বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২০

১৭ আশ্বিন ১৪২৭

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সেপ্টেম্বর ১৫,২০২০, ০৩:৩৮

সেপ্টেম্বর ১৫,২০২০, ০৬:০৯

বন্ধ পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ শুরু

বন্ধ হয়ে যাওয়া পাটকল শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ শুরু করেছে সরকার। নারায়ণগঞ্জের করিম জুট মিলসের শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধের মাধ্যমে সকালে এ কার্যক্রমের সূচনা করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠানে ৩০ জন শ্রমিকের হাতে সঞ্চয়পত্র তুলে দেয়া হয়।

আগের ঘোষণা অনুযায়ী, অবসরে পাঠানো শ্রমিকদের মোট পাওনার ৫০ শতাংশ তাদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাবে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। আর বাকি ৫০ শতাংশ দেয়া হচ্ছে সঞ্চয়পত্র আকারে ।

সরকারি তথ্যে জানা যায়, করিম জুট মিলের অবসরপ্রাপ্ত ৬১২ জন ও অবসানকৃত ১ হাজার ৭৫৯ জনের মোট পাওনা যথাক্রমে ৩৪ এবং ১৯২ কোটি টাকা।

এছাড়া ২ হাজার ৬২৫ জন বদলি শ্রমিকের পাওনা ২৫ কোটি টাকার বেশি। মোট ২৫১ কোটি ৫৮লাখ টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে। বন্ধ ঘোষিত ২৫টি পাটকলের ১০ হাজারের বেশি শ্রমিকের পাওনা প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা।

৩ অর্থ বছরে শোধ করার কথা থাকলেও প্রধানমন্ত্রী বর্তমান অর্থবছরে পুরো টাকা, যা অর্ধেক নগদে ও বাকিটা সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে শোধ করার নির্দেশ দেন।

অবসায়নের আগে যেহেতু দুই মাসের নোটিস দেয়া হয়নি, সেহেতু ২০০৬ সালের শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের চলতি বছরের জুলাই এবং অগাস্ট মাসের মজুরি ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে।

ধারাবাহিকভাবে লোকসানে থাকা দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত ২৬টি পাটকল বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়। এসব পাটকলের প্রায় ২৫ হাজার কর্মচারীর চাকরি ‘গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের’ মাধ্যমে অবসায়নের সিদ্ধান্ত সরকারের তরফ থেকে জানানো হয় তার আগেই।

এসব পাটকলের ২৪ হাজার ৬০৯ জন স্থায়ী শ্রমিকদের পাওনা বাবদ প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা এবং ২০১৩ সালের পর থেকে অবসরে যাওয়া ১০ হাজার ১০৭ জন শ্রমিকের গ্রাচ্যুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড ও ছুটি নগদায়ন বাবদ পাওনা প্রায় ১ হাজার কোটি টাকাসহ মোট প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা পর্যায়ক্রমে তিন অর্থবছরে পরিশোধের প্রস্তাব করা হয়েছিল শুরুতে।

বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী অনুষ্ঠানে বলেন, “আমরা পিপিপিতে যাব নাকি জিটুজিতে যাব এ নিয়ে অনেকগুলো মিটিং করেছি। বেশিরভাগ আছেন, যারা মিল চালান, তারা লিজ পদ্ধতিতে মিল পরিচালনার পরিকল্পনা করছেন। আমরাও সেভাবে চিন্তাভাবনা করছি।

“এখন আমরা লিজ পদ্ধতিতে যেতে চেষ্টা করছি। কারণ এখন আধুনিক যুগে তৎকালীন ষাট সালের মেশিন দিয়ে চলে না। এখন লাভজনক প্রতিষ্ঠান করতে হলে নতুন মেশিন আনতে হবে। আধুনিকায়ন করতে হবে। কম বিদ্যুতে বেশি প্রোডাকশন করতে হবে। নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে আধুনিকায়ন করে মিলগুলো চালু করব।”

আমারসংবাদ/এআই