শনিবার ০৪ এপ্রিল ২০২০

২১ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

গবি প্রতিনিধি

মার্চ ১৯,২০২০, ০৪:১৬

মার্চ ১৯,২০২০, ০৪:১৬

শিক্ষার্থী নেই, শিক্ষক আছেন!

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষায় সরকার আগামী ৩১ মার্চ পর্যন্ত সারাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৬ মার্চ সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের (গবি) একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধের ঘোষণা দেয় প্রশাসন।

তবে প্রশাসন থেকে দেয়া বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ছুটি পাননি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ। বিজ্ঞপ্তিতে একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করলেও অন্যান্য সকল কার্যক্রম যথারীতি চালু রাখার কথা বলা হয়েছে। সে অনুযায়ী সকল শিক্ষার্থীরা ছুটি পেলেও ছুটি মেলেনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষকবৃন্দের। ফলে শিক্ষার্থীবিহীন ক্যাম্পাসে তারা অলস সময় পার করছেন।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে সরেজমিনে ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষকরা তাদের নির্ধারিত অফিস রুমে বসে আছেন। কেউ কেউ একাডেমিক কাজে ব্যস্ত, কেউবা আবার পত্রিকা কিংবা বই পড়ে অলস সময় পার করছেন। তবে দেশে করোনার প্রভাব বিস্তারে শিক্ষকদের মাঝে চিন্তার ছাপ লক্ষ্যণীয় ছিল। কিন্তু ছুটি না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে অফিস করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।

শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটির ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মো. নজরুল ইসলাম রলিফ বলেন, ‘আমরা শনিবার প্রশাসনের সাথে বিষয়টি নিয়ে কথা বলবো। শিক্ষকদের কেন এখনো ছুটি দেয়া হয়নি, সে ব্যাপারে তাদের যুক্তি জানতে চাইবো।’

সাম্প্রতিক সময়ে করোনাভাইরাস নিয়ে গবেষণা করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মাহবুবা খাঁতুন।

করোনার ভয়াবহতা এড়াতে শিক্ষকদের ছুটি দেয়া প্রয়োজন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'করোনার কারণে সারাবিশ্বে এখন ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে। কিন্তু এখনো ভাইরাসটির কোনো প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি। সুতরাং যদি দেশের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতির শঙ্কা না থাকে, তাহলে সকলকে নিরাপদে বাসায় অবস্থান করাই শ্রেয় বলে মনে করি। তবে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি পোষাতে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালানো যেতে পারে।'

সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, 'আমরা সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করছি। সরকার প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা বললেও অফিস বন্ধের ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এ বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা পেলেই শিক্ষকেরা ছুটি পাবেন।'

আমারসংবাদ/কেএস