শিরোনাম

নৌকাবিরোধীদের ঠিকানা কোথায়

প্রিন্ট সংস্করণ॥ রফিকুল ইসলাম   |  ০৭:২১, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

সারাদেশে জেলা-উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন সামনে রেখে সরগরম হয়ে উঠেছে তৃণমূল আওয়ামী লীগের রাজনীতি। তৃণমূলের শীর্ষ পদ-পদবি নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেকেই দলের শীর্ষ পদে আসতে প্রভাবশালী নেতার কাছে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির সম্মেলন ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে আগ্রহ তৈরি হলেও ভাটা পড়েছে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকাবিরোধী নেতাদের মাঝে। বিদ্রোহীদের অনেকেই বর্তমানে দলের দায়িত্বশীল পদে থাকলেও আগামী সম্মেলনে দলে স্থান হবে কী না তাও জানা নেই তাদের। এমন অবস্থায় আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে তাকিয়ে আছেন বিদ্রোহীরা।

আগামী ২০-২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলন। অনুষ্ঠেয় ওই সম্মেলনের আগেই তৃণমূলে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি সম্মেলন করতে চান আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সে জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। নেত্রীর এমন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে ইতোমধ্যে তৃণমূলের বিভিন্ন জেলায় সাংগঠনিক সফর শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন দলটির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা।

দায়িত্বশীল নেতাদের সফর ও বিভিন্ন দিকনির্দেশায় সরগরম হয়ে উঠেছে তৃণমূলের রাজনীতি। ইতোমধ্যে দলের বিভিন্ন পদ-পদবিতে আসতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন পদপ্রত্যাশীরা। রাজনীতির মাঠে তৃণমূলে এমন চিত্র হলেও ভিন্ন অবস্থানে রয়েছে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকাবিরোধী নেতারা। বর্তমানে দলের দায়িত্বশীল পদে থাকলেও সম্মেলনকে সামনে রেখে দলীয় কোনো কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন না তারা। যদিও বিদ্রোহী করার জন্য ইতোমধ্যে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তবে দল থেকে এখনো কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় আগামী সম্মেলনে দলে থাকা না থাকা নিয়ে নৌকাবিরোধীদের মাঝে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

আ.লীগের সূত্রে জানা যায়, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে অবস্থান নেয়া বিদ্রোহী প্রার্থী ও তাদের মদদদাতা ১৭৭ নেতাকে গত ৮ সেপ্টেম্বর কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠায় আওয়ামী লীগ। একই সাথে ২১ কার্যদিবসের মধ্যে চিঠির জবাব দিতে দলের কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছিলো। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকাবিরোধী কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকা ওই নেতাদের প্রায় সবাই ইতোমধ্যে শোকজের জবাব দিয়েছেন। ডাকযোগে পাঠানো ফিরতি চিঠির শুরুতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন তারা। একই সাথে ভোটের মাঠে নৌকাবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করার কারণ হিসেবে স্থানীয় মন্ত্রী, এমপি ও প্রভাবশালী নেতাদের বক্তব্য ও উৎসাহকে দায়ী করেছেন তারা।

এর আগে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়া আট সাংগঠনিক বিভাগের দুইশ নেতাকে তালিকাভুক্ত করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। পরবর্তীতে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে দলীয় পদধারী ১৭৭ নেতার নামে শোকজ চিঠি পাঠানো হয়। একাদশ জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলেও পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংগ্রহণ করেনি বিএনপি-জামায়াতসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল।

এমন অবস্থায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের বিরুদ্ধে গিয়ে ভোটের মাঠে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন তৃণমূল আওয়ামী লীগের দুই শতাধিক নেতা। মূলত মন্ত্রী, সাংসদ, স্থানীয় ও শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের ইন্ধনে ভোটের মাঠে দাঁড়ান তারা। যার ফলে রোকর্ড সংখ্যক উপজেলায় ক্ষমতাসীন দলটির দলীয় প্রতীকের পরাজয় ঘটে। শুধু পরাজয় নয়, নৌকাবিরোধী প্রার্থীদের ক্ষমতার দাপটে কোণঠাসা হয়ে পড়েন দলের ত্যাগী ও পরিশ্রমী নেতারা।

এমন অবস্থায় বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন দলটির সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এজন্য বিদ্রোহী ও মদদদাতাদের আমলনামাও তৈরি করেছেন তিনি। যদিও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি তিনি। এদিকে বিদ্রোহীদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসবে দলীয় সভানেত্রী এমনটাই আশা করছেন পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের বিদ্রোহী প্রার্থীরা। শুধু তাই নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ জেলা-উপজেলা কমিটির দায়িত্বশীল পদে বহাল থাকার আশা প্রকাশ করেছেন তারা।

গোসাইরহাট উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান ঢালি আমার সংবাদকে বলেন, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রভাবশালী নেতার ক্ষমতার দাপটে অযোগ্য ব্যক্তিকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হয়েছিলো। সে কারণেই বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলাম এবং বিজয় নিশ্চিত করেছি। আশা করি আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব বিষয়কে বিবেচনায় রেখেই বিদ্রোহীদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি বলেন, জানিনা বিদ্রোহীদের বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। আগামীতে দলে থাকতে পারবো কী না তাও জানি না। পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তের বাইয়ে গিয়ে ভোটের মাঠে নৌকা প্রতীকের বিদ্রোহী ও মদদদাতাদের সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতারা। তাদের দাবি, বিদ্রোহীদের বিষয়ে এখন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে আগামীতে অনেকেই নৌকার বিরোধিতা করবে। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতারা মনে করেন, আগামী সম্মেলনে ওই অভিযুক্ত নেতাদের কমিটি গঠনের সাইনিং ক্ষমতা থেকেও দূরে রাখার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জিত কর্মকার আমার সংবাদকে বলেন, যারা আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের বাইয়ে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর নৌকার বিরুদ্ধে ভোটের মাঠে কাজ করতে পারে। তারা আগামীতেও আওয়ামী লীগের ক্ষতি করবে। এদের বিরুদ্ধে এখনই কার্যকর শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

উপজেলাপর্যায়ে দায়িত্বশীল পদে থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নৌকাবিরোধী নেতাদের আগামী সম্মেলনে কিভাবে দেখছেন এমন প্রশ্নের জবাবে সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এমপি আজিজ আমার সংবাদকে বলেন, আওয়ামী লীগের অনেক নেতা দায়িত্বশীল পদ-পদবিতে থেকে পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রকাশ্যে নৌকার বিরোধিতা করেছে। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে তাদের শোকজ নোটিস দেয়া হয়েছে। নৌকাবিরোধীদের বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে যে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে। দল চাইলে তাদের কোনো পদ ও আওয়ামী লীগে স্থান দেয়া হবে না।

আওয়ামী লীগের তথ্য ও গভেষণা সম্পাদক অ্যাড. আফজাল হোসেন আমার সংবাদকে বলেন, পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটের মাঠে অনেক প্রভাবশালী নেতা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের বিরোধিতা করেছে। এদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এজন্য তৃণমূল সম্মেলনে কোনো ধরনের প্রভাব পড়বে না।

তিনি বলেন, যারা আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে নৌকার বিরোধিতা করে তাদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থাকতে পারে না। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা বাস্তবায়ন করা আমাদের দায়িত্ব।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক আমার সংবাদকে বলেন, জেলা-উপজেলায় দায়িত্বশীল পদে থেকে নৌকা ও নৌকার নেতাকর্মীদের বিরোধিতা করবেন। তার জন্য আপনার কোনো পানিশমেন্ট হবে না, তা কী হয়?

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত