শিরোনাম

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প

রেকর্ড বরাদ্দেও বাস্তবায়ন তলানিতে

প্রিন্ট সংস্করণ॥ আসিফ শওকত কল্লোল ও জাহাঙ্গীর আলম   |  ০৭:১৫, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে সরকার রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ দিলেও সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বাস্তবায়নের হার তলানিতে পড়ে আছে। চলতি ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে গত মাস পর্যন্ত বাস্তবায়ন হার মাত্র ৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ। যেখানে গত অর্থবছরে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের বাস্তবায়ন হার শতভাগ ছিলো।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্প্রতি উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা মিটিংয়ে প্রকল্প পরিচালক শওকত আকবর বলেন, অক্টোবর মাসে রাশিয়ার পারমাণবিক প্রকল্পের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি রপ্তানিকারক কোম্পানি এটমস্ট্রয় এক্সপোর্টকে অগ্রিম পরিশোধ করা হলে প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি বৃদ্ধি পাবে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, রাশিয়ার ঋণের অর্থছাড় করার ক্ষেত্রে অনেক শর্ত মানতে হয়, এ জন্য কয়েক মাসে বাস্তবায়ন হার কম হতে পারে। তবে কি ধরনের শর্ত তা উল্লেখ করা হয়নি।

সূত্র জানায়, রাশিয়ার ঋণের টাকা ভিভিইআর-১২০০ টাইপ রিঅ্যাক্টর ও এর আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতি নিয়ে আসছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দাবি করেছে— রাশিয়ার ভিভিইআর রিঅ্যাক্টর মনুষ্য সৃষ্ট যেকোনো বিপর্যয় এবং প্রাকৃতিকভাবে ঘটতে পারে এমন যেকোনো দুর্ঘটনা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষম। ফুকুশিমা দুর্ঘটনার কথা মাথায় রেখে বাহ্যিক বিদ্যুৎ সরবরাহবিহীন অবস্থায় ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত প্ল্যান্ট নিরাপদে শাট ডাউন রাখার ক্ষমতা ডিজাইনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় রাশিয়ার ঋণের প্রথম কিস্তির আংশিক এবং দ্বিতীয় কিস্তির ৪৩৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা ছাড় করেছে। যা গতকালই অর্থ বিভাগকে অবহিত করেছে প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এর আগে প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জুলাই মাসে ৪৬২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ছাড় করেছে।

ফলে দুই কিস্তিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরে মোট রাশিয়ার ঋণের দুই হাজার ৩৫৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দের মধ্যে মাত্র ৮৯৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা ছাড় করেছে। চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে ১৪ হাজার ৯৮০ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

রূপপুর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তিন বছর আগে রাশিয়ার অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে প্রায় ১১শ কোটি মার্কিন ডলারের স্টেট এক্সপোর্ট ক্রেডিট (ঋণ) চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। তখন বিনিময় হার অনুযায়ী (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা) এর পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ৯১ হাজার কোটি টাকা। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ১৩ হাজার ৯৩ কোটি টাকা। এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি ব্যয়ের প্রকল্প।

এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেনের রূপপুর প্রকল্পের পুরো অর্থ ব্যয় করার আশ্বাস দিয়ে আমার সংবাদকে বলেন, পরিমাণ যাই হোক বর্তমানে এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন সন্তোষজনক। চলতি অর্থবছরে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আশা করি তা ব্যয় করতে পারব। সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে। এটা বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন আইটেম যুক্ত রয়েছে। এ কাজের সাথে যারা যুক্ত, বলা যায় প্রায় সবাই বাইরের। প্রকল্প পরিচালক (পিডি) তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নিচ্ছেন। কাজেই সার্বিক ব্যাপারে তিনিই হালনাগাদ তথ্য জানতে পারছেন।

স্বপ্নের সেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাস্তবে রূপ দিতে ২০১০ সালের ১০ নভেম্বর জাতীয় সংসদে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন ধাপ পেরিয়ে ২০১৩ সালের ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথম পর্যায় কাজের উদ্বোধন করেন। আর বাস্তবে কাজ করার জন্য বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র কোম্পানি গঠন করা হয়। ২০১৬ সালে রাশিয়ার সঙ্গে ঋণ চুক্তি হয়। কারণ অধিকাংশ অর্থই ঋণ হিসেবে রাশিয়া দিচ্ছে। ৯ বছর মেয়াদি এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন।

পাবনার পদ্মার তীরে ঈশ্বরদীর রূপপুর স্থানে এটি ২৬০ একর (প্রায় আটশ বিঘা) জমির ওপর করা হচ্ছে। এছাড়া প্রায় একশ বিঘা জমিতে আবাসিক ভবন করা হচ্ছে। ২৪শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ হবে ২০২৫ সালে। তবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রথম পর্যায়ে ২০২৩ সালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এই বিদ্যুৎ দেশের ১৩ জেলায় পৌঁছে দিতে গত বছর ১০ এপ্রিল বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে সরকার।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত