শিরোনাম

সময়ের গুরুত্ব দিয়ে তারা সেরাদের সেরা

প্রিন্ট সংস্করণ॥ রাসেল মাহমুদ   |  ০৭:০৯, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

পড়ালেখার বিষয় হিসেবে যুগ যুগ ধরে মেডিকেল সাইন্স শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। প্রায় প্রত্যেক বাবা-মায়ের স্বপ্ন থাকে তার সন্তান মেডিকেলে পড়বে। কিন্তু ভর্তি পরীক্ষার কঠিন যুদ্ধে জয়ী হতে না পেরে অনেকের স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে যায়। স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থীই এই যুদ্ধে জয়ী হয়। যারা মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পান, তাদের সেরা মেধাবী বলতেই অভ্যস্ত সবাই। এই সেরাদের মধ্য থেকেও জাতীয় মেধা তালিকায় স্থান করে নেন কিছু শিক্ষার্থী। যাদের সেরাদের সেরা বলে অভিহিত করা হয়। ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় যারা সেরাদের সেরা হয়েছেন, তারা জানিয়েছেন কঠিন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার গল্প।

মেডিকেল ভর্তির সুযোগ পেতে সেরা শিক্ষার্থীরা সময়কেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করেছেন রংপুরের রাগীব নূর অমিয়। ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় তিনি পেয়েছেন ৯০.৫০ নম্বর। রংপুর ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করা অমিয় ছোটবেলা থেকেই মেধাবী। এসএসসি পরীক্ষায় দিনাজপুর বোর্ডে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। অমিয়’র বাবা এস এম মফিজুল ইসলাম মুকুল একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা। তার মা আনজুমান আরা চৌধুরী নীলফামারী মশিউর রহমান ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক। ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই অভিনন্দনে ভাসছেন অমিয়। তার বাবা-মাকেও অভিনন্দন জানাচ্ছেন বিভিন্ন স্তরের মানুষ-শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম হয়ে ভীষণ খুশি অমিয়। তিনি বলেন, পরীক্ষা ভালো দিয়েছিলাম। ভালো ফল হবে তা জানতাম। তবে প্রথম হয়ে যাবো এটা ভাবিনি। এই ফলে আমি দারুণ খুশি। এমন ফলের পেছনে মা-বাবাসহ শিক্ষকদের অবদান সবচেয়ে বেশি। একজন ভালো ডাক্তার সমাজ ও দেশের অনেক কল্যাণ করতে পারে। আমি চিকিৎসক হয়ে দেশের জন্য, আর্তমানবতার জন্য কাজ করতে চাই।তিনি আরও বলেন, ভর্তি প্রস্তুতির সময় অন্যকিছু করিনি। সময়কে গুরুত দিয়ে সময়ের কাজ সময়ে করার চেষ্টা করেছি। আল্লাহ আমাকে যথাযথ প্রতিদান দিয়েছেন।

এমবিবিএস পরীক্ষার কঠিন যুদ্ধে অংশ নিয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছেন তৌফিকা রহমান নেহা। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ নেহা ১০০ নম্বরের মধ্যে ৮৯ নম্বর পেয়েছেন। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক কাজী আসাদ গণমাধ্যমে বলেছেন, তৌফিকা রহমান নেহা মেডিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তবে খুব বেশি কলেজে আসতো না নেহা। শুধু নেহা নয়, বিজ্ঞান বিভাগের অধিকাংশ শিক্ষার্থী কলেজে আসতে চায় না। সে ক্ষেত্রে বলা যায়, ঠিকমতো ক্লাস না করেও দ্বিতীয় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে নেহা। তবে এটা বলতেই হবে নেহা খুবই মেধাবী শিক্ষার্থী। ঠিকমতো ক্লাসে না আসায় তার বিষয়ে আমাদের বিস্তারিত জানা নেই।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আফাজাল হোসেনের কাছে তৌফিকা রহমান নেহার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নেহার ব্যাপারে বিস্তারিত কিছুই আমি জানি না। তবে শুনেছি মেডিকেলের পরীক্ষায় দ্বিতীয় হয়েছে নেহা।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন রাজধানীর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং এইচএসসি পাস করা সুইটি সাদিক। সুইটি ১০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ৮৫.৫০ নম্বর। সুইটির বাবা সাদেক আলী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। মা মোছা. খালেদা গৃহিণী। একমাত্র ভাই নটরডেম কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সুইটি সাদিক তার ভালো ফলের জন্য বাবা-মায়ের সহযোগিতাকেই বড় করে দেখছেন। এছাড়া কলেজের শিক্ষদের সহযোগিতার কথাও অকপটে বলেছেন তিনি।

সুইটি জানান, সময়ের পড়া সময়ে শেষ করতে চেষ্টা করেছি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমার কোনো অ্যাকাউন্ট নেই। ছোটবেলা থেকেই মেডিকেলে পড়ার স্বপ্ন দেখেছিলাম। আল্লাহ সে স্বপ্ন পূরণ করে দিলেন।

তিনি বলেন, মেডিকেলে পড়ার সুযোগ পেয়ে আমি অনেক খুশি। আল্লাহ আমার বাবা-মায়ের মনের আশা পূরণ করেছেন। ভবিষ্যতে ভালো চিকিৎসক হয়ে দেশের সেবা করতে চাই। গরিব-দুঃখী মানুষের সেবা করাই আমার প্রধান ব্রত। এ ছাড়ও দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন মেধাবী এই শিক্ষার্থী।

সুইটি সাদিকের বাবা সাদেক আলী বলেন, মেয়র সাফল্যে আমি অনেক খুশি। আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। ছোটবেলা থেকেই মেয়েকে বিভিন্নভাবে গাইড করার চেষ্টা করেছি। বিশেষ করে সুইটির মা সব সময় সচেতন থেকে মেয়ের পড়ালেখা তদারকি করেছেন। আর কলেজের শিক্ষকরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। আমি চেয়েছি মেয়েটা শুধু গ্রন্থগত বিদ্যায় নয়, সত্যিকার শিক্ষায় শিক্ষিত হোক। এ জন্য একই ধরনের একাধিক বই দেয়ার চেষ্টা করেছি। মেয়েকে কখনো কোনো কোচিংয়ে দিইনি। নিজের মেধা দিয়েই এ পর্যন্ত এসেছে।

মেডিকেলের মেধা তালিকায় পঞ্চম হয়েছেন নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি উত্তীর্ণ রাফসান রহমান খান। তার স্কোর ৮৫.২৫। রাফসানের বাবা শিক্ষক, মা গৃহিণী। একমাত্র বড়ভাই বুয়েটের সিএসই বিভাগের পড়ছেন।

ভালো ফল করার পেছনে সময়ের গুরুত্ব দিয়েছেন জানিয়ে রাফসান রহমান খান বলেন, বাবা-মা সব সময়ই কেয়ার করতেন। সহযোগিতা পেয়েছি শিক্ষকদের। যখন আমি হতাশ হয়ে পড়তাম তখন বাবা-মা আমাকে সাহস দিয়েছেন। ফলে ভালো ফল করা আমার জন্য সহজ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, মেডিকেল কলেজের পড়ালেখা শেষ করে মানুষের সেবা করতে চাই। আল্টিমেটলি এটাই হওয়া উচিত। ছোটবেলা থেকেই মানুষের সেবা রতে চেয়েছি। চিকিৎসক হয়ে আর্ত-মানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চাই।

উল্লেখ্য, সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ১০ হাজার ৪০৪টি আসন রয়েছে। এই আসনের বিপরীতে চলতি মাসের ১১ তারিখে পরীক্ষায় অংশ নেন ৬৯ হাজার ৪০৫ জন। উত্তীর্ণ হয়েছেন ৪৯ হাজার ৪১৩ জন। এদের মধ্যে মেয়ে ২৬ হাজার ৫৩১ জন। ছেলে ২২ হাজার ৮৮২ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, আগামী ২২ অক্টোবর থেকে ৩৩ অক্টোবর পর্যন্ত সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোর ভর্তি কার্যক্রম শেষ হবে। সরকারি মেডিকেলে ভর্তি শেষ হওয়ার পর বেসরকারি মেডিকেলগুলোতে ভর্তি শুরু হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত