রবিবার ২৮ নভেম্বর ২০২১

১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

ই-পেপার

প্রিন্ট সংস্করণ॥মু. নজরুল ইসলাম তামিজী

জানুয়ারি ০৮,২০২০, ১২:২৫

ফেব্রুয়ারি ০৯,২০২০, ১০:০৯

শিশুসাহিত্য ও দাদুভাই

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্র্র্র্রথম “শিশুসাহিত্য” শব্দটি ব্যবহার করেন। ‘ছড়াসাহিত্য’ শব্দটি প্রথম ব্যবহার করেন রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী । ১৩০১ বঙ্গাব্দে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার ‘মেয়েলি ছড়া’ প্রবন্ধে ‘শিশুসাহিত্য’ শব্দটি ব্যবহার করেন। পাঁচ বছর পর ১৩০৬ বঙ্গাব্দে যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ‘খুকুমণির ছড়া’ সংকলনের ভূমিকায় ‘ছড়াসাহিত্য’ ও ‘শিশুসাহিত্য’ শব্দ দু’টি উল্লেখ করেছেন রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী। ছোটদের জন্য লেখা সাহিত্যই ‘শিশুসাহিত্য’। ড. মহুয়া ভট্টাচার্য গোস্বামী তার ‘শিশু-কিশোর সাহিত্যের স্বরূপ-সংজ্ঞা’ প্রবন্ধে লিখেছেন, প্রকৃতপ্র্র্রক্ষে শিশু ও কিশোর মনের জগৎ আলাদা। তাদের জন্য লেখা সাহিত্যের জগৎও স্বতন্ত্র’। হরেন ঘটক বলেছেন, ‘শুধু তাকে আনন্দ দেওয়াই নয়, শিশু সাহিত্যের মাধ্যমে শিশুকে জ্ঞান-বিজ্ঞান-ইতিহাস এবং বিশ্ব-প্র্রকৃতিকে জানবার আগ্রহী করে তোলার উদ্দেশ্যও এতে বর্তমান’। সুখলতা রাও-এর মতে ‘শিশু সাহিত্যে’র ভিতর দিয়ে শিশুর সরল মনে যে ছবি, যে-শিক্ষা, যে-আদর্শ পৌঁছায়, তা তাহার অজ্ঞাতসারে সেখানে নিজের ছাপ রাখিয়া যায় এবং ভবিষ্যতে তাহার শিক্ষা দীক্ষা, এমনকি রুচির উপরে প্রভাব বিস্তার করে প্রাবন্ধিক অজিত দত্ত বলেছেন, ‘আমাদের সকলেরই আজ উপলব্ধি করা দরকার যে, শিশুর শিক্ষা ও শিশুর সাহিত্যকে অভিন্ন করে না পারলে, শিক্ষাও হবে অসম্পূর্ণ এবং সাহিত্যও হবে পঙ্গু।’ মদনমোহন তর্কালঙ্কার ১৮৪৯ সালে ‘শিশু শিক্ষা’ গ্রন্থমালা রচনা করেন। পাখি সব করে রব রাতি পোহাইল’ এই লাইনটি ‘শিশু শিক্ষা’ প্রথম ভাগ প্রভাতবর্ণন নামে চিরকালের শিশু কবিতার অংশ। নারায়ন গঙ্গোপাধ্যায় বলেছেন, ‘শিশুসাহিত্য আনন্দের আশ্রয়ে চরিত্রগঠন ও শুভবুদ্ধির সঞ্চার মাতৃস্নেহ, পিতৃনিয়ন্ত্রণ এবং খেলার সাথীর সাহচর্য- এই তিনটির উপরেই নির্ভর করে।’ শিশুসাহিত্য পড়ে ছোটরা মজা প্র্র্রায়, আনন্দ পায়, পরিতৃপ্ত হয়। তাকে তারা সহজেই অন্তর দিয়ে গ্রহণ করে নেয়। ছোটদের চঞ্চল, কল্পনাপ্রবণ ও জিজ্ঞাসু মনকে অনুষঙ্গ করে সাহিত্য রচনা করেন শিশুসাহিত্যিক। হাসি, কৌতুক, মজা বা আনন্দ গ্রহণের অন্তরালে ছোটরা অনায়াসে পেয়ে যায় জাগতিক জ্ঞান, বুদ্ধি-যুক্তি ও চিন্তার উপাদান। শিশুসাহিত্যেও উল্লিখিত আলোচনার পথ ধরে শিশুদের মনে বিশুদ্ধ আনন্দরস সঞ্চারের জন্য বাংলাদেশে যারা শিশুসাহিত্য রচনা করে আসছেন তারা হলেন : সুকুমার বড়ুয়া, রফিকুল হক দাদুভাই, আখতার হুসেন, সিরাজুল ফরিদ, আমিরুল ইসলাম, মাহমুদ উল্লাহ, আনজীর লিটন, আসলাম সানী, ফারুক নওয়াজ, রহীম শাহ, রাশেদ রৌফ প্র্র্র্রমুখ। আশা গঙ্গোপাধ্যায়ও ‘শিশুসাহিত্যের স্বরূপ’ প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন, ‘যথার্থ শিশু সাহিত্য’ বলিতে তাহাই বুঝিব, যাহা সর্ব্ব বয়সের নরনারীর কাছেই একটি রসাস্বাদ আনিয়া দেয়, বয়সের পার্থক্য অনুসারে আস্বাদনের ব্যাপারে কিছু ভিন্নতা ঘটিতে পারে- কিন্তু সর্বস্তরের মানুষকে আনন্দ দান করিবার মতো শিল্পগুণ তাহাতে থাকিবেই।’ বুদ্ধদেব বসু বলেছেন, ‘এমন মত পোষণ করা সম্ভব যে শিশুসাহিত্য স্বতন্ত্র কোনো পদার্থ নয়, কেননা তা সত্যিকার সাহিত্য হলে বড়রাও তাতে আনন্দ পান’। শুধু শিশুসাহিত্য রচনার বড় একটি গুণ হলো সহজ ও সরল রচনারীতি। রবীন্দ্রনাথ বলেছেন : ‘সহজ কথায় লিখতে আমায় কহ যে/সহজ কথা যায় না লেখা সহজে’। শিশুসাহিত্য রচনার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো সহজ ও আকর্ষণীয় করা। কেননা, সহজ সরল না হলে ছোটদের বুঝতে কষ্ট হবে, আর আকর্ষণীয় না হলে পড়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ জন্মাবে না। ছোটদের মনে কৌতুহল সঞ্চার করা এবং তাদের নরম, কোমল ও আনন্দময় মনকে উজ্জীবিত করার জন্য সহজ ও আকর্ষণীয় রচনার বিকল্প নেই। কামিনী রায় বলেছেন, ‘কুসাহিত্য, কু-দৃশ্য মানুষের রুচিকে বিকৃত করে। সাহিত্য যখন ভবিষ্যৎ সমাজের জীবনকে গঠন করে তখন এরূপ কুসাহিত্যিকে উৎসাহ না দেয়াই উচিত। যাহা সুন্দর, যাহা আনন্দদায়ক, যাহা জীবনকে ঊর্ধ্বমুখ করে, তাহাই আর্ট।’ আমাদের দরকার তেমন মানসম্মত বই, যা ছোটদের জীবনকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। সত্যজিৎ রায়ের মতে: ‘লে-আউট, ছাপা, ছবি যেমন সুন্দর হওয়া দরকার, তেমনি এর লেখাগুলোও হবে শিশু-কিশোর মনের উপযোগী।’ এ হলো শিশুসাহিত্য বিষয়ক আমার অতি-সংক্ষিপ্ত পাঠ। শিশুসাহিত্যে বাংলাদেশ বর্তমানে সমৃদ্ধ। তরুণদের মধ্যে অনেকেই শিশু-সাহিত্য রচনায় নিয়োজিত আছেন। তারা হলেন তৌহিদুল ইসলাম কনক, নজরুল ইসলাম শান্ত, মতিউর রহমান মনির, এস এ শামীম, শ.ম. শামসুল আলম, মালেক মাহমুদ প্র্র্র্রমুখ। আমার এ লেখার প্র্র্র্রসঙ্গ প্র্র্র্রধানত সমকালীন বাংলা ছড়া সাহিত্যের জীবন্ত কিংবদন্তি শিশুসাহিত্যিক ও শিশুসংগঠক রফিকুল হক। তিনি ‘দাদুভাই’ নামেই বেশি পরিচিত। জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন চাঁদের হাটের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি স্বনামধন্য গীতিকার ও নাট্যকারও। টেলিভিশন ও বেতার মাধ্যমে তার লেখা অসংখ্য বড়দের নাটক ও শিশুতোষ গান জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। আবদুল আলীমের কণ্ঠে তার লেখা গান ‘নাইয়ারে নায়ের বাদাম তুইলা, কোন দূরে যাও চইলা’ আজও সাধারণ মানুষের প্রিয় গান। স্বাধীন বাংলাদেশে বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম ধারাবাহিক নাটক ‘নতুন বাড়ি’র রচয়িতা। বিটিভিতে প্রচারিত ছোটদের প্রিয় সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘অঙ্কুর’-এর রচয়িতা ও পরিচালক। তার জন্ম ৮ জানুয়ারি ১৯৩৭। পিতা ইয়াছিন উদ্দিন আহম্মদ, মাতা রহিমা খাতুন। পৈতৃক নিবাস রংপুর শহরের কামালকাচনায়। দাদুভাই দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত আছেন। উপমহাদেশে শিশু-কিশোরদের প্রথম সংবাদপত্র “কিশোর বাংলা” তার সম্পাদনায় ঢাকা থেকে দীর্ঘদিন প্রকাশিত হয়। দাদুভাইয়ের ৮০তম জন্মদিনের অনুষ্ঠানে সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘রফিকুল হক শুধু বাংলাদেশের সফল ছড়াকারই নন, সফল শিশু সংগঠন তৈরিতে তিনি বৃক্ষের মতো। হাজার হাজার শিশুর প্রতিভা বিকাশে তিনি অসাধারণ ভূমিকা রেখেছেন। অর্ধশতক ধরে রফিকুল হক চাঁদের হাট পরিচালনা করে যাচ্ছেন। সেখানকার বহু শিশু আজ প্রতিষ্ঠিত। আমি বিশ্বাস করি, তার ছোঁয়া যারা পেয়েছে, তারা কখনো খারাপ মানুষ হতে পারে না। তাদের কেউ দুর্নীতি করতে পারে না। নারীর প্রতি সহিংস হতে পারে না। আসাদুজ্জামান নূর বলেন, ‘শিশু সংগঠনগুলো শিশুদের মানসিক বিকাশে, চেতনা জাগ্রত করতে এক সময় শিকড় পুঁতেছিল। এ চেতনা থেকেই এক সময় আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছিলাম। মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, ‘গত ৫০ বছরের মধ্যে যদি শিল্পসমৃদ্ধ সমাজ সচেতনতা নিয়ে কেউ ছড়া রচনা করে থাকেন, তিনি রফিকুল হক দাদুভাই। বাংলা ভাষা যত দিন থাকবে, তত দিন দাদুভাই থাকবেন। ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘দাদুভাই না থাকলে ইমদাদুল হক মিলন নামে কোনো লেখকের জন্ম হতো না। তিনি চির নবীন বিস্ময়কর এক মানুষ। অনেকগুলো আলোকস্তম্ভ তিনি তৈরি করেছেন। চাঁদের হাট না থাকলে সেটা সম্ভব হতো না।’ অমর একুশের গানের স্ট্রষ্টা আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী দাদুভাইয়ের সাথে প্র্রথম পরিচয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘ষাটের দশকের গোড়ার দিকে ওর সঙ্গে আমার পরিচয়। সে সময়টায় আইয়ুব খানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে গণজাগরণের উন্মেষ ঘটছে। এখানকার প্রগতিশীল তরুণ কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যেও তার ঢেউ এসে লাগে। এসময় আমরা, ঢাকার তখনকার কবি-সাহিত্যিকরা বিউটি বোর্ডিংয়ে আড্ডা দিতাম। এ বিউটি বোর্ডিং-এ ছিল এক সময় সাপ্তাহিক “সোনার বাংলা” নামে একটি বিখ্যাত সাহিত্য সাময়িকীর অফিস। সম্পাদক ছিলেন নলিনী কিশোর গুহ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘সোনার বাংলা’ নাম দিয়েছিলেন পত্রিকাটির। আমার বেশ মনে আছে, কবি শামসুর রাহমানের কবিতা এই পত্রিকাটিতে প্র্র্রথম প্রকাশিত হয়। এ সোনার বাংলা অফিসটি ছিল তখনকার কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডাখানা। ১৯৫০ সাল পর্যন্ত ‘সোনার বাংলা’ প্রকাশিত হয়। ... পঞ্চাশের দশক থেকেই বিউটি বোর্ডিং হয়ে ওঠে কবি-সাহিত্যিকদের আড্ডার মোক্ষম স্থান। শামসুর রাহমান, শহীদ কাদরী, হাসান হাফিজুর রহমান, সৈয়দ শামসুল হক, আল মাহমুদ, বেলাল চৌধুরী, ফজল শাহাবুদ্দিন, দিলওয়ার, শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী, মহিউদ্দিন আহমদ, জহির রায়হান, শহীদুল্লাহ কায়সার, খালেদ চৌধুরীসহ আরও অনেক কবি, সাহিত্যিক ও শিল্পী বিউটি বোর্ডিংয়ের আড্ডায় নিয়মিত আসতেন। আমিও এ আড্ডায় যেতাম। মূল ভবনের নিচতলায় একটা রেস্টুরেন্ট ছিল। সেখানেই আড্ডাটা জমতো। এক কাপ ধূমায়িত চায়ের সঙ্গে ঘণ্টার প্র্র্রর ঘণ্টা রাজা-উজির বধ। দেশ-বিদেশের সাহিত্য আর কবিতা নিয়ে তুমুল আলোচনা চলতো। অনেক সিগারেট পুড়ত। কাপের পর কাপ চা শেষ হতো। সব আলোচনা এবং গল্পগুজবের মধ্যে যে বিষয়টি সবসময় প্র্র্রাধান্য পেত, সেটা ছিল একুশের চেতনা আর বাঙালি জাতীয়তাবাদের অঙ্কুরিত আদর্শ। এখানেই রফিকুল হকের সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়।’ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদের চেতনায় উজ্জীবিত এ কলমসৈনিক স্বাধিকার আন্দোলন ও স্বাধীনতা সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে সক্রিয় ও তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখেন তিনি। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে বাংলাদেশে প্র্র্রথম ছড়া লেখার কৃতিত্বের অধিকারী তিনি। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানি কারাগার থেকে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে প্রত্যাবর্তনের পর কিছুদিনের মধ্যেই গুরুতর অসুস্থ হন। সুচিকিৎসার জন্য লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রায় এক মাস চিকিৎসা নিয়ে আরোগ্যলাভের পর ১৪ সেপ্টেম্বর দেশে ফেরেন। বঙ্গবন্ধুর দেশে ফেরা উপলক্ষে পূর্বদেশ একটি বিশেষ সংখ্যা বের করে, যার নামকরণ হয় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে লেখা দাদুভাইয়ের একটি ছড়ার শিরোনাম দিয়ে। ছড়াটি পূর্বদেশের বিশেষ সংখ্যার প্রচ্ছদে ছাপা হয়। ‘ঘরে ফিরা আইসো বন্ধু/পাইতা থুইছি পিঁড়া/জলপান যে করতে দেব/ইরি ধানের চিঁড়া/শালি ধানের চিড়া ছিল/বিন্নি ধানের খই/কোথায় পাবো শবরীকলা/গামছা বাঁধা দই!/জান মেরেছে খান পশুরা/বর্গী সেজে ফের/আগুন জ্বেলে খাক করেছে/দেশটা আমাদের। প্র্রাণের বন্ধু ঘরে আইলা/বসতে দিমু কিসে;/বুকের মধ্যে তোমার বাণী/রক্তে আছে মিশে। বঙ্গবন্ধু তোমার আসন/বাংলাদেশের মাটি/মনের মধ্যে পাতা আছে/প্রীতির শীতলপাটি। এ পঙক্তিটি গ্রামীণ ছড়ার আদলে গড়ে ওঠা সমকালীন স্বরের দোলা বলে আমার অতি ক্ষুদ্র বোধ। দাদুভাইয়ের ছড়া গ্রন্থগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য : পান্তাভাতে ঘি, বর্গি এলো দেশে, নেবুর পাতা করমচা, আম পাতা জোড়া জোড়া, সমকালীন ছড়া ইত্যাদি। নাটক ‘বইবই হইচই’ ও রূপকথার গল্প ‘প্রাচীন বাংলার রূপকথা’ বিশেষভাবে আলোচিত। বাংলা শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপ্র্র্রূর্ণ অবদানের জন্য তিনি ২০০৯ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ফেলোশিপ, ২০০৫ সালে ভারতে বিহারের রাজধানী পাটনায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ‘স্ক্রোল অব অনার’, ২০০৬ সালে প্র্র্রশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে অনুষ্ঠিত নিখিল ভারত শিশুসাহিত্য সম্মেলনে বিশেষ সম্মাননা, ১৪০৫ বঙ্গাব্দে অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার, সম্মাননা ও ফেলোশিপে ভূষিত হন। ৮ জানুয়ারি ২০২০ জাঁকজমকভাবে দাদুভাইয়ের ৮৪তম জন্মদিনের উৎসব পালিত হবে। কবি সংসদ বাংলাদেশ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। কবি সংসদ বাংলাদেশ কাব্য সংগঠনটির প্র্র্র্রতিষ্ঠাতা এগারোজনের একজন হিসেবে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম কনককে এ উদ্যোগের জন্য সম্মান জানাচ্ছি। একইসঙ্গে এ লেখার মধ্য দিয়ে জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটি ও জাতীয় লেখক ফাউন্ডেশন রফিকুল হক দাদুভাইকে আবারও শ্রদ্ধা জানাচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় শিশুকিশোরদের উদ্বুদ্ধকরণে তার রচনা মূল্যবান অধ্যায় হবে — এ আমার বিশ্বাস। লেখক : শিক্ষাবিদ ও সমাজ গবেষক। চেয়ারম্যান, জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটি, প্র্র্র্রেসিডেন্ট, ঢাবি সোস্যাল থিংকিং রিচার্স সেন্টার। আমারসংবাদ/এমএআই