বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

৯ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২২,২০২০, ০৫:৪৫

ফেব্রুয়ারি ২২,২০২০, ০৫:৪৫

একুশের ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি

 

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ব্যানারে ভাষাশহীদদের পরিবর্তে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে খেতাপপ্রাপ্ত সাতজন বীর শ্রেষ্ঠর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। এ নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক সমালোচনা। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এমন কয়েকটি ব্যানারের ছবি ভাইরাল হয়েছে।

শুক্রবার ২১শে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) রমনা এলাকায় ব্যানার টাঙিয়েছিল। ব্যানারটিতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের শহিদদের পরিবর্তে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে শহিদ সাত বীরশ্রেষ্ঠের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও সে ব্যানারটি পরবর্তীতে সরিয়ে নেয়া হয়।

তবে ওই ব্যানারের ছবি এরই মধ্যে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ব্যানার নিয়ে সাধারণ মানুষ পুলিশের দায়িত্বশীলতা এবং দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্মক জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এ বিষয়ে ডিএমপির মুখপাত্র মাসুদুর রহমান জানান, এটি কীভাবে ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ওই ব্যানারটির ওপরে লেখা ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২০।’ তার নিচে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহিদ ৭ বীরশ্রেষ্ঠের ছবি। আর ছবির নিচে লেখা, ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষা শহীদদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।’ তার নিচে ব্লক অক্ষরে লেখা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ব্যানারের ওপরের ডান কোণে মুজিববর্ষের লোগো এবং বাম পাশে ওপরে ও নিচে ডিএমপির দুটি লোগো।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সংগীত বিভাগের একটি ব্যানারেও এমন চিত্র দেখা গেছে। এ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা, ইতিহাসবিদ ও প্রগতিশীল শিক্ষকরা বলছেন, দেশের উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের ভুল অমার্জনীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত। এর মাধ্যমে ভাষা শহীদদের অসম্মান করা হয়েছে।

তবে রাবির সংগীত বিভাগের বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক দীনবন্ধু পাল বলেন, সকল শহীদদের স্মরণ করে এ ধরনের ব্যানার তৈরি করা হয়েছে। এখানে মুজিববর্ষের চেতনাকেও ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সময় স্বল্পতার কারণে সেটি সম্ভব হয়নি। এখানে কাউকে ছোট কিংবা বড় করা হয়নি।

নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক আতাউর রহমান রাজু মনে করেন, ভাষা শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও বীরশ্রেষ্ঠ সবাই আমাদের কাছে সম্মানীয়। কিন্তু সবাই আলাদা আলাদা প্রেক্ষাপটে ও স্বতন্ত্রভাবে সম্মানীয়। সেক্ষেত্রে ভাষা দিবসের ব্যানারে বীরশ্রেষ্ঠদের ছবি অনাকাঙ্ক্ষিত। এতে নতুন প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা যাবে। তারা ভাষাসৈনিক ও বীরশ্রেষ্ঠদের এক করে ফেলতে পারে।

এদিকে জামালপুরের শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব হেল্থ টেকনোলজির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের ব্যানারেও ভাষাশহীদদের পরিবর্তে স্বাধীনতাযুদ্ধে খেতাপপ্রাপ্ত সাতজন বীর শ্রেষ্ঠর ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাতে একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টার দিকে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইসলামপুর শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব হেল্থ টেকনোলজির ব্যানারেও প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ইসলামপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে যায় ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে। এতে অংশ নেয় ওই প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও শতাধিক শিক্ষার্থী। তাদের ব্যানারে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের লেখাগুলো ঠিক থাকলেও বাম পাশে মুক্তিযুদ্ধের সাতজন বীর শ্রেষ্ঠ’র ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই বীর শ্রেষ্ঠদের ছবিসম্বলিত ওই ব্যানারটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। রাতে ওই ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ডা. আবুল বাশার মো. আসাদুজ্জামান বিস্ময় প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, আমি শুনেছি যে আমার প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে ভাষা শহীদদের পরিবর্তে মুক্তিযুদ্ধের বীর শ্রেষ্ঠদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে। অসুস্থতার কারণে আমি কাল শহীদ মিনারে ফুল দিতে যেতে পারিনি। আমি এখনও দেখিনি ব্যানারটি। দিবসটি পালনের জন্য চারজন শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তারা হয়তো এই ভুলটা করেছে। তারা কাজটি ঠিক করেনি। আমি এ ব্যাপারে জরুরি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

আমারসংবাদ/জেআই