মঙ্গলবার ০৭ এপ্রিল ২০২০

২৩ চৈত্র ১৪২৬

ই-পেপার

নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্চ ২৩,২০২০, ১০:৩০

মার্চ ২৩,২০২০, ১০:৩০

বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজেরর হাহাকার

হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা কলেজে

দেশে করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। সুপারশপ, ফার্মেসি কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না এ জীবানু ধ্বংসকারী বস্তুটি।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও তার হল বন্ধ হলেও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের স্ব স্ব কর্মস্থলে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

এমতাবস্থায় ঢাকা কলেজের প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের হ্যান্ড স্যানিটাইজার নিশ্চিত করতে কলেজের রসায়ন বিভাগ এসব পণ্য তৈরি শুরু করেছে।
হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা কলেজের রসায়ন বিভাগ।

রোববার (২৩ মার্চ) কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক লায়লা মুস্তারীনের নেতৃত্বে রসায়ন বিভাগের পরীক্ষাগারে নিজস্ব অর্থায়নে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

স্যানিটাইজার তৈরীর প্রাথমিক পর্যায়ে গতকাল পরীক্ষামূলকভাবে বেশ কয়েকটি বোতলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বোতলজাত করা হয়।

সোমবার (২৩ মার্চ) থেকে একদিন পরপর চাহিদার আলোকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রস্তুত করা হবে। যা কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারী এবং আশেপাশের সাধারণ মানুষের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

রসায়ন বিভাগের প্রভাষক আসলাম হুসাইন জানান, চলমান সংকটময় মুহূর্তে দায়িত্বানুভূতির জায়গা থেকে রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক লায়লা মুস্তারীনের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি দলের দীর্ঘ প্রচেষ্টায় জীবাণুনাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রস্তুত করতে কাজ করা হয়।

এছাড়াও উক্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী, কলেজ প্রশাসন এবং কিছু শিক্ষার্থী সার্বিক সহায়তা করেন বলেও জানান তিনি।

কলেজের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক লায়লা মুস্তারীন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার উৎপাদন করা আমাদের দায়িত্বের একটি অংশ।

আমরা আপাতত স্বল্প পরিসরে এটা করেছি। কলেজ বন্ধ থাকায় যেহেতু শিক্ষার্থীরা নেই তাই আপাতত শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আশেপাশের সাধারণ মানুষদের মাঝে বিনামূল্যে এই স্যানিটাইজার বিতরণ করা হবে।

ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, বাজারে হ্যান্ড স্যানিটাইজার পাওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ছাত্রাবাস বন্ধ হলেও কলেজের প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রয়েছে।

এমতাবস্থায় প্রায় দেড় হাজার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ভাইরাসের হাত থেকে সুরক্ষিত রাখতে হ্যান্ড স্যানিটাইজার প্রয়োজন।  এটা উপলব্ধি করে রসায়ন বিভাগকে হ্যান্ড স্যানিটাইজার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। কিন্তু কাচামালের দাম কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

তিনি বলেন, কলেজের এই উদ্যোগে সহায়তা পাওয়া গেলে আশপাশের মানুষের জন্য আরো বেশি বেশি বানাতে পারতাম। কারণ আমাদের তো পর্যাপ্ত ফান্ডিং নেই।

স্যানিটাইজার প্রস্তুতকারী দলের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বি.এম মুহিবুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, সহযোগী অধ্যাপক শাহীন আফরোজ, সহকারী অধ্যাপক মোঃ আব্দুল হামিদ, সহকারী অধ্যাপক ডক্টর নাজমুল কবীর চৌধুরী, সহকারী অধ্যাপক নকুল চন্দ্র পাল, প্রভাষক আসলাম হোসেন, প্রভাষক মাহমুদুল হাসান এবং প্রভাষক ত্রিনাথ সিংহ।

আমারসংবাদ/এআই