শিরোনাম

চেক ডিজঅনার প্রবঞ্চনা সহজ হচ্ছে আইনের প্রয়োগ

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসিফ শওকত কল্লোল  |  ১৩:৪১, অক্টোবর ০৯, ২০১৯

চেক ডিজঅনারের মাধ্যমে প্রবঞ্চনা ঠেকাতে আইনের প্রয়োগ সহজ করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে সাজা কমানোর পাশাপাশি জরিমানার পরিমাণও কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে নেগোসিয়েবল ইন্সট্রুমেন্ট অ্যাক্ট সংশোধন করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনটি অনেক পুরনো। একইসঙ্গে এর ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এর অপব্যবহারের নজির দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাংক হিসাবে নিয়মিত টাকা জমা ও তোলার কারণে অনেক সময় পর্যাপ্ত টাকা থাকে না।

এদিকে কোনো চেক উত্থাপন করা হলে তা ডিজঅনার হলে অনেকেই মামলা করে দিচ্ছেন। এতে একদিকে হয়রানির প্রবণতা বাড়ছে, অন্যদিকে ব্যাংকিং কার্যক্রমে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। আবার একটি পক্ষ ঋণ পরিশোধের জন্য আগাম চেক দিলেও তা ডিজঅনার হচ্ছে। ফলে ব্যাংক প্রতারিত হচ্ছে। এই প্রবণতা রোধে আইনটি প্রয়োগের বিধি সহজ করা হচ্ছে। বর্তমানে নানা জটিলতার কারণে এটি প্রয়োগ করা হচ্ছে না।

অপর্যাপ্ত তহবিল, ত্রুটিপূর্ণ স্বাক্ষর ও অন্য যেকোনো যথাযথ কারণে বাহক কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা দেয়া চেক যদি প্রত্যাখ্যাত হয় বা চেকে উল্লিখিত টাকা বাহককে প্রদান করা সম্ভব না হয় সেটিকেই বলা হয় চেক ডিজঅনার। কোনো কারণে চেক ডিজঅনার হলে চেক প্রদানকারীর বিরুদ্ধে হস্তান্তরযোগ্য দলিল আইন, ১৮৮১ অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।

প্রচলিত আইনে চেক ডিজঅনারসংক্রান্ত মামলায় এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা সংশ্লিষ্ট চেকে বর্ণিত টাকার তিনগুণ জরিমানা বা দুই ধরনের দণ্ড আরোপের বিধান রয়েছে। সংশোধিত আইনে সাজার পরিমাণ কমিয়ে এক বছর থেকে কমিয়ে ৬ মাস করা এবং জরিমানার পরিমাণ কমিয়ে দ্বিগুণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে এ সংক্রান্ত মামলায় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে হলে চেকের মূল টাকার সমপরিমাণ অর্থ জমা দিতে হবে। এছাড়া আপলি গৃহীত হবে না।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, তবে গ্রাহকের শুধু স্বাক্ষরিত ফাঁকা চেক জমা নিয়ে পরে তা ব্যাংকে উপস্থাপন করার পর ডিজঅনার হলে তা এই আইনের আওতায় আসবে না।

কেননা গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের জন্য বাড়তি অংক লিখে চেক উপস্থাপনের অনেক নজির দেখা গেছে। এ কারণে এ বিধান করা হচ্ছে। প্রস্তাবে এ ধরনের মামলা নিষ্পত্তির জন্য জেলাপর্যায়ে একটি আদালত বেধে দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। তাহলে এ ধরনের মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

যেসব কারণে চেক ডিজঅনারের মামলা করা যায়— ব্যাংকের হিসাবে অপর্যাপ্ত তহবিল বা অর্থ থাকলে। তার মানে চেকে যে পরিমাণ অর্থ উল্লেখ করা হয়েছে তা অপেক্ষা কম অর্থ হিসাবে থাকা। যে ব্যক্তি চেক প্রদান করেছে যদি তার স্বাক্ষর না মেলে। যদি চেকে উল্লিখিত অর্থের অংক ও কথার গরমিল পাওয়া যায়। চেক মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে। যথাযথভাবে চেক পূরণ করা না হলে। চেকে ঘষামাজা করলে। চেকে কাটাকাটি থাকলে পূর্ণ স্বাক্ষর দিয়ে তা সত্যকরণ করা না হলে চেক ডিজঅনার হয়ে থাকে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত