মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০

১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

ই-পেপার

মো. ওমর ফারুক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

মে ২৩,২০২০, ০২:৩৭

মে ২৩,২০২০, ০২:৩৭

কলাপাড়ায় ৮ গ্রামের সবজি চাষিদের দেড় কোটি টাকার ক্ষতি

সুপার টর্নেডো আম্ফানের তাণ্ডবে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ টি গ্রামের সবজি চাষিদের প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। বুধবার দেশের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্ফান উপকূলবাসীর উপর তার ধ্বংসযজ্ঞ চালায়। এতে প্রায় ৮ শতাধিক ঘড়-বাড়ি বিধ্বস্তসহ কয়েক হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানা যায়।

একইসাথে উপজেলার সবজি চাষিদের উপরেও হানা দিয়েছে সর্বনাশা আম্ফান নামের এ ঘূর্ণিঝড়টি। ক্ষেতের তরতাজা সবজি নষ্ট হওয়ায় চাষিদের এখন মাথায় হাত পরেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা, মজিদপুর, পূর্ব সোনাতলা, এলেমপুর, গামুরতলা, নাওয়াভাঙ্গা, গুডাবাছা ও ফরিদগঞ্জ এ ৮ টি গ্রাম সবজি চাষের জন্য পুরো উপজেলায় খ্যাতি রয়েছে। এখানকার উৎপাদিত সবজি পুরো উপজেলার চাহিদা পূরণ করে পাশ্ববর্তী উপজেলাগুলোর চাহিদাও মিটিয়ে থাকে। প্রতিবছরের মত এবছরও এখানকার চাষিরা প্রায় ৩০০ একর জমিতে সবজি চাষ শুরু করেন।

এখানে করোলা, রেখা, শষা, বরবটি, কাঁচামরিচ, বোম্বে মরিচ, লাউ, জিঙ্গা ও ঢেড়শসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদান করা হয়। যা বিক্রি পর্যায়ে গেলে প্রায় দেড় কোটি টাকার ফলন হতো বলে কৃষকদের নিকট হতে জানা যায়।

কিন্তু হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ের ছোবলে তাদের সমস্ত শ্রম মাটিতে মিশে গেছে। দেখা যায়, লাউ গাছে ফলন্ত লাউসহ গাছগুলো উপুর হয়ে পরেছে। করোলা গাছগুলো বৃষ্টি ও অতিরিক্ত বাতাসের কারনে গোড়াসহ উপরে এলোমেলো হয়ে রয়েছে। কাঁচামরিচ, বোম্বে মরিচ ও বরবটি গাছগুলোর একই অবস্থা দেখা যায়।

কুমিরমারা গ্রামের সবজিচাষী জাকির হোসেন ওরফে লুঙ্গি জাকির বলেন, এ গ্রামের প্রায় ৯৫ জন লোকই কৃষক। বারো মাসই আমরা বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। হঠাৎ ঘূর্ণিঝড়ে আমাদের সব কিছু উল্টা-পাল্টা করে দিয়েছে।

থুবরে পরে থাকা একটি করোলা ক্ষেতের বাগান দেখিয়ে তিনি বলেন, কিছুদিন আগে ধার-কর্জ করে করোলার শেটটি তৈরী করেছি। এখনতো সব শেষ হয়ে গেছে।

চাষি জাকির আরও বলেন, আমরা সরকারের কাছে কোন সাহায্য চাইনা তবে বিনা শর্তে সুদমুক্ত ঋণ ও তার সঠিক তদারকি করা হোক এটাই আমরা চাই। একই গ্রামের আব্দুল হক গাজী, সালাউদ্দিন গাজী ও মাসুদ গাজীসহ একাধিক সবজি চাষি সুদমুক্ত ঋণের বিষয়ে সরকারের সহায়তা কামনা করেন।

এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মান্নান বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে কৃষিতে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তার জন্য সরকার ভর্তুকির ঘোষণা দিয়েছে। তবে আমরা এখন পর্যন্ত কোন দিক-নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে তদন্তসাপেক্ষে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা করা হবে। নিলগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ টি গ্রামের সবজি চাষিদের দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে। তবে, পুরো উপজেলায় প্রায় ২০ হতে ২৫ কোটি টাকার কৃষি পণ্য ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলেও তিনি জানান।

আমারসংবাদ/এমআর