বুধবার ০৮ জুলাই ২০২০

২৪ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি

এপ্রিল ০৮,২০২০, ০১:০১

এপ্রিল ০৮,২০২০, ০৬:২৪

কেরানীগঞ্জে ব্যক্তি উদ্যোগে লকডাউনের নামে তামাশা, দুর্ভোগ চরমে

বিশ্ব মহামারী করোনা ইতোমধ্যেই বাংলাদেশে ঢুকে পড়েছে। ঢুকে পড়েছে ঢাকার কেরানীগঞ্জেও! ৪ ব্যাক্তি করোনা পজেটিভ এবং একাধিক জ্বর কাশি রুগীর মৃত্যু কেরানীগঞ্জ বাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে। পুরো জিঞ্জিরা ইউনিয়ন এবং শুভাঢ্যার হিজলতলীকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছে। কাজ করছে অনেক সেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যাক্তিবর্গও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ব্যক্তি উদ্যোগে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ এবং লোকাল রাস্তাগুলো বাঁশ, গাছের ঘুরি, পাইপ ইত্যাদি দিয়ে বন্ধ /লকডাউন করে দেওয়া হয়েছে। তবে এতে মানা হচ্ছে না কোন নিয়মনীতি। দেখা গেছে হযরতপুর, কলাতিয়া, রুহিতপুর, তারানগর, বাস্তা সহ বহু যায়গায় মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে কাজ করছে সেচ্ছাসেবীরা।

নিজেরাই প্রশাসনের দায়িত্ব কাধে তুলে নিয়েছেন! পালন করছেন গুরু দায়িত্ব। রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল করতে দিচ্ছে না। মানুষ চলাচলেও দিচ্ছে বাধা। সকালে হাসপাতাল, বাজার, ব্যাংকে যাওয়া লোক গুলো ঘরে ফিরতে পারছে না সকাল ১০ টায়ও। অনেক সময় অবতীর্ণ হচ্ছেন মারমুখী ভূমিকায়। কিছু জায়গায় এমন ভাবে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যে জরুরি প্রয়োজনেও বেড় হওয়া যাবেনা। যদিও পাশেই চলছে আড্ডা, খেলাধুলা, সহ নানা আয়োজন।

রুহিতপুরে এক জনপ্রতিনিধির স্বজন বলেন, আমি আমার স্ত্রী কে হাসপাতালে নিয়ে আসতে সক্ষম হলেও অনেকে তা পারছেনা। লকডাউনে কোন নিয়মনীতি মানা হচ্ছে না।

সেচ্ছাসেবীদেরও দেখা গেছে অনিরাপদ দূরত্বে কাজ করছে। হাতে গ্লাভস, মুখে মাস্ক, চোখে চশমা, কিছুই নেই নিজেদের। তবে ভিন্ন ছবিও চোখে পড়েছে কিছু স্থানে।

মুগারচরের যুবক স্কুল শিক্ষক শিহান মাহমুদ সেন্টু জানান, এলাকায় বাহিরের কোন লোক যেন না আসতে পারে এবং স্থানীয়রাও যাতে অযথা এদিক সেদিক ঘুরা ফেরা করতে না পারে এই জন্য এলাকার ময়মুরুব্বি নিয়ে বাঁশ দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে চলাচল সীমিত করেছি।

প্রশাসনের অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে বলেন, প্রশাসন অনেক কাজ করছে, আমাদের নিজেদের রক্ষায় নিজেদেরও কিছু করার চেষ্টা করছি। প্রশাসনে কোন অনুমতি নেইনি।

তারানগরেও ব্যক্তি উদ্যোগে লক ডাউন করতে দেখা গেছে।করোনা (Covid-19) ভাইরাসের বিস্তার রোধ এবং সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত করণে কাঠালতলী এলাকায় অঘোষিত লকডাউন এর কার্যক্রমে বহিরাগতদের প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবার থেকে একজন বের হয়ে কাজ শেষ করে দ্রুত চলে আসতে বলা হয়েছে। বাহিরে বের হলে মাস্ক, গ্লাভস পড়তে বলা হলেও অধিকাংশ সেচ্ছাসেবী তা মানেনি।

এ ব্যাপারে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ বলেন, ব্যক্তি উদ্যোগে লক ডাউনের সুযোগ নেই। তবে কেউ যদি নিজ এলাকায় জনসাধারণের অবাধ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ করতে চায় এটা বাধা দিতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে কোন মতেই জুন দূর্ভোগ সৃষ্টি না হয়। আর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চাইলে উপজেলা প্রশাসন শুধু মাত্র লকডাউন করতে পারে। ব্যক্তি উদ্যোগে লকডাউনের সুযোগ নেই।

আমারসংবাদ/কেএস