শিরোনাম

আবরারের শেষ স্ট্যাটাস যে কারণে ভাইরাল

প্রিন্ট সংস্করণ   |  ০৭:২৩, অক্টোবর ১২, ২০১৯

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট)শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ তার ফেসবুকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছিলো এর জের ধরেই হত্যা করা হয় তাকে। গত রোববার ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত হওয়ার পর তার সর্বশেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হয়। গতকাল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ওই স্ট্যাটাসটি পছন্দ করেছেন তিন লাখ ৯২ হাজার ফেসবুক ব্যবহারকারী। শেয়ার হয়েছে ৭৪ হাজার। মন্তব্যও করেছেন অনেকেই। তারও আগে দেয়া দুটি স্ট্যাটাসে যথাক্রমে পছন্দ করেছেন এক লাখ ৪২ হাজার এবং এক লাখ ১৯ হাজার জন। তার সর্বশেষ তিনটি স্ট্যাটাসই ছিলো ভারতের সাথে বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট। এই স্ট্যাটাস কেনো এত সংখ্যক মানুষ পছন্দ করেছেন তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিভিন্ন অঙ্গনের মানুষ। জানাচ্ছেন রাসেল মাহমুদ

আবরার প্রকৃত দেশপ্রেমিক: আবদুল হাসিব চৌধুরী (অধ্যাপক, ইইই বিভাগ, বুয়েট)
আবরার ফাহাদের স্ট্যাটাস মানুষ পছন্দ করছে বলে শেয়ার করছে। চলমান ইস্যুর কারণে শেয়ার করেছে এমনটি নয়। সাধারণ মানুষের মনের অব্যক্ত কথাগুলোই নির্ভয়ে বলতে পেরেছিলো আবরার। মূলত আবরার একজন প্রকৃত দেশপ্রেমিক। দেশের স্বার্থ তাকে ভাবাতো। ফলে ছেলেটি চুপ করে থাকতে পারেনি। তাই দ্বিধাহীনভাবে প্রতিবাদ করেছে। ফেসবুকে লিখেছে। দেশের স্বার্থ নিয়ে যারা চিন্তা করে; তারা অনেকভাবেই বিষয়গুলো বলতে চেয়েছে। কিন্তু একটা ভয় ছিলো বলে বলতে পারেনি। আবরার সেটা পেরেছে। এ কারণে তার লেখাটি মানুষ পছন্দ করেছে।

সুপরিকল্পিতভাবে পোস্টটি ভাইরাল করা হয়েছে: বিএম মোজাম্মেল হক (সাংগঠনিক সম্পাদক বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ)
মতপ্রকাশ করার বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। প্রতিটি মানুষেরই সে স্বাধীনতা রয়েছে। আবরার যে স্ট্যাটাস দিয়েছে তা ছিলো তার নিজস্ব বক্তব্য। এখন আবরার মারা যাওয়ার পর তার স্ট্যাটাস অনেকেই পড়েছে। এটা কেন হয়েছে? এখন তো বিভিন্নভাবে ভাইরাল করা যায়। বুস্ট করেও ভাইরাল করা যায়। এমনও হতে পারে একটি চক্র সুপরিকল্পিতভাবে তার পোস্টটি ভাইরাল করেছে। এখন তো একজনের এক দুইশ আইডি থাকে। চক্রটি এমন আইডি ব্যবহার করে পোস্টটি শেয়ার করতে পারে। এ কারণে বেশি লাইক হতে পারে।

আবরার স্ট্যাটাসে সাধারণ মানুষের কথা বলেছে: জুনায়েদ সাকি (প্রধান সমন্বয়ক গণসংহতি আন্দোলন)
দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্কটা একপাক্ষিক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের শাসনের গত ১১ বছরে ভারত বাংলাদেশের কাছ থেকে নানা সুবিধা নিয়েছে। সর্বশেষ ফেনী নদীর পানি-সংক্রান্ত চুক্তি হয়েছে। কিন্তু আমরা তিস্তার পানি পাচ্ছি না। অর্থাৎ সরকার ভারতের স্বার্থে কাজ করছে, বাংলাদেশের স্বার্থ দেখছে না। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের মনের মধ্যে ক্ষোভ জন্ম নিলেও ভয়ে কিছু বলতে পারেনি। কিন্তু আবরার ফাহাদ দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে সে কথা স্ট্যাটাসে বলেছে। এই জন্য তার লেখাটি সবার হূদয়ের কথা হয়ে এত শেয়ার হচ্ছে, এত লাইক হচ্ছে। মূলত আবরারের প্রতিবাদটি সাধারণের প্রতিবাদ হয়ে দেখা দিয়েছে।

সাধারণ মানুষের সিমপ্যাথি পেয়েছে আবরার: আহমেদ আলী কাসেমী (সাংগঠনিক সম্পাদক খেলাফত মজলিশ বাংলাদেশ)
আবরার যে স্ট্যাটাসটি দিয়েছিলো তা ছিলো দেশের পক্ষে। এই স্ট্যাটাসটি তার সাহসী পদক্ষেপের একটি অংশ। সে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে যা বলেছে, তা আসলে সাধারণ মানুষেরই কথা। তার স্ট্যাটাসটি ভাইরাল হওয়ার পেছনে এটা একটা কারণ। এছাড়া, স্ট্যাটাসের কারণে আবরার খুন হওয়ার পর তার ওপর দেশের মানুষের এক ধরনের সিমপ্যাথি কাজ করেছে। স্বাভাবিকভাবেই মৃত মানুষের প্রতি মানুষের মায়া থাকে। এ কারণেও তার লেখাটি বেশি শেয়ার হতে পারে।

কিউরিওসিটি থেকে মানুষ লাইক দিয়েছে: আল নাহিয়ান খান জয় (ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ)
আবারের প্রতি সবার সিমপ্যাথি রয়েছে। তাকে বর্বর হামলার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। হয়তো তার মৃত্যুর পর সবাই তার পোস্টে কি ছিলো তা দেখতে চেয়েছিল। এখন ডিজিটাল যুগ। বাংলাদেশের মানুষের হাতে হাতে ফোন আছে। মানুষের কিউরিওসিটির জায়গা থেকে হয়ত এতগুলো লাইক পড়েছে। আবারের প্রতি সবার সিমপ্যাথি রয়েছে। তাকে বর্বর হামলার মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। হয়তো তার মৃত্যুর পরে সবাই তার পোস্ট দেখছিলো এখন ডিজিটাল যুগ। বাংলাদেশের মানুষের হাতে হাতে ফোন আছে। মানুষের কিউরিওসিটির জায়গা থেকে হয়ত এতগুলো লাইক পড়েছে। তাছাড়া আবরারের মৃত্যু নিয়ে একটা মুভমেন্ট হয়েছে। মিডিয়াগুলোতে আলোচনা হচ্ছে। এতে অনেকের আগ্রহ তৈরি হওয়ায় তার ফেসবুক সার্চ করে স্ট্যাটাসটি পড়েছে। লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার হওয়ার এটাও একটা কারণ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত