সোমবার ০১ জুন ২০২০

১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

সামসুল ইসলাম সনেট, কেরানীগঞ্জ

মার্চ ৩১,২০২০, ১১:২৯

মার্চ ৩১,২০২০, ১১:২৯

কেরানীগঞ্জে ত্রাণের ঘ্রাণে গণজমায়েত

করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রশাসনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর তৎপরতা চোখে পড়ার মত, কিন্তু কেউ মানছেন না সামাজিক দূরত্ব। যেখানে করোনা মোকাবিলায় ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে প্রশাসন থেকে সেখানে কেরানীগঞ্জে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের নামে চলছে জনজামায়ায়েত ও ফটো সেশন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফার্মেসি, মুদি দোকান ও কাঁচা বাজার গুলো ছাড়া সকল দোকানপাটগুলো বন্ধ করে দিয়েছে। দোকানগুলোতে গোল বৃত্ত একে দেয়া হচ্ছে পুলিশ, র‍্যাব, সেনাবাহিনীসহ যৌথবাহিনী প্রতিনিয়ত টহল দিচ্ছে লোকসমাগম কমাতে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে সকল প্রকার সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। সেখানে ত্রাণ বিলিতে দেখা মিলে শতশত লোক। কেউ মানছেনা সামাজিক দুরত্ব, ব্যবহার করছেনা মাস্ক, গ্লাফসসহ কোনো সামগ্রী।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে কলাতিয়া, আঁটি বাজার, রোহিতপুর সহ পুরো কেরানীগঞ্জে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যাক্তি উদ্যোগে হতদরিদ্রদের মাঝে চাল, ডাল, আলু, পিয়াজ, তেল, লবন সহ নানা খাদ্য সামগ্রী দেওয়া হচ্ছে। সরকারের অঘোষিত লকডাউন কর্মসূচিতে কেরানীগঞ্জের বসবাসরত নিম্ন আয়ের মানুষেরা আছে চরম ভোগান্তিতে। তাই অনেক পরিবারই ত্রাণ নেয়ার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে ত্রাণকর্তাভ বা সংগঠনগুলোর উপর।

রোহিতপুরে সোনাকান্দা গ্রামে ত্রাণ নিতে আসা এক বৃদ্ধা নারী জানান, গ্রামগঞ্জে এই রোগ নাই! আর আমরা গরিব মানুষ চাল আনতে পারিনা মাস্ক পাবো কই? আমরাদের বলে লাভ কি যারা দিচ্ছে তারাও তো এটা মানছেনা।

কলাতিয়া ইউনিয়নের ত্রাণ কার্যক্রমে গিয়ে দেখা মিলেছে একই চিত্র। তারা বাড়ি বাড়ি ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিলেও পরিষদ চত্বরে দেখা গেছে অনিরাপদ অবস্থায় শত মানুষের সমাগম।

এ ব্যাপারে কলাতিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাহের আলী বলেন, গনজামায়েত পরিহার করার লক্ষে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্যই আমরা নিজেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে ২শ'পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছি।

সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুল হাসান সোহেল বলেন, দেশের এই ক্রান্তিকালে যারা দুস্থদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করছেন তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। আমাদের কাছে খবর আসছে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণের সময় সামাজিক দুরত্ব মানা হচ্ছেনা।

আমরা সবাইকে আগেও বলেছি এবং আবারও বলবো, ত্রাণ-সাহায্য যাতে সকলের বাড়ি পৌঁছে দেয়া হয়। আর এ ব্যাপারে দুই এক দিনের মধ্যেই একটি নীতিমালা করে দেওয়া হবে। যার ভিত্তিতে সকল সরকারি, বেসরকারি ও ব্যাক্তিগত ত্রাণ সামগ্রী গরিব অসহায়দের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

আমারসংবাদ/এমআর