শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০

২০ আষাঢ় ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুন ৩০,২০২০, ১১:৫৭

জুন ৩০,২০২০, ১২:০৪

ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক যা বললেন

লঞ্চডুবি: ১৩ ঘণ্টা কীভাবে বেঁচেছিলেন সুমন?

রাজধানীর সদরঘাটের অদূরে সোমবার (২৯ জুন) সকালে ময়ূর-২ নামে বড় জাহাজের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড নামক একটি লঞ্চ। এরপর সেই লঞ্চের এক যাত্রী সুমন ব্যাপারীকে ১৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার করা হয়।

তার উদ্ধারের পর থেকে প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে বেঁচে ছিলেন সুমন?

মূলত পানির নিচে ডুব দিয়ে কোনো মানুষ এক মিনিট থেকে সর্বোচ্চ দেড় মিনিটের বেশি সময় থাকতে পারে না। এরপর অক্সিজেনের অভাবে তার মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদফতরের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন।

তাহলে সুমনের মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়াটাই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু বাঁচলেন কী করে?

রাত আনুমানিক ৯টা৩০ মিনিটে ডুবুরিরা যখন টিউবের মাধ্যমে লঞ্চটি ওপরে তোলার চেষ্টা করছিলেন এবং লঞ্চটির একাংশ ওপরে উঠে আসছিল ঠিক তখনই সুমন ব্যাপারী লঞ্চ থেকে বেরিয়ে আসেন।

তার উদ্ধারের ঘটনায় কেউ বলছেন, ‘রাখে আল্লাহ মারে কে?,’ কেউ বলছে, ‘নিশ্চয়ই এর পেছনে বৈজ্ঞানিক কোনো ব্যাখ্যা রয়েছে।’

সুমন ব্যাপারী কীভাবে বেঁচে থাকলেন এমন প্রশ্নের জবাবে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় মর্নিং বার্ড নামক ছোট্ট লঞ্চটি কয়েক সেকেন্ড সময়ের মধ্যে পানিতে তলিয়ে যায়।

লঞ্চটি পানির নিচে উল্টে যাওয়ায় বাতাস আটকে থাকে অর্থাৎ এয়ার পকেট তৈরি হয়। সম্ভবত সুমন ব্যাপারী যেখানে অবস্থান করছিলেন সেখানে পানি প্রবেশ করেনি তাই এয়ার পকেট থেকে অক্সিজেন নিয়েই তিনি বেঁচে ছিলেন। এটাই একমাত্র কারণ, এ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো কারণ নেই।

এদিকে সুমন ব্যাপারীকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। ডুবুরিরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে লাইফ জ্যাকেটে ঢেকে এবং শরীর মেসেজ করে তার শরীর গরম করার চেষ্টা করেন। এরপর ওই ব্যক্তি চোখ মেলে তাকান।

বর্তমানে সুমন ব্যাপারী পুরান ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি পেশায় একজন ফল ব্যবসায়ী এবং তার বাড়ি মুন্সিগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে।

আমারসংবাদ/জেডআই