শিরোনাম

টানাপড়েনে অস্থির শেয়ারবাজার

প্রিন্ট সংস্করণ॥সঞ্জয় অধিকারী  |  ০০:৩৯, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯

দিনের পর দিন পতনের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। এতে একদিকে যেমন কমছে সূচক, সেইসঙ্গে হারাচ্ছে বাজার মূলধনও। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে স্টক এক্সচেঞ্জ ও সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের মতবিরোধের খবর বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে। যার প্রভাব পড়ছে দৈনন্দিন লেনদেনেও। এরইমধ্যে ডিএসইর প্রধান সূচক ৫ হাজার পয়েন্টের নিচে নেমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা গেছে, গত সপ্তাহে শেয়ারবাজারে ৪ কার্যদিবস লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ২ কার্যদিবস সূচক বেড়েছে আর বাকি ২ কার্যদিবস কমেছে। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচক বাড়ার চেয়ে কমেছে বেশি। সূচকের সঙ্গে ডিএসইতে টাকার পরিমাণে লেনদেন এবং বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দরও কমেছে। ডিএসইতে সপ্তাহজুড়ে ২৮৭ কোটি টাকা লেনদেন কম হয়েছে। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে সব সূচক কমেছে। বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৭৯ পয়েন্ট বা ১.৫৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৯৩৩ পয়েন্টে।

অপর সূচকগুলোর মধ্যে শরিয়াহ সূচক ১০ পয়েন্ট বা ০.৮৮ শতাংশ এবং ডিএসই-৩০ সূচক ২১ পয়েন্ট বা ১.২০ কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১ হাজার ১৫৬ পয়েন্ট এবং ১ হাজার ৭৩৭ পয়েন্টে। এ সময় ডিএসইতে ৩৫৫টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে মাত্র ৬৬টির বা ১৮ শতাংশের, কমেছে ২৭৬টির বা ৭৮ শতাংশের এবং ১৩টির বা ৪ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

গত তিন সপ্তাহ ধরে একটানা পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের শেয়ারবাজার। ফলে প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা বাজার মূলধন হারিয়েছে ডিএসই। গত সপ্তাহে ডিএসইতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার ওপর বাজার মূলধন কমেছে। গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা, যা তার আগের সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ছিল ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমেছে ৫ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। এর আগের সপ্তাহে ডিএসইর বাজার মূলধন কমে ৬ হাজার ৩০৩ কোটি টাকা এবং তার আগের সপ্তাহে কমে ৭ হাজার ৫৯৫ কোটি টাকা।

এদিকে, পতনের ধারা অব্যাহত থাকায় ডিএসইতে মূল্য আয় অনুপাতও কমছেই। গত সপ্তাহের চার কার্যদিবসে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত (পিই রেশিও) কমেছে। এ নিয়ে টানা তিন সপ্তাহ ডিএসইর মূল্য আয় অনুপাত কমলো। গত সপ্তাহের শুরুতে ডিএসইর পিই ছিল ১৩ দশমিক ৩৩ পয়েন্টে, যা সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসের লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক শূন্য ৪ পয়েন্টে। অর্থাৎ এক সপ্তাহে ডিএসইর সার্বিক মূল্য আয় অনুপাত কমেছে দশমিক ২৯ পয়েন্ট বা ২ দশমিক ১৮ শতাংশ।

পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে বেশকিছুদিন ধরেই স্টক এক্সচেঞ্জের সম্পর্কের অবনতি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। সরকারের ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গেও বিএসইসি চেয়ারম্যানের মনোমালিন্যের কথা বাজারে ছড়িয়েছে। এ সবকিছুর প্রভাব বাজারে পড়ছে বলে মনে করছেন বিনিয়োগকারীরা। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সঙ্গে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব নেই বলে জানিয়েছে ডিএসই।

গত বৃহস্পতিবার ডিএসইর প্রকাশনা ও জনসংযোগ বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. শফিকুর রহমানের নামে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বেশকিছু পত্র-পত্রিকায় ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের সঙ্গে বাজার সংশ্লিষ্টদের দ্বন্দ্বসংক্রান্ত বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশিত হচ্ছে। এসব প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্য সঠিক নয়।
শেয়ারবাজারের চলমান মন্দাবস্থা নিয়ে সরকারও স্বস্তিতে নেই বলে জানা গেছে।

এ সংকটের কারণ অনুসন্ধানে আগামীকাল সোমবার স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। বৈঠকে বিএসইসি, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) প্রতিনিধিরা থাকবেন। ওই বৈঠক থেকে শেয়ারবাজারের মন্দাবস্থার কারণ উদ্ঘাটন ও সমাধানের উপায় খোঁজা হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ড. মো. হেলাল বলেন, বর্তমানে শেয়ারবাজারের যে অবস্থা, তাতে করে বিনিয়োগকারীদের হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক। বাজারের সবগুলো সূচকই নিম্নমুখী এবং সেটা টানা চলছেই। শেয়ারবাজারে স্বাভাবিক পতন হলে সেটার সংশোধনও হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সেটার খুব একটা দেখা মিলছে না। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে। যদি বাজার সংশ্লিষ্টদের মধ্যে সত্যিই কোনো ধরনের টানাপড়েন থেকে থাকে, তবে সরকারের উচিৎ হবে যত দ্রুত সম্ভব সেটা সমাধান করা। না হলে এর পরিণতি আরও খারাপ হতে পারে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ


সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত