভেবেছি “আর কেহ না জানুক, তুমি তো জানো মা, তোমার ছেলে কেমন” এত নির্যাতনের পর আবার আমাকেই উলটো পুলিশে দেয়ার জন্য পুলিশ ডেকে আনে। কিছু শিক্ষক অনেক চেষ্টা করে আর অনেক অপমান সহ্য করেও তা থেকে বাঁচিয়ে নেন।

ছাত্রকল্যাণ পরিচালক দেলোয়ার স্যারকে পরে অভিযোগ জানালে উনি বলেন- ওদের সাথে তালমিলিয়ে চল না কেন? হায়রে!!!!! সেদিন চ্যালেঞ্জ করেছিলাম স্যারকে- এ রকম শুধু আমাকেই না, আরো ১৭টি নির্যাতনের ঘটনা কিছুদিনেই ঘটেছে। অথচ যারা ভুক্তভোগী তাদের বিরুদ্ধে একটা মাত্র বুয়েটের শৃংখলা ভঙ্গ বা কারো সাথে ঝামেলার ঘটনার প্রমাণ দেন। আর যারা নির্যাতন করছে- তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কত গুণ্ডামীর প্রমাণ লাগে বলুন।

আল্লাহ তুমি সাক্ষী... সেদিন দলকানা ছাত্রকল্যাণ পরিচালক চরম অসহযোগিতা করেছেন। পক্ষান্তরে নিরপেক্ষ শিক্ষকেরা অপমান সহ্য করেও আমাকে উদ্ধার করেছেন। দলকানা শিক্ষকেরা সব সময় স্বার্থবাদী হয়। আমি জীবন নিয়ে ফিরতে পারলেও আবরার জীবন দিল। এভাবে অপরাজনীতির শিকার আরও কত জীবন হবে তা ভাবা অসম্ভব। এসব অপরাজনীতি থাকলে ক্যাম্পাসে রক্ত ঝরবেই। তাই নির্যাতিত ছাত্র হিসেবে দাবী জানাই- ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত হোক, ছাত্র বা শিক্ষক সকলের রাজনীতি নিষিদ্ধ হোক।’

আবরার হত্যার এ ঘটনায় শোকে মুহ্যমান ক্ষোভে উত্তাল সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছে ইতোমধ্যে। জড়িতদের বিচারের দাবিতে গতকাল বিক্ষোভ মিছিলও বের করে বুয়েট শিক্ষার্থীরা। ‘বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারের ওই মিছিল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আবরার হত্যার বিচার করে খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিতভাবে এ হত্যায় শনাক্ত হওয়া খুনিদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবন বহিষ্কারসহ সাত দফা দাবি তুলে ধরে।

গত রোববার দিবাগত রাতে আবরারকে ১০১১ নম্বর কক্ষের পড়ার টেবিল থেকে ডেকে ২০১১ নম্বর কক্ষে নিয়ে যায় বুয়েট ছাত্রলীগের কজন নেতা। সেখানে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে দীর্ঘসময় ধরে স্ট্যাম্প লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে আবরারকে। এরপর ভোর ৪টার দিকে আবরারের নিথর দেহ পাওয়া যায় হলের সিঁড়িতে। তার পুরো শরীরে ছিল আঘাতের চিহ্ন।

ঢামেক ফরেনসিক বিভাগ ময়নাতদন্ত শেষে জানায় আঘাত আর রক্তক্ষরণেই মৃত্যু হয়েছে তার। সহপাঠীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতারা পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন তাকে। সহপাঠীদের বিক্ষোভ মিছিলে খুনিদের বিচারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘খুনিদের ঠিকানা, এই বুয়েটে হবে না’, ‘ফাঁসি ফাঁসি, ফাঁসি চাই’, ‘প্রশাসনের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ভিসি তুই নীরব কেন, জবাব চাই, দিতে হবে’, ‘আমার ভাইকে মারলি কেন? জবাব চাই দিতে হবে’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’— স্লোগানে মিছিল করে। এছাড়া খুনিদের বিচারসহ সাত দফা দাবিও জানিয়েছেন।

দাবিগুলো হলো— খুনিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা খুনিদের সকলের ছাত্রত্ব আজীবনের জন্য বাতিল নিশ্চিত করতে হবে, আবরার হত্যায় দায়ের করা মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের অধীনে স্বল্পতম সময়ে নিষ্পত্তি করতে হবে, আবরার হত্যার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য কেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি, তা তাকে সশরীরে ক্যাম্পাসে এসে মঙ্গলবার বিকাল ৫টার মধ্যে জবাবদিহি করতে হবে।

একইসঙ্গে ডিএসডব্লিউ কেন ঘটনাস্থল থেকে পালিয়েছেন, তাকে আজ বিকাল ৫টার মধ্যে সবার সামনে সে বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে, আবাসিক হলগুলোতে র‌্যাগের নামে এবং ভিন্ন মতাবলম্বীদের ওপর সব ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল করতে হবে।

একইসঙ্গে আহসানউল্লা হল ও সোহরাওয়ার্দী হলের আগের ঘটনাগুলোতে জড়িত সবার ছাত্রত্ব বাতিল আগামী ১১ নভেম্বরের বিকাল ৫টার মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। রাজনৈতিক ক্ষমতা ব্যবহার করে আবাসিক হল থেকে ছাত্র উৎখাতের ব্যাপারে অজ্ঞ থাকা ও ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হওয়ায় শেরে বাংলা হলের প্রভোস্টকে ১১ নভেম্বর বিকাল ৫টার মধ্যে প্রত্যাহার করতে হবে, মামলা চলাকালীন সব খরচ ও আবরারের পরিবারের সব ধরনের ক্ষতিপূরণ বুয়েট প্রশাসনকে বহন করতে হবে।

এদিকে চকবাজার থানায় ১৯ জনকে- (মেহেদী হাসান, সিই বিভাগ (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ১৩তম ব্যাচ), মুহতাসিম ফুয়াদ (১৪তম ব্যাচ, সিই বিভাগ), অনীক সরকার (১৫তম ব্যাচ), মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল বিভাগ, ১৫তম ব্যাচ), ইফতি মোশারফ হোসেন (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), মনিরুজ্জামান মনির (পানিসম্পদ বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাজ, মাজেদুল ইসলাম (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোজাহিদুল (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), তানভীর আহম্মেদ (এমই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), হোসেন মোহাম্মদ তোহা (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ) , জিসান (ইইই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), আকাশ (সিই বিভাগ, ১৬তম ব্যাচ), শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), শাদাত (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), তানীম (সিই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ (এমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মোয়াজ, মনতাসির আল জেমিকে (এমআই বিভাগ)), আসামি করে আবরারের বাবার করা মামলায় গ্রেপ্তার বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১০ নেতাকে পাঁচ দিন করে রিমান্ড দিয়েছেন আদালত।

এরই মধ্য গতকাল বিকালে আবরারের আরও তিন হত্যাকারী আরেফিন রাফাতকে (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ১৭ম ব্যাচ) ঝিগাতলা এলাকা থেকে, মনিরুজ্জামান মনিরকে (পানিসম্পদ বিভাগের ১৬তম ব্যাচ) ডেমরা এলাকা থেকে ও আকাশকে (পানিসম্পদ বিভাগের ১৬তম ব্যাচ) গাজীপুরের বাইপাইল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এ নিয়ে আবরার হত্যার ঘটনায় ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করলো ঢাকা মহানগর পুলিশ। এর আগে মামলাটি চকবাজার থানা থেকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়। মামলা হস্তান্তরের বিষয়টি ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. মাসুদুর রহমান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া ছাত্রলীগের গ্রেপ্তার ১০ নেতা-কর্মী হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানিয়েছেন ডিবি পুলিশের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা।

বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ক্ষেপে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পালানোর পথ পাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুর। ছাত্রলীগের মধ্যে যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে অতি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আওয়ামী লীগ শীর্ষ নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। অন্যথায় বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ ক্ষেপে গেলে পালানোর রাস্তা পাবে না ছাত্রলীগ— এমন হুঁশিয়ারিও উচ্চারণ করেন তিনি।

এছাড়া গতকাল সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কুষ্টিয়ার রায়ডাঙ্গা গ্রামে পৌঁছলে সেখানে হূদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আবরারের দাফন শেষে সেখানে তার চাচা মিজানুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় ক্ষমতাসীন দলের কোনো নেতার ইন্ধন রয়েছে। হাইকমান্ডের নির্দেশে এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। আবরারের এমন বিদায়ে স্বজনদের সঙ্গে তারাও কাঁদছিলেন গোটা এলাকার মানুষ।

সেখানে কান্নারত অবস্থায় ক্ষোভের সঙ্গে আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ্ বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যে ছেলেটা বিকাল ৫টায় ঢাকায় পৌঁছলো, তাকে ৮টার দিকে নির্যাতন করার জন্য ডেকে নিয়ে গেল। ছয় ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালালো, এটা অবশ্যই পরিকল্পিত। মিজানুর রহমানও তার সঙ্গে যোগ করে বলেন, কেননা দু-একজন নয়, সেখানে ১৫ জনের বেশি ছেলে এ হত্যায় অংশ নিয়েছে। পরিকল্পিত ছাড়া ১০-১৫ জন ব্যক্তি কাউকে মারতে পারে না।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত