শিরোনাম

শূন্যপদের হালনাগাদ তথ্য জানা যাবে কাল

প্রিন্ট সংস্করণ॥সঞ্জয় অধিকারী   |  ০২:৪৯, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত যেসব কোম্পানির পরিচালকদের এককভাবে ন্যূনতম দুই শতাংশ এবং উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার নেই, সেসব কোম্পানির পর্ষদের শূন্যপদ পূরণ হয়েছে কি না— তা আগামীকাল (বুধবার) জানা যাবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে বিএসইসি থেকে প্রজ্ঞাপন জারির পর ডিএসই থেকে চিহ্নিত কোম্পানিগুলোর কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য জানতে চেয়ে চিঠি দেয়া হয়েছিল।

জানা গেছে, গত ২১ মে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ‘সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯’-এর ক্ষমতাবলে এ সংক্রান্ত নোটিফিকেশন সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। এসময় ৪৭টি কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকের শেয়ারধারণ ৩০ শতাংশের কম ছিলো।তাদের কম থাকা শেয়ার পূরণ করার জন্য ৩০ কার্যদিবস সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল।

এরই মধ্যে সেই সময় পার হয়ে গেছে। ফলে কোম্পানিগুলো তাদের ব্যর্থ পরিচালককে সরিয়ে নতুন পরিচালক অন্তর্ভুক্ত করেছে কি না— তা জানতে চেয়ে স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানিগুলোকে চিঠি দেয়। কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে তথ্য পাওয়ার পর ডিএসই তা বিএসইসিকে পাঠাবে। ডিএসই’র দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিএসইসি পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বিএসইসি প্রজ্ঞাপন জারির সময়ে ডিএসই’র ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, উদ্যোক্তা ও পরিচালক সম্মিলিতভাবে ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর মধ্যে ফাইন ফুডসের শেয়ার ধারণের পরিমাণ ছিল এক দশমিক ০৯ শতাংশ, ইনটেক অনলাইনের তিন দশমিক ৯৭ শতাংশ, ফ্যামিলি টেক্স বিডির চার দশমিক ০২ শতাংশ, ইউনাইটেড এয়ারওয়েজের চার দশমিক ১৬ শতাংশ, ফু-ওয়াং সিরামিকসের পাঁচ দশমিক ৩৩ শতাংশ, ফু-ওয়াং ফুডসের পাঁচ দশমিক ৩৬ শতাংশ, আইএফআইসি ব্যাংকের ৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, অগ্নি সিস্টেমসের ৯ দশমিক ৩৯ শতাংশ, সুহূদ ইন্ডাস্ট্রিজের ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ, একটিভ ফাইনের ১২ দশমিক ০৪ শতাংশ, বেক্সিমকো ফার্মার ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ, ফাস ফাইন্যান্সের ১৩ দশমিক ২০ শতাংশ, জেনারেশন নেক্সটের ১৩ দশমিক ৮২ শতাংশ, বিজিআইসির ১৪ দশমিক ৮৯ শতাংশ, নর্দার্ন জুটের ১৫ দশমিক ২৭ শতাংশ, আল-হাজ্ব টেক্সটাইলের ১৬ দশমিক ৮১ শতাংশ, মিথুন নিটিংয়ের ১৭ দশমিক ২০ শতাংশ, ইস্টার্ন কেবলসের ১৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ, পিপলস ইন্স্যুরেন্সের ১৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ, ডেল্টা স্পিনার্সের ১৮ শতাংশ, ডেল্টা লাইফের ১৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, অ্যাপেক্স ট্যানারির ১৯ দশমিক ৪২ শতাংশ, বেক্সিমকোর ২০ দশমিক ১৫ শতাংশ, অ্যাপেলো ইস্পাতের ২০ দশমিক ২৪ শতাংশ, অলিম্পিক অ্যাক্সেসরিজের ২০ দশমিক ৬৮ শতাংশ, উত্তরা ব্যাংকের ২০ দশমিক ৮৮ শতাংশ, দুলামিয়া কটনের ২১ দশমিক ০৪ শতাংশ, ইনফরমেশন সার্ভিসেস নেটওয়ার্কের ২১ দশমিক ৬২ শতাংশ, স্যালভো কেমিক্যাল ও সিঅ্যান্ডএ টেক্সটাইলের ২১ দশমিক ১৪ শতাংশ ও বিডিকম অনলাইনের ২৩ শতাংশ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএসইর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, চিহ্নিত এসব কোম্পানিকে চিঠি দিয়ে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তথ্য জানাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও অনেকেই তথ্য দেয়নি। তথ্য দিতে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় বাড়ানো হয়নি, তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিরও সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী কার্যদিবসে (বুধবার) এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, ন্যূনতম শেয়ার ধারণে ব্যর্থ কোম্পানির পরিচালকরা গত জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহে বিএসইসির প্রজ্ঞাপন পরিপালনে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় চেয়ে চিঠি দেয়। প্রজ্ঞাপনটি পরিপালনে কোম্পানির পরিচালকদের সময়ের প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, কোম্পানির পরিচালকরা যদি ন্যূনতম শেয়ার ধারণ না করেন, তাহলে তাদের কোম্পানির প্রতি তো ভালোবাসা বা আগ্রহ থাকবে না। আর আইন অনুযায়ী যেটা আছে সেটা রাখতেই হবে। অনেক আগে থেকেই তো এই বাধ্যবাধকতা আছে। ফলে নতুন করে তাদের আর সময় দেয়ার কিছু নেই।

বিএসইসির জারি করা প্রজ্ঞাপনে ব্যর্থ উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের ওপর আরোপ করা শর্তের মধ্যে ছিল- স্বতন্ত্র পরিচালক বাদে সব উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের সম্মিলিতভাবে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের ৩০ শতাংশ শেয়ার ধারণ করতে হবে। না করলে কোম্পানির উদ্যোক্তা ও পরিচালকরা কোনো রকম শেয়ার বিক্রি, স্থানান্তর ও হস্তান্তর করতে পারবে না।

এছাড়া ব্যর্থ কোম্পানি রাইট অফার, আরপিও, বোনাস শেয়ার প্রদান ও কোনো প্রকার মূলধন উত্তোলন করতে পারবে না। পাশাপাশি উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ ওই কোম্পানিগুলোকে নিয়ে একটি আলাদা ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করবে।

আর যদি কোনো উদ্যোক্তা পরিচালক এককভাবে দুই শতাংশ শেয়ার ধারণে ব্যর্থ হয়, তবে কোম্পানির পরিচালকের ওই পদটি শূন্য হয়ে যাবে। এ ব্যর্থতার কারণে যে শূন্য পদের সৃষ্টি হবে, তা দুই শতাংশ শেয়ার ধারণ করে- এমন শেয়ারহোল্ডারের মধ্য থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূরণ করতে হবে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত