শিরোনাম

বড় বিনিয়োগের আগে শুল্ক চুক্তি করতে চায় সৌদি আরব

প্রিন্ট সংস্করণ॥আসিফ শওকত কল্লোল   |  ০৭:১০, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

সৌদি আরব বাংলাদেশে ৩৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের জন্য অতি দ্রুত কো-অপারেশন অ্যান্ড মিউচুয়াল অ্যাসিস্টেন্স ইন কাস্টম ম্যাটার চুক্তি করতে চাচ্ছে। সম্প্রতি ঢাকায় রয়েল সৌদি আরব দূতাবাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ বিষয়ে চিঠি পাঠিয়ে শুল্ক চুক্তি করার তাগিদ দিয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠিটি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর), মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া এবং আর্থিক বিভাগের সচিব আবদুল রউফ তালুকদারের কাছে পাঠিয়ে সৌদি আরবের সাথে শুল্ক চুক্তি করার জন্য যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছে। সৌদি আরব সরকারের জেনারেল কাস্টম অথরিটি শুল্ক চুক্তি অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে অনুরোধ করেছে। শুল্ক চুক্তি করার জন্য সৌদি সরকার বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, গত মার্চে সৌদি আরব সফরে সরকারের বাণিজ্য ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা প্রায় ৩৫ বিলিয়ন ডলার বা তিন হাজার ৫০০ কোটি টাকা বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতে অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যুৎ, জ্বালানিসহ বড় প্রকল্পে বিনিয়োগ করার আগ্রহ প্রকাশ করে। চিঠিতে বলা হয়, সৌদি আরব সরকারের ক্যাবিনেটে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সাথে শুল্ক চুক্তির খসড়া অনুমোদন করেছে।

শুল্ক চুক্তির কো-অপারেশন অ্যান্ড মিউচুয়াল অ্যাসিস্টেন্স বিধানের আওতায় দুই দেশ— বাংলাদেশ ও সৌদি আরব কাস্টম-বিষয়ক বিভিন্ন তথ্য আদান-প্রদান করবে। কোনো ধরনের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন করা হলে অবশ্যই দেশগুলো তা আদান-প্রদান করবে। দুই দেশ মেধাস্বত্ব অধিকার সুরক্ষা দেয়ায় এই শুল্ক চুক্তিতে বড় ধরনের শর্ত যোগ করা হয়েছে। দুই দেশের আমদানি-রপ্তানি পণ্যগুলো নিজ নিজ দেশের আইন অনুসারে নির্দিষ্ট দেশে প্রবেশ করবে।

কাস্টম আইন ভঙ্গ করলে যাতে অবশ্যই দুই দেশ— বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের বিশেষজ্ঞ এবং শনাক্তকারী নিয়োগ করতে পারে; এই অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করবে। শুল্ক চুক্তি অনুসারে অবৈধ ও স্পর্শকাতর পণ্যগুলো কোনোভাবেই দুই দেশে প্রবেশ করতে পারবে না।

এ পণ্যের মধ্যে রয়েছে— আগ্নেয়াস্ত্র, মিশাইল, বোমা এবং নিউক্লিয়ার পণ্যসামগ্রী। শিল্পকলা ও প্রত্নতত্ত্ব যেসব পণ্যের আর্থিক মূল্য রয়েছে, এগুলো আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের নিষিদ্ধ মাদক এবং যেসব পণ্য পরিবেশের ক্ষতি করে; তা আমদানি-রপ্তানি করা যাবে না। শুল্ক চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, দুই দেশের কোনো পক্ষ আমদানি-রপ্তানিবিষয়ক জটিলতার জন্য সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে আমদানি-রপ্তানিকারকরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।

খসড়া চুক্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশগুলো স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার্থে কোনো সরকারের আবদার রক্ষা করতে না পারার অধিকার রাখে। এ চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হলে কোনো অসুবিধা দেখা দিলে অবশ্যই দুই পক্ষ সরকারের উচ্চমহলে বিষয়টি অবহিত করতে পারবে। আর সমস্যা দূর করতে যথাযোগ্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। এলএনজিভিত্তিক (লিকুইফাইড ন্যাচারাল গ্যাস) বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে সৌদি আরব। দুই থেকে আড়াই বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগে দেশে তিন হাজার ৬০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। তবে কেন্দ্র নির্মাণের স্থান ঠিক হবে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা জরিপ শেষ হওয়ার পর।

গতকাল বৃহস্পতিবার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সঙ্গে সৌদি আরবের কোম্পানি অ্যাকোয়া পাওয়ারের এ সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ এবং অ্যাকোয়া পাওয়ারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবু নাইয়ান স্মারকে সই করেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জিইর সঙ্গে পিডিবি এবং জার্মানির সিমেন্সের সঙ্গে নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির একই ক্ষমতার দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে যোগাযোগ অবকাঠামো নির্মাণ, বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ বড় প্রকল্পে সৌদি আরবের কাছে ৩৫ বিলিয়ন বা তিন হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ চেয়েছে বাংলাদেশ। সম্ভাব্য বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ বেশ কিছু প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরবকে। ওই প্রস্তাবগুলো নিয়ে সমীক্ষার পরই সৌদি আরব বিনিয়োগের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। সৌদি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে গত মার্চ মাসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

রাজধানীর এক হোটেল অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে সৌদি আরবের বাণিজ্য ও বিনিয়োগমন্ত্রী মাজেদ বিন আবদুল্লাহ আল কোসাইবি তার দেশের নেতৃত্ব দেন। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারি মাসে সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সামরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিরক্ষা সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ। সেই সময় সৌদি আরবের রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাসের নবনির্মিত ভবন পরিদর্শনের সময় এ কথা জানান সেনাপ্রধান। জেনারেল আজিজ আহমেদ সৌদি আরবের যৌথবাহিনীর প্রধান ফায়াদ আল রয়ালির সঙ্গে বৈঠক করেন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত