বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

ধামইরহাট (নওগাঁ) প্রতিনিধি

মার্চ ১৬,২০২০, ০৫:০৩

মার্চ ১৬,২০২০, ০৫:০৩

ধামইরহাটে গাছে গাছে দুলছে আমের মুকুল

নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার প্রতিটি বাড়ির আশে পাশের গাছে গাছে দুলছে সোনালী রঙের আমের মুকুল। শীত কে বিদায় জানিয়ে বসন্তের আগমনে গাছে গাছে এমন হলদে বাহারি সৌন্দর্য যেন এক প্রকৃতির নিদারুন লীলাভুমি। হলদে মনকাড়া রঙের মুকুল সাথে মৃদু ঘ্রাণ যেন এক মনমুগ্ধকর পরিবেশ। এর মধ্যে মৌমাছিরাও দুরন্ত দল নিয়ে ছুটছে গুনগুন শব্দে। পাখিরাও মনের আনন্দে বসেছে মুকুলের সৌন্দর্যে।

সরে জমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার প্রতিটি এলাকার বাড়ির আঙ্গিনা ও খলিয়ানে আমের গাছগুলোতে এক বাহারি সৌন্দর্য বিরাজ করছে। পাশাপাশি আমের বাগানগুলো তে রয়েছে ভারি সৌন্দর্যে ভরা সোনালী রঙের আমের মুকুল। এসব মুকুলের সাথে সাথে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। আর এই স্বপ্নকে বুকে নিয়ে গাছ ও বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন আম চাষিরা।

তবে কয়েকদিন হঠাৎ আবহাওয়া পরিবর্তন হওয়ায় বেশ শঙ্কায় ছিলেন বাগান মালিকরা। সামনে বৈশাখ ও আষাঢ় মাসের ঝড়-বৃষ্ঠি নিয়ে ও রয়েছে বাগান মালিকদের মধ্যে বড় এক শঙ্কা। কোন বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ এর কারনে ক্ষতিগ্রস্থ্য না হলে এবছরে আম থেকে বড় ধরনের লাহবান হতে পারবেন আম চাষিরা এক প্রশ্নের জবাবে তারা এ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এবিষয়ে কয়েকজন আম চাষিদের সাথে কথা হলে তারা জানান, আমরা আরো এক মাস পুর্বে বাগান মালিকদের থেকে কিছু অগ্রিম বাগান এই মৌসুমের জন্য মোটা টাকা দিয়ে লিজ নিয়েছি। বর্তমানে আমের মুকুল ও রয়েছে খুব ভালো তবে কোন রোগ বালায় আক্রমন না করলে এবং প্রাকৃতিক কোন সমস্যা না আসলে আশা করা যায় এবছরে ভালো লাহবান হতে পারবো ইনশাল্লাহ।

উপজেলার রুপনারায়নপুর গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম ও জাহানপুর এলাকার আশরাফ উদ্দিন জানান, আমাদের বাড়ির আঙ্গিনা ও খলিয়ানে প্রায় ১০টির ও বেশি আম গাছ রয়েছে। কোন রকম পরিচর্যা ছাড়া এসব আম গাছে ব্যাপক আকারে মুকুল এসেছে। এত মুকুল বিগত বছরে কখনো লক্ষ করা যায় নি। তবে এবছরে এত সুন্দর মুকুলের সৌন্দর্য দেখে আমরা গাছের পরিচর্যা করতে শুরু করেছি। আশা করা যাচ্ছে এবছরে ভালো ফলন আম গাছ থেকে পাওয়া যাবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সেলিম রেজা জানান, চলতি বছরে উপজেলায় মোট ৬২০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। আমের মুকুল আসার আগে থেকেই গাছের পরিচর্যা করতে হয় পরিচর্যার অভাবে মুকুল ঝরে গিয়ে আমের ফলন ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে। আর গাছে ফুল আসার ১৫ থেকে ২০ দিন আগে থেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে সেঁচ দিতে হবে। আমের ফলন ভালো পেতে হলে সঠিক সময়ে কিটনাশক ও পরিচর্যার কোন বিকল্প নেয় বলে নিশ্চিত করেন। আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে গত বছরের তুলনায় এবার ফলন বৃদ্ধি হতে পারে।

আমারসংবাদ/এমআর