শিরোনাম

টাকার বিপরীতে ডলারের দাম বৃদ্ধি দুশ্চিন্তায় আমদানিকারকরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥সঞ্জয় অধিকারী  |  ০১:৩১, অক্টোবর ১০, ২০১৯

টাকার বিপরীতে বেড়েই চলেছে ডলারের দাম। সর্বশেষ গতকাল বুধবার প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৪ টাকা ৭০ পয়সা। দুই কার্যদিবস আগেও এই দর ছিলো ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, খোলা বাজারে (কার্ব মার্কেট) ডলারের দাম আরও বেশি বলে জানা গেছে। সেখানে প্রতি ডলারের বিনিময় মূল্য ৮৭ টাকার উপরে উঠে গেছে। এতে করে রপ্তানিকারকরা কিছুটা সুবিধা পাওয়ায় খুশি হলেও কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে আমদানিকারকদের।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১ তারিখে প্রতি ডলারের ক্রয়মূল্য ছিলো ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা, আর বিক্রয়মূল্য ছিল ৮৪ টাকা ৫০ পয়সা। গত ২ ও ৩ অক্টোবর একই মূল্যে ডলার বেচা-কেনা হয়েছে। গত ৪ ও ৫ অক্টোবর সাপ্তাহিক ছুটির পর ৬ অক্টোবর প্রতি ডলারের ক্রয়মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪ টাকা ৬৫ পয়সা। বিক্রয়মূল্যও একই ছিলো। ৭ অক্টোবরও বিনিময় মূল্য একই ছিল।

৮ অক্টোবর সরকারি ছুটির পর গতকাল বুধবার ক্রয়মূল্য এক পয়সা কমে ৮৪ টাকা ৬৪ পয়সা হলেও বিক্রয়মূল্য বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪ টাকা ৭০ পয়সা। এদিকে, গতকাল বুধবার খোলাবাজারে প্রতি ডলার সর্বোচ্চ ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় বিক্রি হয়েছে। যা এক মাস আগেও ছিলো ৮৫ টাকা ৫০ পয়সা। এক মাসের ব্যবধানে তা দুই টাকা বেড়ে গেছে। ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় অঙ্কের অর্থ ব্যাংকের বাইরে চলে গেছে।

সম্প্রতি সরকারের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানকে ঘিরে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অপরাধীদের একটি অংশের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। আবার অনেকে দেশে থাকলেও টাকা পরিবর্তন করে ডলার করে রাখছেন। এ ক্ষেত্রে বেশির ভাগ লোকই খোলাবাজার থেকে ডলার কিনছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলারের মূল্য বৃদ্ধির ফলে ক্ষতির মুখে পড়বেন আমদানিকারক ও সাধারণ ভোক্তারা। কেননা, যেকোনো জিনিসের আমদানি মূল্য বেড়ে যাবে। বিশেষ করে শিশু খাদ্যের মূল্যে বেশি প্রভাব পড়বে। ফলে বাজারে সেসব জিনিসের দামও বেড়ে যাবে। যার প্রভাব পড়বে সরাসরি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর। তবে এর বিপরীতে সুবিধা পাবেন রপ্তানিকারক ও প্রবাসীরা। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের বিপরীতে তারা বেশি পরিমাণ টাকা পাবেন। আর রপ্তানিকারকদেরও প্রাপ্য টাকার পরিমাণ বাড়বে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডলারের মূল্য আমাদের মতো দেশের জন্য খুবই স্পর্শকাতর একটি বিষয়। কেননা, এটার দাম বাড়লেও একটি শ্রেণি ক্ষতির মুখে পড়ে, আবার দাম কমলেও আরেকটি শ্রেণির লোকসান হয়। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে খুব সতর্কতার সঙ্গে এটি নির্ধারণ করতে হয়। তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে তুলনা করলে, ডলারের এই দাম বৃদ্ধি বাংলাদেশের জন্য খুব একটা ক্ষতির কারণ হবে বলে মনে হয় না।

জানা গেছে, ব্যাংক থেকে ডলার কিনতে গেলে বিভিন্ন কাগজপত্র লাগে। কিন্তু খোলাবাজার থেকে সহজে টাকা দিয়ে ডলার কেনা যায়। এ পরিস্থিতিতে খোলাবাজারে ডলারের চাহিদা বাড়লেও সে অনুযায়ী সরবরাহ নেই। ফলে চাপ বেড়ে গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, বেসরকারি অনেক বড় আমদানির দায় পরিশোধ হচ্ছে। এ কারণে অনেককে খোলাবাজার থেকে ডলার কিনতে হচ্ছে। তবে খোলা বাজারে দাম বাড়লে বড় ক্ষতি হবে না।

ব্যাংকের পাশাপাশি খোলাবাজার ও মানি চেঞ্জারের লেনদেনও পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পুরো জুলাই মাসে প্রতি ডলার ৮৫ টাকা ৩০ পয়সা দরে বিক্রি হয়। আগস্টে তা বেড়ে ৮৬ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত হয়। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রতি ডলার ৮৭ টাকায়ও বিক্রি করে মানি চেঞ্জারগুলো। আর অক্টোবরে সেটা ৮৭ টাকা ৫০ পয়সায় উঠে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংকগুলোতে এখনো ডলারের তেমন চাহিদা নেই। এ কারণে বাংলাদেশ ব্যাংককে ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে না। সাধারণত ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে চাহিদা তৈরি হলে ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ১৯ হাজার ৬৫৫ কোটি টাকার ডলার ক্রয় করে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোকে ১৯ হাজার ৪৯ কোটি টাকার ডলার কিনতে হয়েছিল। চলতি বছরের জুলাই মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার বিক্রি করে, আগস্টে বিক্রি করে ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার। তবে সেপ্টেম্বরে কোনো ডলার বিক্রি করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত