রবিবার ১২ জুলাই ২০২০

২৮ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

জুন ০২,২০২০, ০৯:০১

জুন ০২,২০২০, ০৯:০১

চেনা রূপে রাজধানী

 

দীর্ঘ ৬৬ দিনের সাধারণ ছুটি শেষে সোমবার (১ জুন) চালু হয়েছে দেশের সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো। সেইসাথে চালু হয়েছে গণপরিবহনও। আগের মতোই ঢাকার রাস্তা-ঘাটে মানুষজন নেমেছে। কর্মব্যস্ত হয়ে উঠছে রাজধানী।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর পল্টন, মতিঝিলের মত অফিসপাড়ায় দেখা যায় স্বাভাবিক সময়ের মতন ভিড়। ফুটপাতে মানুষের সাথে মানুষের গা লাখিয়ে চলতে দেখা যায়। শাপলা চত্ত্বর থেকে সিটি সেন্টার পর্যন্ত এলাকায় কোনো রকম স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেউ চলতে পারেনি। পল্টনের ফকিরাপুলের দিকেও ছিলো একইরকম ভিড়।

ফকিরাপুলের বাসিন্দা আহমেদুর রশীদ বলেন, অফিস আদালত খুলে গেছে। ঝুঁকি নিয়েই ঘর থেকে বের হয়েছি। ঘরে বসে থাকা সম্ভব না।

চায়ের দোকান থেকে শুরু প্রায় সব ধরণের দোকান খোলা দেখা গেছে এ শহরে। ফুটপাতে মানুষের ভিড়। খুলেছে বিভিন্ন দোকান। কাওরানবাজার, শান্তিনগর বাজার, হাতিরপুলের কাঁচাবাজারে মানুষের উপচেপড়া ভিড়। শাহজাহানপুর থেকে রিকশায় ধানমন্ডির একটি মার্কেটে যান ব্যবসায়ী রাকিব হাসান। তিনি জানান, জরুরি প্রয়োজনে বের হয়েছেন। তার ধারণা ছিলো রাস্তায় লোকজন কম হবে। কিন্তু বাসা থেকে বের হয়ে হতভম্ব হয়েছেন তিনি। যেনো আগের ব্যস্ত নগরীর চেহারায় ফিরেছে ঢাকা।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি সোহেল রানা বলেন, পুলিশর তৎপরতা কমেনি। সরকারি যেসব শর্ত রয়েছে তা মেনে, স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করেই সবাইকে চলতে হবে। এজন্য পুলিশ তৎপর বলে জানান তিনি।

রাস্তায় অবশ্য নিজস্ব সুরক্ষার কথা চিন্তা করে মাস্ক ব্যবহারে করে চলাচল করেছেন পথচারীরা। অনেককে আবার গ্লাভস পরিহিত অবস্থায়ও দেখা যায়। কিন্তু মাস্ক ছাড়াও কিছু মানুষকে চলাচল করতে দেখা যায়।

রাজধানীর সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালি এ তিনটি দূরপাল্লার বাস টার্মিনালেই সোমবারের চেয়ে যাত্রী ছিল কম। মহামারী, বাড়তি ভাড়া আর ঈদ পরবর্তী সময়কে এজন্য দায় দিচ্ছেন বাস সংশ্লিষ্টরা। এ অবস্থায় ভাড়া নির্ধারিত হয়েছে দরকষাকষিতে। ঢাকা কিংবা দূরপাল্লা সব বাসেই স্বাস্থ্যবিধি মোটামুটি মানতে দেখা গেছে। করোনাকালীন অতিরিক্ত ভাড়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি করেছেন বেশিরভাগ যাত্রী।

এদিকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে দেখা গেছে ট্রেনের যাত্রীদের। মঙ্গলবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে কমলাপুর থেকে চট্টগ্রাম ছেড়ে যায় সোনার বাংলা এক্সপ্রেস।

অপরদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-আরিচা, ঢাকা-ময়মনসিংহ-টাঙ্গাইল মহাসড়ক থেকে ঢাকার প্রবেশপথে যানজটই লক্ষ্য করা গেছে। ট্রাক লরি ছাড়াও লেগুনা, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যক্তিগত গাড়ির আধিক্য দেখা গেছে। ব্যক্তিগত গাড়ি ও সিএনজি অটোরিকশাসহ বেড়েছে রাজধানীর সড়কে। বিভিন্ন এলাকায় মানুষের ভিড় দেখা গেছে। অনেককেই হেঁটে কর্মস্থলে যেতে দেখা গেছে।

এছাড়া করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় যাত্রী কমছে বিমানে। ইতিমধ্যে ৬টি ফ্লাইটই বাতিল করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। যাত্রাপথে সামাজিক দূরত্ব নিয়ে যাত্রীদের অভিযোগ থাকলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানান কর্তৃপক্ষ।

তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এখন ঊর্ধ্বমুখী। বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। নমুনা পরীক্ষা বৃদ্ধি করায় শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আজ একদিনেই প্রায় তিন হাজার করে করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। মূলত সাধারণ ছুটি কার্যকর না হওয়া, পর্যায়ক্রমে ছুটির শর্ত শিথিল করা, গার্মেন্ট শ্রমিকদের ঢাকায় ফেরা ও ঢাকা থেকে ফেরত যাওয়া, ঈদ উপলক্ষে শপিং মল, বিপণিবিতান খুলে দেয়া, সাধারণ ছুটি পালনে সরকারি সংস্থাগুলোর নমনীয়তার কারণেই এখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। সাধারণ ছুটি তুলে দেয়ার পর করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়েছে কী না এর ফলাফল পাওয়া যাবে আরো ১৪ থেকে ২১ দিন পর।

করোনা সংক্রমণের উদ্বেগজনক পরিস্থিতে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, মানুষের অসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হলে জনস্বার্থে সরকার আবারো কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবে।

গত ৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। করোনা প্রতিরোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর দফায় দফায় ছুটি বাড়ানো হয়, যা গত ৩০ মে শেষ হয়। ৩১ মে সরকারি ও বেসরকারি অফিস খুলে দেয়া হয়েছে। গতকাল থেকে দেশব্যাপী গণপরিবহনও চালু হয়েছে। যদিও এর আগে সাধারণ ছুটির মধ্যেই গত ২৬ এপ্রিল পোশাক কারখানা খুলে দেয়া হয়। এর দুই সপ্তাহ পর থেকে দেশে করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকে, যা এখনও বাড়ছে।

দেশে আজ মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনাভাইরাসে ৭০৯ জন মারা গেছেন। একই সময়ে করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৫২ হাজার ৪৪৫ জন।

আমারসংবাদ/জেআই