শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

৯ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

আবদুল্লাহ আল মামুন, নারায়ণগঞ্জ

ফেব্রুয়ারি ২২,২০২০, ০৬:৪৯

ফেব্রুয়ারি ২২,২০২০, ০৬:৫২

নারায়ণগঞ্জ আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে

৭ দিনের পাসপোর্ট মিলছে না ৯০ দিনেও

নারায়ণগঞ্জের জালকুড়ি এলাকায় অবস্থিত জেলার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে নানা ভোগান্তির পরেও ইমারজেন্সি পাসপোর্ট মিলছেনা সঠিক সময়ে। জরুরী ক্ষেত্রে ৭ দিনের মধ্যে পাসপোর্ট গ্রাহকের হাতে পৌছানোর কথা থাকলেও তা পুলিশ ভেরিফিকশেনেই যাচ্ছে ২৬ থেকে ৩০ দিন। এমন ভোগান্তি এখন আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসটির নিয়মিত চিত্র।

জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বন্দর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা কবির হোসেন গত ২৩ জানুয়ারি জেলার জালকুড়ি এলাকায় অবস্থিত পাসপোর্ট অফিসে ইমারজেন্সি পাসপোর্টের জন্য নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আবেদন করে। আবেদনের পর পাসপোর্ট ডেলিভারি স্লিপে পাসপোর্টটির ডেলিভারি করার সম্ভাব্য তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ উল্ল্যেখ থাকে। তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশ ভেরিফিকেশনেই পৌঁছায়নি নির্ধারিত কাগজটি।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান বলেন, এটি আমাদের ভুল ছিলো।

এছাড়াও পাসপোর্ট অফিস এলাকায় দালাল চক্রের সংঘবদ্ধ দল সক্রিয় রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একাধিক গ্রাহক নানা অভিযোগ নিয়ে সহকারী পরিচালকের দরজায় ভীর করেছে। সেখানে থাকা ভুক্তোভোগি একাধিক গ্রাহক জানান, তারা দালালদের মাধ্যমে পাসপোর্ট আবেদন করেছেন। দ্রুত পাসপোর্ট দেয়ার নাম করে তারা হাতিয়ে নিয়েছে ২ গুণেরও বেশি অর্থ।টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর আর খুঁজে পাওয়া যায়না তাদের।তারা বলেন, ডেলিভারি স্লিপের ফটোকপি গ্রাহকের হাতে দিয়ে পরবর্তীতে মূল স্লিপের জন্য অধিক অর্থ দাবি করে। এরপর পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে দালালদের পেছনে ছুটেন অসহায় গ্রাহকরা।

এসব বিষয়ে সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসান দালাল চক্রের উপস্থিতি অস্বীকার করে বলেন, আমার অফিস দালাল মুক্ত। তবে অফিসের বাইরে দালাল চক্রের সক্রিয়তা সম্পর্কে আমার করনীয় কিছু নেই।

ইমারজেন্সি পাসপোর্ট ডেলিভারি সম্পর্কে তিনি বলেন, এ সমস্যাটি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে।

সাধারণ গ্রাহকেরা বলছেন, জরুরি পাসপোর্ট করতে ব্যাংকে যে টাকা জমা দেয়ার কথা রয়েছে আমরা তাই দিচ্ছি। জরুরি পাসপোর্ট পেতে টাকা দিতে হয় ৬ হাজার ৯ শত টাকা ভ্যাট সহ ৭ হাজার। ডেলিভারি দেয়ার কথা ৭ দিন, কিন্তু সেই পাসপোর্ট ৯০ দিনেও পাওয়া যায় না। এর সমাধান না হলে আরও অনেক বড় ধরনের বিপদে পরতে হবে গ্রাহকদের।

করি হোসেন জানায়, আমার জরুরি পাসপোর্ট’র জন্য টাকা জমা ও সকল কার্যাধি সম্পন্ন করার ১৫ দিনেও ভেরিফিকেশনের কাগজ আসেনি পুলিশের কাছে। এটা খুবই দুঃখ জনক। অথচ আমার বিদেশ যাওয়ার জন্য সবকিছুর প্রস্তুত। এ ক্ষতির সমাধান কি।

আমারসংবাদ/এমআর