বুধবার ০৮ জুলাই ২০২০

২৪ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি

মে ৩০,২০২০, ১১:১৮

মে ৩০,২০২০, ১১:১৮

১১টি স্প্যান বসলেই দেখা যাবে পুরো পদ্মাসেতু

স্বপ্ন পূরণের দ্বারপ্রান্তে এখন পদ্মাসেতু। দ্রুত এগিয়ে চলছে এর নির্মাণকাজ। গাড়ি ও ট্রেনে চড়ে পদ্মা পাড়ি দেয়ার স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিবে দ্রুতই।

এদিকে শনিবার (৩০ মে) সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে সেতুর ২৬ ও ২৭ নম্বর পিলারের ওপর বসানো হয়েছে ৩০তম স্প্যান। এ নিয়ে সেতুর ৪ হাজার ৫০০মিটার এখন পুরোপুরি দেখা যাচ্ছে।

২৯তম স্প্যান বসানোর ২৬ দিনের মাথায় ৩০তম স্প্যানটি বসানো সম্ভব হয়েছে। আর মাত্র ১১টি স্প্যান বসলেই এতেই দেখা যাবে স্বপ্নের পদ্মাসেতু।

এর আগে শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ধূসর রঙের ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৩ হাজার ১৪০ টন ওজনের স্প্যানটি মাওয়া কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ড থেকে তিন হাজার ৬০০ টন ধারণক্ষমতার ‘তিয়ান ই’ ভাসমান ক্রেন বহন করে রওনা দেয়। নির্ধারিত পিলারের কাছে পৌঁছায় দুপুর ১টার দিকে।

জানা যায়, আগামী বছরের জুনে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ হয়নি পদ্মা সেতুর। কিন্তু গতি কমেছিল। করোনার প্রভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে স্প্যান নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশে না আসায় কাজ বেশি বিলম্ব হচ্ছে।

তবে এ বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে চীন থেকে যে দু’টি স্প্যান দেশে আসার কথা ছিল, সেগুলো এখনও আসেনি।

এদিকে সেতুর কাজের গতিকে সচল রাখতে এবারের ঈদে কোনও শ্রমিক ও প্রকৌশলী ছুটি নেননি। সবাই কর্মস্থলে থেকেছেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এক মাসের বেশি সময় ধরে তারা সেতু প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করছেন, যেখানে তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে আজকের (৩০ মে) মধ্যে ৩০তম স্প্যান বসানোর তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন পদ্মা সেতুর (মূল সেতু) নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান মো. আব্দুল কাদের।

ওইসময় তিনি জানান, ২৬ ও ২৭ নম্বর পিলারের উপর বসানো হবে ৩০তম স্প্যানটি। এরই মধ্যে স্প্যানটি ট্রাসের পেইন্টিং শেষ হয়েছে। বাকি আছে হ্যান্ডরেল, স্টেয়ার, ব্যালেন্স লোড স্থাপনের কাজ, সেটাও পুরোদমে চলছে। সব কিছু ঠিক থাকলে ৩০ মে এই স্প্যান বসানো হবে।

নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের আরও জানান, জুনের মাঝামাঝি ৩১তম স্প্যান বসানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সে প্রস্তুতিও পুরোদমে চলছে।

সেতুর উপরের তলায় রোডওয়ে স্ল্যাব বসবে ২৯১৭টি। নিচতলায় বসবে ২৯৫৯টি। এরইমধ্যে তৈরি হয়ে গেছে ২৭২৭টি রোডওয়ে স্ল্যাব।

আব্দুল কাদের আরো জানান, ৩১তম স্প্যান শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি চ্যানেলের মাঝে ৩০ ও ৩১ নম্বর পিলারের কাছে রয়েছে। এখন এর পেইন্টিং চলছে। এ দুটি স্প্যান বর্ষার আগে বসানো সম্ভব হলে জাজিরা প্রান্তের সব স্প্যান বসানো শেষ হবে।

এরপর মাওয়া প্রান্তের ১০টি স্প্যান বসানো বাকি থাকবে। মাওয়া প্রান্ত মূল নদীতে হওয়ায় চর জাগার আশঙ্কা থাকবে না। আশা করছি পদ্মাসেতুর কাজ দ্রুতই শেষ করা যাবে।

পদ্মা সেতুতে ৪২টি পিলারের ওপর বসবে ৪১টি স্প্যান। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মাসেতুর নির্মাণ কাজ শুরু হয়। মূল সেতু নির্মাণের জন্য কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে দেশটির আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এ বহুমুখী সেতুর মূল আকৃতি হবে দোতলা। কংক্রিট ও স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে এ সেতুর কাঠামো।

আমারসংবাদ/জেডআই