মঙ্গলবার ০৪ আগস্ট ২০২০

২০ শ্রাবণ ১৪২৭

ই-পেপার

ইসলাম রকিব, চুয়াডাঙ্গা

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই ২৮,২০২০, ০১:৩৫

জুলাই ২৮,২০২০, ০১:৩৫

আমার সংবাদকে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার

ধর্ম যার যার উৎসব সবার

এবাবের কুরবানি ও করোনা নিয়ে দৈনিক আমার সংবাদের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, এবারের কুরবানি ও করোনা আমার জীবনের একটি নতুন অভিজ্ঞতার নাম। বিশ্বব্যাপী করোনা যে দুর্যোগের সৃষ্টি করেছে তা মানিয়ে নিয়েই মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব এবার উদাপিত হতে যাচ্ছে। দুটিই কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত।

তবে দুটিই আলাদা এবং বিপরীতমুখী। এ পরিস্থিতিতে কোনোটিকেই অবহেলা করা চলবে না। সর্তক থেকে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনেই মহান সৃষ্টিকর্তার ধর্মীয় বিধান পালন করতে হবে।

একই সাথে আনন্দ এবং  বেদনার সহাবস্থান হওয়ায় এবারের পবিত্র ঈদুল আজহা অর্থাৎ কুরবানি আমার জীবনে নতুন অভিজ্ঞতার, নতুন মাত্রার জন্ম দিয়েছে। তবে সরকারি নির্দেশনা মেনে সারা বছর যেভাবে দায়িত্ব পালন করে থাকি তার চেয়ে বাড়তি সর্তকতাসহ এবাবের ঈদে আমার পুলিশ সদস্য ও আমাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পবিত্র ঈদ উদযাপন ও আনন্দ ভাগাভাগি হয়তো বিগত বছরের মতো হবে না। তবে ধর্মীয় উৎসব পালন জনগণের জন্য নির্বিঘ্ন এবং নিশ্চিন্ত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। থাকবে তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী।

এ ধরনের উৎসবে সাধারণত জনগণ গ্রামের বাড়িতে চলে যায় সেদিকে দৃষ্টি রেখেই শহরের অলিগলিতে  সাদা পোশাকে ও পোশাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সদা প্রস্তুত থাকবে। কোনো ধরনের অঘটন থেকে নিষ্কৃতি ও জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বাহিনীর সদস্যরা থাকবে ছায়ার মতো।

ঈদের দিন কিভাবে কাটাবেন এবং কাদের সাথে কাটাবেন এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার বলেন, করোনা সম্পর্কে জনসচেতনতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করার কাজ তো সবার আগে। ঈদের নামাজ আদায় শেষে এ জেলায় কর্মরত সকল পুলিশ সদস্যদের সাথে দিনটি অতিবাহিত করবো।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জেলা পুলিশের ঈদ ও কুরবানি উদযাপনে যে অর্থ দেয়া হয়েছে তা দিয়ে সকল পুলিশ সদস্যদের নিয়ে বড় খানার আয়োজন করা হবে, তাদের উপহার প্রদান এবং করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের ঈদ উদযাপনে পারিবারিকভাবে পাশে দাঁড়ানো, যারা করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন এবং চিকিৎসাধীন আছেন তাদের খোঁজখবর নেয়া।

যদিও ইচ্ছা ছিলো এবারের ঈদ উৎসবের আনন্দটি কোনো এতিম শিশুদের সাথে ভাগাভাগি করে নেবো কিন্তু এ দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে তা সম্ভব হবে না। এ জেলায় আমার ৩৫ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। ৩১ জন সুস্থ হয়েছেন এবং চারজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তাদের খোঁজখবর সবার আগে নেয়া হবে।

কুরবানি কি করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে জেলা পুলিশপ্রধান বলেন, এখানে আমি একা একা কোনো কুরবানি দেবো না। আমার নামে আমার গ্রামের বাড়ি মাগুরায় কুরবানি দেয়া হবে। চুয়াডাঙ্গায় সকল পুলিশ সদস্যদের সাথে নিয়ে গরু ও খাসি কুরবানি দেবো।

করোনাকালীন ঈদুল আজহা উদযাপনে জেলাবাসীর প্রতি আপনার ম্যাসেজ কি— এ প্রশ্নের জবাবে মানবিক পুলিশ সুপার বলেন, আমি চাই আমার জেলার একটি মানুষও যেনো পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। আমি বিশ্বাস করি ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’।

একই সাথে জেলাবাসীকে বলবো, বৈশ্বিক এ দুর্দিনে আপনিই আপনার পরিবারের সবাইর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। ঘন ঘন সাবান পানি দিয়ে হাত পরিষ্কার করুন, বাইরে গেলে মাস্ক ব্যবহার করুন, ভিড় ও জনসমাগম এড়িয়ে চলুন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন, লক্ষণ দেখা দিলে স্বাস্থ্য বিভাগের সাথে যোগাযোগ করুন ও হাসপাতালে আসুন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করুন, নিজে সতর্ক থাকুন পরিবারের সবাইকে সর্তক থাকতে সহায়তা করুন এবং শিশু ও বয়স্কদের সাথে মানবিক আচরণ করুন।

আমারসংবাদ/এসটিএম