মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০

১৯ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

আমার সংবাদ ডেস্ক

জুলাই ০৯,২০২০, ০৮:২৫

জুলাই ০৯,২০২০, ০৮:২৫

দেশেই করোনার ওষুধ উৎপাদন, দাম ৪০০ টাকা

দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় বিকন ফার্মাসিউটিক্যালসের ফ্যাভিপিরাভির ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে কার্যকর ফল পাওয়া গেছে। ঢাকায় আক্রান্তদের ওপর বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটি (বিএসএম) পরিচালিত পরীক্ষায় ৯৬ শতাংশ রোগী সেরে উঠেছেন।

বুধবার (৮ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে এ তথ্য জানান পরীক্ষায় নেতৃত্ব দেওয়া ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির। সেমিনারের আয়োজন করে ওষুধটির উৎপাদক বিকন ফার্মাসিউটিক্যালস। জাপানে অ্যাভিগান নামে পরিচিত এই ওষুধ গত এপ্রিলে দেশে নিয়ে আসে বিকন ফার্মা। ফ্যাভিপিরাভির জেনেরিক অনুসরণে বিকন ফার্মার উৎপাদিত ওষুধের নাম 'ফ্যাভিপিরা'।

সেমিনারে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলের (বিএমআরসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী।

অধ্যাপক আহমেদুল কবির বলেন, ঢাকার চারটি হাসপাতালে ৫০ জন কভিড-১৯ আক্রান্তের ওপর এই পরীক্ষা চালানো হয়। হাসপাতালগুলো হচ্ছে- কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, মহানগর জেনারেল হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল। আক্রান্তদের ওপর এই ওষুধ প্রয়োগ করার চার দিনের মাথায় ৪৮ শতাংশ এবং ১০ দিন শেষে ৯৬ শতাংশ রোগী করোনাভাইরাসমুক্ত হয়েছেন বা সেরে উঠেছেন।

পরীক্ষার সময় প্লাসিবা গ্রুপের (যাদের বিকল্প ওষুধ দেওয়া হয়) ক্ষেত্রে সেরে ওঠার এই হার ছিল চার দিনের মধ্যে শূন্য শতাংশ এবং ১০ দিনের মধ্যে ৫২ শতাংশ। এ ছাড়া বিকল্প ওষুধ গ্রহণকারীদের চেয়ে ফ্যাভিপিরা ওষুধে রোগীর ফুসফুসের কার্যক্ষমতার তিনগুণ উন্নতি হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে আগে থেকে জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং অন্তঃসত্ত্বা নারীদের এই ওষুধ দেওয়া হয়নি।

অধ্যাপক আহমেদুল কবির আরও জানান, ফ্যাভিপিরার ভালো দিক হলো- এ ওষুধ গ্রহণে রোগীর লিভার, কিডনি ও রক্তে শর্করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। যারা কভিড-১৯ পজিটিভ নন বা কোনো লক্ষণ নেই, তাদের এই ওষুধ গ্রহণে নিষেধ করেন অধ্যাপক কবির।

তিনি বলেন, ফ্যাভিপিরা তারাই সেবন করবেন যারা আরটিপিসিআর পরীক্ষায় করোনা পজিটিভ।

সেমিনারে জানানো হয়, বিকন ফার্মা উৎপাদিত প্রতিটি ফ্যাভিপিরা ট্যাবলেটের দাম ৪০০ টাকা। একজন রোগীকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসারে রোগের ধরনের ওপর ভিত্তি করে সাত থেকে দশ দিনের কোর্স কমপ্লিট করতে হবে।

অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, মাত্র ৫০ রোগীর ওপর গবেষণাকে এখনই চূড়ান্ত বলা যাবে না। আরও কয়েক হাজার রোগী এবং ঢাকার বাইরের আরও কয়েকটি হাসপাতালে রোগীদের ওপর এর প্রয়োগ করে পরীক্ষা করতে হবে। তবে যেহেতু এখন করোনার চিকিৎসায় কোনো ওষুধ নেই, তাই একেবারে প্রথম পর্যায় হিসেবে এ ওষুধ ব্যবহার করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন, এটা প্রতিরোধমূলক কোনো ওষুধ নয়, এ কারণে মুড়িমুড়কির মতো এ ওষুধ খাওয়া যাবে না। যতদিন ভ্যাকসিন না আসছে, ততদিন স্বাস্থ্যবিধি মেনেই চলতে হবে।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সভাপতি অধ্যাপক ড. বিল্লাল আলম বলেন, পরীক্ষায় করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় এই ওষুধ ব্যবহারে তারা সন্তুষ্ট। করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যসেবাদানকারীদের নিরলস প্রচেষ্টার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবদুর রহমান বলেন, পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে বাংলাদেশ গুণগত মানের ওষুধ তৈরি করছে।

আমারসংবাদ/জেআই