শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

১১ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

ফেব্রুয়ারি ২২,২০২০, ০৩:১০

ফেব্রুয়ারি ২২,২০২০, ০৩:১০

স্ত্রীকে লুকিয়ে রেখে মামলা, হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজের স্ত্রীকে অনত্র লুকিয়ে রেখে অপহরণের নাটক সাজিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মো. মজিবুর রহমান মল্লিক।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মির্জাগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে মো. মজিবুর রহমান মল্লিক বলেন, মির্জাগঞ্জ ইয়ার উদ্দিন খলিফা (রঃ) মাজারের প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন আমার নিজস্ব মালিকানাধীন জমিতে আঠারো কক্ষ বিশিষ্ট একটি মামুন মার্কেট রয়েছে। উক্ত মার্কেটের পাঁচ নম্বর দোকান ঘর কক্ষটি তিন বছরের ভাড়ার জন্য ষাট হাজার টাকা অগ্রিম নিয়ে জব্বার খানের স্ত্রী বিউটি বেগমের সাথে চুক্তিনামা সম্পাদন করা হয়। কিন্তু চুক্তিনামা সম্পাদনের তিন মাস পরে ভাড়াটিয়া বিউটি বেগম ও তার স্বামী জব্বার খান ঐ মার্কেটের এক নম্বর দোকান ঘরটি দাবি করে।

চুক্তিনামা লঙ্ঘন করে এক নম্বর দোকান ঘরটি দিতে অস্বীকৃতি জানালে একটি সাদা কাগজে আমার স্ত্রী মিনারা বেগমের স্বাক্ষর জাল করে মির্জাগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি মিথ্যা মামলা (মামলা নং-সি আর-১৮৭/২০১৯) দায়ের করে এবং আমাদের বিরুদ্ধে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মির্জাগঞ্জ থানায় একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় ভাড়াটিয়া মো.জব্বার খান তার স্ত্রী বিউটি বেগমকে অন্যত্র লুকিয়ে রেখে অপহরণের অভিযোগ এনে গত ৮ জানুয়ারি আমি,আমার স্ত্রী মিনারা বেগম, ছেলে মামুন মল্লিক ও শ্যালক রফিক মাঝিকে আসামি করে মির্জাগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং সিআর-১৩/২০২০। মামলাটি পটুয়াখালীর পিবিআইতে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) হস্তান্তর করা হয়।

১মাস ৭দিন অনুসন্ধানের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার সন্ধ্যায় ঢাকার সাভারের একটি রোগ নির্ণয় কেন্দ্র থেকে কথিত অপহৃত বিউটি বেগমকে উদ্ধার করে পুলিশ।

লিখিত বক্তব্যে মজিবুর মল্লিক আরো বলেন, জব্বার খানের স্ত্রীকে পুলিশ উদ্ধার করার পর সে (জব্বার খান) ও অপহরণ মামলার স্বাক্ষীরা আমাদেরকে আরও মিথ্যা মামলা দায়ের করাসহ বিভিন্নভাবে হুমকি প্রদান করে আসছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আমি ও আমার পরিবারের নিরাপত্তা জন্য আমার ছেলে মামুন মল্লিক বাদী হয়ে গত বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) মির্জাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছেন।

পটুয়াখালী পিবিআই এর উপ-পরিদর্শক মো. রউফ বলেন, গোপন সংবাদ পেয়ে আমরা সাভার থানা পুলিশের সহায়তায় শুক্রবার সন্ধ্যায় সাভারের পপুলার হসপিটাল এন্ড ডায়গনোস্টিক সেন্টার নামে একটি রোগ নির্ণয় কেন্দ্র থেকে বিউটি বেগম ও তার ছেলে আল-আমিন খানকে উদ্ধার করা হয়।

এ সময় বিউটি বেগম অসুস্থতা বোধ করলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে বিউটি বেগমকে সাভার ল্যাব জোন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। বিউটি বেগম তার ছেলের জিম্মায় সাভার ল্যাব জোন ক্লিনিকের ২০৫ নং কেবিনে চিকিৎসাধীন আছেন। প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে অপহরণের মামলা হয়ে থাকতে পারে। তবে বিউটি বেগমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।

বিউটি বেগমের ছেলে আল-আমিন খানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমার মাকে অপহরণ করা হয়নি। তিনি অসুস্থ, চিকিৎসার জন্য তিনি ঢাকায় আমার কাছে এসেছেন। আমার বাবা জব্বার খান স্থানীয় মজিবুর মল্লিককে ফাঁসাতে অপহরণের মিথ্যা মামলা দিতেও পারেন।

এ ব্যাপারে কথা বলতে মো. জব্বার খাঁনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করে কোন মন্তব্য না করেই ফোনের সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। পরবর্তীতে একাধিকবার তার মোবাইলে কল করা হলে মোবাইলটি বন্ধ পাওয়া যায়।

আমারসংবাদ/কেএস