বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০

১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

এপ্রিল ০৯,২০২০, ১২:৩২

এপ্রিল ০৯,২০২০, ১২:৩২

আজ শবে বরাত

করোনা থেকে বাঁচতে স্রষ্টার কাছে তওবা করুন: আল্লামা শফী

আজ ‘লাইলাতুল বরাত’ বা ‘শবে বরাত’, অর্থাৎ সৌভাগ্যের রজনী। আজকের রাতটি মুসলিম মিল্লাতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। এ মর্যাদাপূর্ণ রাতে মহান আল্লাহ তা'আলা বান্দাদের জন্য তার অশেষ রহমতের দরজা খুলে দেন।

মহিমান্বিত এ রাতে সারা বিশ্বের ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পরম করুণাময়ের অনুগ্রহ লাভের আশায় বেশি বেশি নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকিরে মগ্ন থাকবেন।

আজকের শবেবরাতের নামাজ একাকী আদায়ের আহ্বান জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমীর ও হাটাহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী।

তিনি বলেছেন, শবে বরাতে একাকী ইবাদত করা রাসূল সা. এর সহিহ হাদিস ও আছারে সাহাবা (সাহাবীদের আমল) থেকে প্রমাণিত। তাই ঘরে বসে বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত করুন।

নিজেদের করা গুনাহ মাফের জন্য স্রষ্টার কাছে তওবা করুন। মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে কায়মনোবাক্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন। জিকির করুন। দান-সদকা করুন। কবর জেয়ারত করুন। পরিবার পরিজনকে দীনি কাজে বেশি বেশি সম্পৃক্ত করুন।

শবেবরাতকে কেন্দ্র করে সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার সম্পর্কে সতর্ক করেছেন আল্লামা শফী।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাত সোয়া ৮টায় গণমাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ আনাস মাদানির পাঠানো এক বিবৃতিতে এসব কথা বলেন আল্লামা শফী।

তিনি বলেন, শবে বরাতকে কেন্দ্র করে আমাদের দেশে বেশ কিছু রসম ও কুসংস্কার চালু রয়েছে।

অনেকে হালুয়া রুটির ব্যবস্থা ও মসজিদ আলোকসজ্জা করে থাকেন। নির্দিষ্ট পরিমাণ রাকাতে জামাত সহকারে নামাজ পড়ে থাকেন। এ সব বিদআত কাজ। তাই বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়িতে না গিয়ে নিজ নিজ ঘরে একাকী ইবাদতের মাধ্যমে শবে বরাত পালন করা উচিত।

ঘরে নামাজ পড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের ক্ষতি থেকে বাঁচতে বর্তমানে দেশের অনেক জেলা-উপজেলায় লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এমনকি মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের জামাতে সীমিত উপস্থিতির পরামর্শ দিয়েছেন দেশের শীর্ষ আলেম সমাজ।

এমতাবস্থায় একাকীভাবে শবে বরাতের যাবতীয় আমল ঘরে করা উচিত। আর সুন্নাহর তাকাজাও এটাই। হাদিস শরিফে যা ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ শব্দে এসেছে।

মহিমান্বিত রজনি হিসেবে মুসলিম সমাজে শবে বরাতের গুরুত্ব অনেক। এ রাতে মানুষ ইবাদত বন্দেগীতে সময় পার করে এবং দিনে রোজা রাখে। আল্লাহ তায়ালার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে, কান্নাকাটি করে শবে বরাত পালন করে থাকে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের শবে বরাত একটি বিশেষ সংকটময় সময়ের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ঐতিহ্যগতভাবে এ উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয় মুসলিম সম্প্রদায়।

তারা সাধ্যমতো ভালো খাবার তৈরি করে এবং প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও দরিদ্রদের মধ্যে খাবার বিতরণের মাধ্যমে এর আনন্দটুকু ভাগ করে নেয়। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সেই চিরাচরিত ছবিটা এবার অনেকটাই বদলে দেবে।

আমারসংবাদ/এআই