শেয়ারবাজারে আবারো বড় ধাক্কা

নিশ্চুপ অসহায় বিনিয়োগকারীরা
প্রিন্ট সংস্করণ॥সঞ্জয় অধিকারী  |  ০১:৩৪, সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৯

চলতি সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস গতকাল বুধবার দেশের শেয়ারবাজারে আবারো বড় ধাক্কা লেগেছে। সবগুলো সূচক কমার পাশাপাশি বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিটের ব্যাপক দরপতন হয়েছে।

এদিন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ৭৬ পয়েন্ট কমে পৌনে তিন বছর আগের অবস্থানে নেমে গেছে। ডিএসইর পাশাপাশি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সব সূচকও কমেছে।

একই সঙ্গে কমেছে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর। তবে এদিন সিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন কমলেও ডিএসইতে লেনদেন বেড়েছে।

ডিএসই সূত্রে জানা গেছে, গতকাল ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৬ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৯৩৩ পয়েন্টে। যা দুই বছর আট মাস ২০ দিন বা ৬৬৭ কার্যদিবসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে গেছে।

এর আগে ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর ডিএসইএক্স সূচক গতকালের চেয়ে নিচে অবস্থান করছিল।

ওই দিন ডিএসইএক্স সূচক ছিলো চার হাজার ৯২৪ পয়েন্টে। গতকাল ডিএসইর অপর দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১৪ পয়েন্ট ও ডিএসই-৩০ সূচক ২২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে এক হাজার ১৫৫ পয়েন্ট ও এক হাজার ৭৩৬ পয়েন্টে।

এর আগে একটানা ছয় দিন দরপতনের পর গত ৪ সেপ্টেম্বর ডিএসইএক্স পাঁচ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যায়। তখন দরপতন ঠেকাতে সূচক টেনে তোলা হয়েছিল। এর পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর ও চলতি সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গত রোববার সূচক কিছুটা বাড়ে।

তবে গত সোমবার থেকে আবার সূচক কমতে থাকে। যা গতকাল বড় ধরনের পতনে রূপ নেয়। তবে গতকাল সূচকের ধস নামলেও আগের মতো বিনিয়োগকারীদের

রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিনিয়োগকারী দৈনিক আমার সংবাদকে বলেন, শেয়ারবাজারে বর্তমানে একাধিক শক্তিশালী চক্র কারসাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

তাদের অসীম ক্ষমতার উৎস অনেকেই জানে। এমনকি কর্তৃপক্ষও জানে। তারপরও তাদের কিছু করতে পারছে না।

সাধারণ বিনিয়োগকারীরা বলছেন, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। সেটারও প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে তারা আবারো পুঁজিবাজারে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা জানান, এর আগে বাজার খারাপ অবস্থায় গেলে বিনিয়োগকারীরা বিক্ষোভ-সমাবেশ করেছে।

কিন্তু সম্প্রতি ডিএসই বিনিয়োগকারীদের বিরুদ্ধে থানায় জিডি করায় তারা আতঙ্কিত। ফলে এখন জোর করে ভয় দেখিয়ে তাদের মুখও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন-বিএসইসির সাবেক চেয়ারম্যান ফারুক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ডিএসইর সূচক পাঁচ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে গেলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করে।

গত কয়েক বছর যাবত এটা একটা মনস্তাত্ত্বিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সূচকের ওঠা-নামা পুঁজিবাজারের স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু তারও একটা মাত্রা থাকতে হবে। বিশেষ করে আমাদের শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীরা অনেকেই সহজে অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়।

এ বিষয়ে তাদেরও সচেতন হতে হবে। আর এ ধরনের পতনের পেছনে কোনো কারসাজিকারী চক্র আছে কি না, সেটা বিএসইসিকে খতিয়ে দেখতে হবে। বাজারে বর্তমানে যে আস্থার সঙ্কট তৈরি হয়েছে, সেটা দূর করতে হবে সবার আগে।

ডিএসইতে কাল ৫০২ কোটি ৪২ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। যা আগের দিনের চেয়ে ৯৫ কোটি ৩৯ লাখ টাকা বেশি। আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪০৭ কোটি তিন লাখ টাকার। এদিন ডিএসইতে ৩৫৩টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৩৭টির বা ১০ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে। দর কমেছে ২৮৮টির বা ৮২ শতাংশের এবং ২৮টি বা আট শতাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

অপর শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই এদিন ২৩৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৯৯৩ পয়েন্টে।

এদিন সিএসইতে হাতবদল হওয়া ২৬১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ৩৬টির, কমেছে ২০৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১৭টির। সিএসইতে কাল ১৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।