শিরোনাম

সাক্ষাৎকারে বিআরইবির চেয়ারম্যান

গ্রামে বিদ্যুৎসংযোগে রেকর্ড

প্রিন্ট সংস্করণ   |  ০৭:৩১, অক্টোবর ১৪, ২০১৯

গত এক দশকে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়ায় গ্রামে এগিয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎসংযোগ। বর্তমানে সব রেকর্ড ছাড়িয়ে প্রায় তিন কোটি সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে শুধু গত পাঁচ বছরেই সংযোগ দেয়া হয়েছে দেড় কোটির বেশি। সারা দেশে ৯৪ শতাংশ গ্রামে এই বিদ্যুৎসংযোগ দেয়া হয়েছে। সোলার সিস্টেমেও গ্রাহকদের বিদ্যুৎ দেয়া হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মইন উদ্দিন (অব.) খিলক্ষেতে নিজ কার্যালয়ে আমার সংবাদকে এভাবেই এগিয়ে যাওয়ার কথা জানান। তার সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশটুকু তুলে ধরেছেন সিনিয়র রিপোর্টার জাহাঙ্গীর আলম

বিআরইবি চেয়ারম্যান হিসেবে ২০১১ সালের ২০ অক্টোবর দায়িত্ব নেন মেজর জেনারেল মইন উদ্দিন। তারপরই তিনি গত এক দশকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন গ্রামকে আলোকিত করতে। তারই অংশ বিশেষ বিদ্যুতের আধুনিকায়ন ও সঞ্চালনে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আরও ভালো করতে প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্প্রতি অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানান চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, চলামান বিভিন্ন প্রকল্পে সুফল দেখা যাচ্ছে সারা দেশে। শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে অধিকাংশ উপজেলা। সারা দেশে ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ বিদ্যুৎ সেবা দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সব জনগণকে গুণগত মানের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে এর যাত্রা শুরু করা হয়েছে। বুয়েট থেকে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশল বিভাগে পড়াশোনা করার সুবাদে ২০১১ সালে এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে মইন উদ্দিন পল্লীতে বা গ্রামে বিদ্যুৎসংযোগের বিভিন্ন উদ্যোগ নেন। উদ্দেশ্য ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সকল জনগণকে বৈদ্যুতিক সেবার আওতায় আনা। সেই উদ্যোগ সফলতাও দেখতে পাচ্ছেন সারা দেশের মানুষ। ২০১৬ সালের ১৩ আগস্ট ৬টি উপজেলাকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে। ২০১৭ সালে তিনি অবসরে গেলেও বাকি কাজ চালিয়ে যেতে সরকার ২০১৮ সালের ১০ জানুয়ারিতে আবার দায়িত্ব দেন। তাই তিনিও চেষ্টা করছেন আরও এগিয়ে যেতে।

এ ব্যাপারে তিনি বলেন, কোনো কিছু হঠাৎ করেই হয় না। একটু সময় লাগে। আমাদেরও একটু সময় লাগছে। ১৯৭৮ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ৩০ বছরে মাত্র ৭৪ লাখ বা ২৭ শতাংশ সংযোগ দেয়া হয়। অথচ গত এক দশকেই প্রায় ২ কোটি বা ৬৭ শতাংশ সংযোগ দেয়া হয়েছে গ্রামে। এর মধ্যে গত পাঁচ বছরেই এক কোটি ৬১ লাখ বিদ্যুৎসংযোগ দেয়া সম্ভব হয়েছে। শুধু তাই নয়— ২০১৫ সালে ৩১ লাখ ৫৫ হাজার, পরের বছরে ৩৫ লাখ ৫৫ হাজার, ২০১৭ সালে ৩৬ লাখ ৭২ হাজার, ২০১৮ সালে ৩৬ লাখ ৮৮ হাজার এবং চলতি বছরের কয়েক মাসে ২০ লাখ ২৪ হাজার গ্রাহককে বিদ্যুৎসংযোগ দেয়া সম্ভব হয়েছে। আর ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সালে বিদ্যুৎসংযোগ দেয়া হয়েছে মাত্র ৩৮ লাখ। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ৮ লাখ ৯৫ হাজার। এভাবে গত ১১ বছরে পল্লীতে বিদ্যুৎসংযোগ দেয়া হয়েছে এক কোটি ৯৯ হাজার। ২০১৪ সালের আগে ও পরে অনেক পার্থক্য কেন?

এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকার যখন যা চাই সেভাবেই কাজ করা হয়। ২০১০ সালে ফান্ড না থাকায় এক সময়ে সংযোগ দেয়া বন্ধ হয়ে যায়। মাত্র ২ লাখ ৩০ হাজার সংয়োগ দেয়া হয়। দ্বিতীয়বার সরকার ক্ষমতায় এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন ২০২১ সালে সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ। তা আমলে নিয়ে বিভিন্নভাবে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন বাড়ানো হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় সাব-স্টেশনও বাড়ানো হয়েছে। তারই সুফল পেতে থাকেন ২০১৫ সাল থেকে গ্রামের মানুষ। গত বছরে সর্বোচ্চ ৩৬ লাখ ৮৮ হাজার গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হয়েছে। ৪ লাখ ৭২ হাজার কিলোমিটার বিদ্যুৎ বিতরণ লাইনের মাধ্যমে গত মাস পর্যন্ত ২ কোটি ৭৩ লাখ গ্রাহকের মধ্যে ৯১ শতাংশ অর্থাৎ ২ কোটি ৪৮ লাখ গ্রাহককে সংযোগ দেয়া হয়েছে বাড়িতে। ৬ শতাংশ ব্যবসায়ে, সেচ ও অন্য ক্ষেত্রে ২ শতাংশ এবং মাত্র এক শতাংশ গ্রামের শিল্পে বিদ্যুৎসংযোগ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৫০ কিলোওয়াটের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী হচ্ছে ৫০ শতাংশ। তারা মাসে ১৪০ টাকা বিদ্যুৎ অফিসে বিল দিয়ে থাকেন। ৫১ থেকে ৭৫ কিলোওয়াটের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী হচ্ছেন ২৭ শতাংশ। তারা মাসে ২৮৫ টাকা বিল দিয়ে থাকেন। ৭৬ থেকে ২০০ কিলোওয়াটের বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী ১৭ শতাংশ। তারা মাসে ৬২৫ টাকা বিল দিয়ে থাকেন।

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে সাবেক মেজর জেনারেল বলেন, বিভিন্ন সময়ে সারা দেশে সচেতনতামূলকও কাজ বিশেষ করে উঠান বৈঠক, টিমওয়ার্ক, ক্যাপাসিটি বিল্ডআপ, পারফরমেন্স বেইজড ইনসেনটিভের ব্যবস্থা করা হয়। এর সুফলও পাওয়া যাচ্ছে। বেস্ট অর্গানাইজেশন অ্যাওয়াড-২০১৬ এবং ২০১৮ সালেও অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। ২০০৮ সালে সিস্টেম লস ১৮ শতাংশ থাকলেও বর্তমানে কমে ১০ দশমিক ৯০ শতাংশে আনা হয়েছে। যে যাই বলুক বা করুক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। এই বার্তা সব জায়গায় দেয়া হয়েছে। তা আমলে নিয়ে কাজও করা হচ্ছে। ই-জিপি বা অনলাইনে কেনাকাটা করা হচ্ছে। গ্রাহকের সুবিধার্থে প্রি-পেইড মিটারও চালু করা হয়েছে। মুজিববর্ষ উপলক্ষে শতভাগ বিদ্যুতের সাথে পেপারলেস অফিসেরও লক্ষ্য ধরা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগ সবার ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া তা আমলে নেয়া হয়েছে। এরই অংশ বিশেষ ইতোমধ্যে সারা দেশে ৩৫৩টি উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। বাকি ১০৮টিকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আনার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।

এটা সম্ভব হবে বলে অভিমত প্রকাশ করে বলেন, আমরা শুধু গ্রিডেই সীমাবদ্ধ নেই, শর্তের অংশ বিশেষ এ পর্যন্ত ৩২ হাজার ৯২১ জন গ্রাহককে সোলার সংযোগ দেয়া সম্ভব হয়েছে। অন্য একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ১৫ হাজার ২৫০ জনকে সোলার হোম সিস্টেমে আনা হয়েছে। শুধু গ্রিডেই বিদ্যুৎসংযোগে সীমাবদ্ধ নেই বিআরইবি।

তিনি বলেন, সৌর বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের মাধ্যমে কৃষি সেচও চালু করা হয়েছে। একক বা যৌথভাবে কৃষকদের ২ হাজার ৪০টি বিদ্যুৎসংযোগ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে সৌর বিদ্যুতের এ পাম্প নিতে। তবে ১৫ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট করতে হবে। ১০ বছরে বাকি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর-১, রংপুর-২, বগুড়া-১, নওগাঁ-২, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা-২ ও ফেনী এ ১০টি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৮ সালে এটা শুরু হয়েছে। ২০২০ সালে সম্পূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করা হবে কৃষকদের স্বার্থের এই প্রকল্প।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত