শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০

২৬ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

যাহিন ইবনাত

জুন ০৩,২০২০, ০১:০৭

জুন ০৩,২০২০, ০১:১৬

করোনাভাইরাস

অবনতির দিকে ঝুঁকছে দেশ, ফের ছুটি-লকডাউন

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দেশে সর্বশেষ বুলেটিনে প্রায় ৩ হাজার মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। যা একদিনের পরিসংখ্যানে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ।

এছাড়া মারা গেছেন আরও ২৩ জন। সব মিলিয়ে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়ালো ৭০৯ জনে।

এদিকে করোনা রোধে গত ২ মাসের বেশি সময় ধরে স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো দেশ। এরপরেও কোনভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না করোনা পরিস্থিতি। দেশে ক্রমান্বয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। বলা চলে, দিনকে দিন অবনতির দিকে ঝুঁকছে দেশ।

এসবের মাঝে দীর্ঘ দুই মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গত ৩১ মে থেকে সীমিত আকারে স্বাভাবিক কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে। এমন অবনতি হতে থাকলে পুনরায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। এছাড়া আসবে লকডাউনের ঘোষণাও।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সূত্রটি বলছে, দেশের পরিস্থিতি এখন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। যথাসময়ে সরকার ব্যবস্থা নেবে। তবে দিনদিন যেভাবে করোনা রোগী বাড়ছে, এমন চলতে থাকলে আবারও সাধারণ ছুটি বাড়ানো হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের একজন মন্ত্রী বলেন, ১ জুন থেকে দেশের অবস্থা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাই। সংক্রমণের এই মাত্রা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকলে তিনিই পুনরায় সাধারণ ছুটির ঘোষণা দেবেন। এছাড়া লকডাউনও দেয়া হবে।

তবে এবারের ছুটি-লকডাউন কার্যকর করতে কঠোর পদক্ষেপও নেয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

এদিকে, করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুহার অনুযায়ী সারাদেশকে লাল, সবুজ ও হলুদ জোনে ভাগ করা হবে। বিষয়টি নিয়ে এরইমধ্যে কার্যক্রমও শুরু হয়ে গেছে।

এই প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিক আগেই জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় করোনার সংক্রমণ বেশি সেসব এলাকাকে লাল বা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। ওই এলাকার লোকদের বাইরে বের হওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে। বাইরে থেকেও রেড জোনে লোকদের প্রবেশ সীমিত করার উদ্যোগ নেবে সরকার।

আর যেসব এলাকায় করোনার সংক্রমণ কম, সেসব এলাকাকে হলুদ বা ইয়েলো জোন হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এসব এলাকার আক্রান্তদের ঘরবাড়ি লকডাউন করে সংক্রমণের বিস্তার ঠেকানো হবে।

আর যেসব এলাকায় এখনো করোনা রোগী পাওয়া যায়নি, সেসব এলাকায় যাতে বাইরের কেউ ঢুকতে না পারে, সে ব্যবস্থা করা হবে।

জাহিদ মালিক বলেন, এখনো জোন করা হয়নি। ঢাকা, নারায়াণগঞ্জ, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হয়েছে। যদি কোনো জোন রেড হয় সেগুলো রেড করা হবে। তবে কোন এলাকা কোন জোনে পড়বে তা নির্ধারণ করবেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, প্রতিদিন করোনার টেস্ট বাড়ছে, বাড়ছে রোগীর সংখ্যাও। এই প্রবণতা রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্যই প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ অনুযায়ী আমরা একটা পরিকল্পনা তৈরি করে দেবো।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে এ বিষয়ে নীতিগতভাবে আলোচনা হয়েছে। এ পরিকল্পনা সিটি কর্পোরেশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় মিলে বাস্তবায়ন করা হবে।

আমারসংবাদ/জেডআই