শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০

১১ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

ফেব্রুয়ারি ২২,২০২০, ০৫:৪৫

ফেব্রুয়ারি ২২,২০২০, ০৫:৪৭

জিম্মি হয়ে গেছে ব্যাংক খাত, পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন: সিপিডি

 

গুটি কয়েক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে জিম্মি হয়ে গেছে ব্যাংক খাত। এর ফলে পুরো অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অর্থনীতির বাঁক ফেরাতে হলে ব্যাংক খাত পুনর্গঠন ও পুনর্বিন্যাস প্রয়োজন।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর মহাখালী ব্র্যাক ইনের দ্বিতীয় তলায় এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম ও জ্যেষ্ঠ গবেষণা ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন উপস্থিত ছিলেন।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাত নিয়ে আমরা অসহায় হয়ে পড়েছি। একটা আতঙ্ক, ভয়ংকর, ভঙ্গুর পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছি। মানুষের ব্যাংকে টাকা রাখার পরিমাণ কমে যাচ্ছে। সুদহার নিয়েও সমস্যা হচ্ছে।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ব্যাংক কমিশনকে স্বচ্ছ, সম্যক ও তথ্য নির্ভর মাপকাঠিতে ব্যাংক খাতের অবস্থা বিচার করতে হবে। চলমান পদক্ষেপের মূল্যায়ন করতে হবে। স্বল্প ও মধ্য মেয়াদে চলমান, বাস্তবচিত ও টেকসই সমাধান দিতে হবে। এজন্য দ্রুত কমিশন গঠন করতে হবে, যাতে কমিশন আগামী বাজেটের আগে একটি অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন দিতে পারে।

সিপিডি মনে করে, লোক দেখানো কমিশন গঠন করে লাভ হবে না। প্রস্তাবিত কমিশন হতে হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন। স্বাধীনভাবে কাজ করার জন্য পরিবেশ, সুবিধা ও সুযোগ দিতে হবে। অর্থমন্ত্রীর প্রকাশ্য হস্তক্ষেপ ছাড়া সমর্থন থাকতে হবে। পাশাপাশি কমিশন যেসব সুপারিশ করবে সেগুলো বাস্তবায়নে আইনি ভিত্তি দরকার।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অর্থনৈতিক সমস্যা এক সময় রাজনৈতিক অর্থনীতি সমস্যায় উপনীত হয়েছিল। রাজনৈতিক অর্থনীতি সমস্যা এখন রাজনৈতিক সমস্যা হয়ে গেছে। সুতরাং এখানে রাজনৈতিক সমর্থন বাদ দিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষমতা প্রয়োগ করার সুযোগ যে সীমিত তা প্রমাণ পায় নতুন ব্যাংক দেয়ার মাধ্যমে। বাংলাদেশ ব্যাংকের বোর্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে নতুন ব্যাংক হবে না, তারপরও নতুন তিনটি ব্যাংক হয়েছে।

ফাহমিদা খাতুন বলেন, এমন মানুষকে ওই কমিশনে আনতে হবে, যাদের দক্ষতা, যোগ্যতা, বিচক্ষণতা ও সততা থাকবে। তারা যাতে নির্মোহভাবে কাজ করতে পারেন, সেই নিশ্চয়তা দিতে হবে। তাদের রাজনৈতিক সমর্থন দিতে হবে এবং স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। তারা যে সুপারিশ করবেন, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক উদ্যোগ থাকতে হবে।

আমারসংবাদ/এমএআই