শিরোনাম

সরকারবিরোধী যৌথ প্ল্যাটফর্ম

প্রিন্ট সংস্করণ॥আবদুর রহিম   |  ০৬:৫৬, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

আন্দোলনের নয়া ভাবনা! সরকারকে চাপে রাখার যৌথ প্ল্যাটফর্ম। বাম মোর্চা জোট, জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপিকে নিয়ে তিনজোটে শিগগিরই আলাদা কর্মসূচি আসছে। সমপ্রতি বাম মোর্চা জোটের সঙ্গে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। নির্বাচনের পর ড. কামালের সঙ্গে দূরত্ব থাকলেও ফের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানো হয়েছে। সরকারকে চাপে রাখতে তিন জোটই কর্মসূচি দিতে একমত হয়েছে। এ তিন জোটের নির্ভরযোগ্য সূত্র আমার সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

চাঁদাবাজির অভিযোগে কলঙ্ক নিয়ে শোভন-রব্বানি বিদায়ের পর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যকে কমিটি গঠনের অনুমতি দেয়নি প্রধানমন্ত্রী। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশও নিয়ন্ত্রণে নেই ছাত্রলীগের হাতে। ক্যাসিনো ও অপরাধের ভয়াল রাজ্যে যুবলীগের শীর্ষ ব্যক্তির নাম আসায় এখানেও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের।

অন্যদিকে শীর্ষ নেতারাও হঠাৎ করে আওয়ামী লীগ থেকে ঝরে পড়ছে। সমপ্রতি ভারতের সঙ্গে চুক্তিতেও বুদ্ধিজীবী মহল প্রশ্ন তুলছে। বুয়েটের আবরার হত্যার পরও আওয়ামী লীগের ভাবমূর্তিতে আঘাত আসে। প্রশাসন থেকে বড় বড় দুর্নীতিগুলো গণমাধ্যমের শিরোনাম হওয়ায় এটিও অনেকে বড়চোখে দেখছে। তাই সরকারবিরোধী জোট ও দলগুলো মনে করছে এখনই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার মোক্ষম সময়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, সরকারবিরোধী এ যৌথ প্ল্যাটফর্মের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। ড. কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না বিএনপির প্রেসক্রিপশনে থাকলেও বাম মোর্চা জোটের আটটি দল সিপিবি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলে (বাসদ), বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন, গণসংহতি আন্দোলন ও বাসদ (মার্কসবাদী) এ দলগুলোর সঙ্গে বিএনপির ভালো ঘনিষ্ঠতা ছিলো না।

তাই সামপ্রতিক ইস্যু নিয়ে এ জোটের সঙ্গে বৈঠক হলে তারাও সাময়িক ইস্যুতে আন্দোলনের কথা বিএনপিকে জানিয়েছে। বাম মোর্চা জোটের নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের সঙ্গে মৌলিকভাবে ঘনিষ্ঠতা করেন, গণফোরামে আসা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ এবং রেজা কিবরিয়া। এ ছাড়াও মাহমুদুর রহমান মান্না এবং আ স ম আবদুর রবও বিষয়গুলোতে নজর রাখেন। আর সার্বিক বিষয়টি তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সব মিলিয়ে এ তিন জোটই এখন সরকারবিরোধী আলাদা আলাদাভাবে কর্মসূচি পালনে একমত হয়েছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট মূলত আন্দোলন করবে চারটি ইস্যু নিয়ে।

১. দেশের সকল নাগরিকের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ২. বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করে জাতীয় সরকার ঘোষণা ৩. খালেদা জিয়াসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তিসহ বিদ্যমান রাজনীতি ও শাসনতান্ত্রিক সংকট নিরসনে আন্দোলনরত রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবী সংগঠনগুলোকে নিয়ে জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে পথ নির্ধারণ এবং ৪. বর্তমান সরকারের গুম-খুনসহ রাতের আঁধারে ভোট ডাকাতি এবং দুর্নীতি-লুটপাট তদন্তে গ্রহণযোগ্য জাতীয় কমিশন গঠন। আর বাম মোর্চা জোটগুলো ক্ষমতাসীন দলের দুর্নীতি ও ভারত সফরের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থবিরোধী প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলবেন। কর্মসূচি দেবেন। তবে বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কোনো দাবি নিয়ে কথা বলবেন না।

দুই জোটের সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপি মৌলিকভাবে আন্দোলন করবে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিশ্চিতের জন্য। দলটির নীতিনির্ধারকরা মনে করছেন, যৌথভাবে সব রাজনৈতিক দল মাঠে নামলে সরকারের চলমান অবস্থা নিয়ে মুখ খুললে বিষয়টি খালেদা জিয়ার মুক্তিতেও সহায়ক হবে। দেশের নাগরিকদের মতামত নিশ্চিত হবে এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নজরে আসবে। সেই পরিকল্পনা থেকে বিএনপি আবরার হত্যাকে কেন্দ্র করে সমপ্রতি অনুমতি ছাড়াই পল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেছে। সূচনালগ্নে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিএনপি নেতাদের আটকানোর চেষ্টা করলেও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি বেড়ে যাওয়ায় আটকাতে আর সমর্থ হয়নি।

অন্যদিকে সারা বাংলাদেশে এ ইস্যুতে সমাবেশ করেছে বিএনপি। দলের শীর্ষ নেতাদের পাঠানো হয়েছে জেলায় জেলায়। একইদিন ঐক্যফ্রন্টও আবরার ইস্যুতে ড. কামালকে সামনে রেখে শোক র‍্যালি বের করেছিলো। কিন্তু পুলিশি বাধায় ড. কামালের নেতৃত্বের শোক র‍্যালি পণ্ড হয়ে যায়। এটির ক্ষোভ প্রকাশ করে আ স ম আবদুর রব পুনরায় আগামী ২২ তারিখে ফের শোক র‍্যালির ঘোষণা দেন। দু-একদিনের মধ্যে বিএনপিও নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। আর বাম জোট আগামী ১৭ তারিখ সারা দেশে প্রতিবাদ সমাবেশ করে নতুন কর্মসূচি দেয়ার কথা জানিয়েছে।

যৌথ প্ল্যাটফর্মের বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির এক নীতিনির্ধারক আমার সংবাদকে বলেন, ড. কামাল হোসেনের সঙ্গে বিএনপির আগে থেকেই জোট আছে। জাতীয় নির্বাচনের পর ড. কামাল হোসেন নীরব ছিলেন বিএনপির কারণেই। তখন বিএনপি কোনো আন্দোলন চায়নি। মামলা-হামলায় নেতাকর্মীরা বিপদগ্রস্ত হোক সেই চিন্তা মাথায় রেখে কোনো কর্মসূচি দেয়া হয়নি।

এর ব্যর্থতা যদি থেকে থাকে তা সম্পূর্ণ বিএনপির, ড. কামাল হোসেনের নয়। এখন বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ সাময়িক ইস্যুতে আন্দোলনের কথা ভাবছে, এ জন্য সবার সাথে যোগাযোগ বাড়িয়েছে। কর্মসূচিও আসবে। বাম মোর্চা জোটের সঙ্গে বৈঠকের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, দু-একটি বৈঠক হয়েছে। তারা তাদের মতো করে আন্দোলনের কথা জানিয়েছে। ওদের আদর্শ অনুযায়ী আন্দোলন করবে। আমরা আমাদের মতো করে আন্দোলন করবো।

ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না আমার সংবাদকে বলেন, আমরা সমপ্রতি র্যালি করেছি, সেখানে পুলিশ বাধা দিয়েছে, আমরা কর্মসূচি পালন করতে পারিনি। এখন আরও কর্মসূচি দেবো, যেন কর্মসূচি অর্থপূর্ণ হয়। এটাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।

বাংলাদেশের কমিনিউস্ট পার্টির (সিপিবি) সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স আমার সংবাদকে বলেন, দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির বিরুদ্ধে বাম জোটের আন্দোলন চলছে। আপনারা দেখেছেন সামপ্রতিক ইস্যু নিয়ে ১১, ১২ ও ১৩ তারিখে বিক্ষোভ হয়েছে। এটি ঢাকায়ও হয়েছে, সারা দেশেও হয়েছে। আগামী ১৭ তারিখ আবার নতুন কর্মসূচি ঘোষণা হয়েছে। সারা দেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে। এরপর পুনরায় নতুন কর্মসূচি দেয়া হবে। লুটেরাজ সরকার ও দুর্বৃত্তায়িত রাজনীতির বিরুদ্ধে বাম জোটের আন্দোলন মজবুতভাবে চলবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত